সচেতনতা আর পরিকল্পনাই পারে নদী ভাঙন থামাতে
আমি @riyadx2 বাংলাদেশ থেকে
মঙ্গলবার, ০৭ ই অক্টোবর ২০২৫ ইং
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি নদীমাতৃক। অসংখ্য নদ-নদীর জালের মতো ছড়িয়ে থাকা এই দেশে নদী শুধু পানি নয়, নদী মানে জীবন, নদী মানে কৃষি, নদী মানে সভ্যতা। কিন্তু এই নদীই কখনো কখনো রূপ নেয় নির্মমতার প্রতীক হিসেবে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদী ভাঙন শুরু হয় কেউ হারায় তার ঘরবাড়ি, কেউ হারায় চাষের জমি, কেউ হারায় জীবনের স্মৃতি। নদী ভাঙন যেন এক অদৃশ্য আতঙ্ক, যা গ্রাস করে ফেলে বহু মানুষের সুখ-স্বপ্ন আর নিরাপত্তা।নদী ভাঙনের মূল কারণ বহু দিক থেকে এসেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, নদীর স্বাভাবিক গতিপথে বাঁধ নির্মাণ, অতিরিক্ত বালু উত্তোলন, নদী দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা সব মিলেই নদীর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। নদী যখন তার প্রাকৃতিক প্রবাহ হারায়, তখন সে নতুন রাস্তা খোঁজে। আর সেই নতুন রাস্তা তৈরির পথে ভেঙে যায় তীরের ঘরবাড়ি, জমি ও মানুষের অস্তিত্ব। নদী কখনো রাগ করে না, কিন্তু আমরা মানুষই তাকে রাগিয়ে তুলি আমাদের ভুল কাজের মাধ্যমে।নদী ভাঙন রোধের ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তিগত সমাধান নয়, প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
শুধু বাঁধ নির্মাণ করে নদীর ভাঙন থামানো সম্ভব নয়; কারণ বাঁধের একদিকে যদি বালু জমে, অন্যদিকে স্রোতের চাপ বেড়ে আবার ভাঙন শুরু হয়। তাই প্রথমে প্রয়োজন নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ নিশ্চিত করা। নদী শাসনের পরিকল্পনা করতে হবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে যেখানে নদীর আচরণ, প্রবাহ, গভীরতা এবং আশেপাশের ভৌগোলিক গঠন বিবেচনায় নেওয়া হবে।সচেতনতা হলো নদী ভাঙন রোধের প্রথম ধাপ। স্থানীয় জনগণকে বুঝতে হবে নদী দখল, অতিরিক্ত বালু উত্তোলন বা অপরিকল্পিত বাড়ি নির্মাণ তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
যদি মানুষ নিজেরাই সচেতন না হয়, তবে কোনো প্রকল্প বা পরিকল্পনাই সফল হবে না। স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকেই নদী সংরক্ষণ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও, সাংবাদিক, শিক্ষক সবাই মিলে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে নদী রক্ষার জন্য।অন্যদিকে, সরকারের ভূমিকা হতে হবে আরও শক্তিশালী ও বাস্তবভিত্তিক। নদী খনন, বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ, নদীর তীরবর্তী বনায়ন, ও বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
যারা নদী দখল করে বা নদীর ক্ষতি করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একসাথে কাজ করলে, নদী ভাঙনের ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।ভাঙন শুধু মাটি কেড়ে নেয় না, ভাঙন কেড়ে নেয় মানুষের ইতিহাস, সংস্কৃতি আর সম্পর্ক। কিন্তু যদি আমরা এখনই সচেতন হই, পরিকল্পনা গ্রহণ করি এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যাই, তবে একদিন এই ভাঙন থামানো সম্ভব। নদীকে বাঁচাতে হলে আমাদের ভালোবাসা, যত্ন এবং দায়িত্ববোধ দিয়ে তার পাশে দাঁড়াতে হবে।
শেষ পর্যন্ত, নদী ভাঙন প্রতিরোধ মানে শুধু জমি রক্ষা নয় এটা মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই, এটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সংগ্রাম। তাই এখনই সময় এসেছে একসাথে বলার নদী বাঁচলে, বাঁচবে মানুষ; সচেতনতা আর পরিকল্পনাই পারে নদী ভাঙন থামাতে।
| Device | iPhone 11 |
|---|---|
| Camera | 11+11 MP |
| County | Bangladesh |
| Location | Rangpur, Bangladesh |
Vote@bangla.witness as witness




