মদনটাক
প্রকৃতির অসংখ্য বিস্ময়ের মধ্যে পাখির জগৎ সত্যিই অসাধারণ। বিভিন্ন রঙ, আকার ও স্বভাবের পাখি আমাদের মুগ্ধ করে। চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়ে এমনই এক অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় পাখির দেখা পেয়েছিলাম, যাকে বাংলায় আমরা মদনটাক নামে চিনি। মদনটাক পাখিটিকে প্রথম দেখাতেই সবথেকে আকর্ষণীয় লেগেছিল, তার অদ্ভুত গঠন এবং লম্বা দেহের জন্য। এই পাখির দেহ বেশ বড়, লম্বা পা এবং অত্যন্ত লম্বা ঠোঁট তাকে অন্য পাখিদের থেকে আলাদা করে তোলে। গলা ও মাথার কিছু অংশে পালক নেই, যা দেখতে একটু অদ্ভুত লাগলেও এটিই তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়, তার শরীরের রঙ মূলত ধূসর ও সাদা মিশ্রিত। চিড়িয়াখানার নিরিবিলি একটি কোণায় দাঁড়িয়ে ছিল পাখিটি।
এই পাখিটি মাঝে মাঝে তার লম্বা গলা একটু উঁচু করে চারপাশে তাকাচ্ছিল। এমন পাখি কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব একটা মেলে না। মদনটাক মূলত বড় আকারের সারসজাতীয় পাখি। দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এদের দেখা যায়। বিশেষ করে ভারত ও আসামের কিছু এলাকায় এই পাখি বেশি দেখা যায়। সাধারণত জলাভূমি, নদীর ধারে বা খোলা মাঠের আশেপাশে এরা বসবাস করতে পছন্দ করে। এই পাখির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- এরা প্রকৃতি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করে। মদনটাক প্রায়ই মৃত প্রাণী বা আবর্জনা খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাদের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এই পাখির সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। বনভূমি নষ্ট হওয়া, জলাভূমি কমে যাওয়া এবং নানা কারণে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।



