'হৃদয়ের স্পন্দন'গল্প পর্ব:৬
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে হৃদয়ের স্পন্দন গল্পের ষষ্ঠ পর্বটি শুরু করছি। আশা করি, গল্পের ষষ্ঠ পর্বটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।
কর্মচারীটি রকির কাছে এসে বলে, স্যার এই সেই ম্যাডাম।যে আপনাকে এই রেস্টুরেন্টে এসে খুঁজে থাকে। রকি তখন সামনের দিকে তাকিয়ে দেখে দুটি সুন্দরী মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার ভিতর একটি মেয়েকে তার খুব চেনা চেনা লাগছিল। সে মনে মনে ভাবছিল কোথাও যেন দেখেছে তাকে। কিন্তু সে মনে করতে পারে না। আর মনে পড়বেই বা কেমন করে পূজাকে সে প্রথম দীঘা সমুদ্রের জলে ডুবে যাওয়া হাত থেকে বাঁচায়। সে তো অনেক দিনেরই কথা। রকি পূজার দিকে তাকিয়ে থাকে অবাক চোখে। তখন পাশ থেকে রিমি বলে উঠলো, শুধু কি তাকিয়ে থাকবেন আমাদের বসতে বলবেন না। রকি হাসতে হাসতে বলে, সরি আমি ভুলেই গেছিলাম প্লিজ আপনারা বসুন। এরপর পূজা ও রিমি দুজনে বসে। রকি বলে, এবার বলুন তো আমাকে আপনারা খুঁজছেন কেন? রিমি তখন রকিকে বলে, সেসব কথা বলছি পরে আগে কিছু অর্ডার করুন খুব ক্ষুধা লেগেছে খেতে খেতে না হয় কথা বলি। পূজা যখন রিমিকে ধমক দিয়ে বলে, কি হচ্ছে কি? চুপ করে বসতো। রকি মুচকি হেসে বলে, আরে আপনি রাগ কেন করছেন ও তো ঠিক কথা বলেছে। খালি পেটে কি কথা জমে। রকি রিমিকে বলে, কি খাবেন বলুন?
পূজা তখন বলে, আরে এসবের কিছু দরকার নেই। ও মজা করছে। রিমি বলে, আমি একেবারে মজা করছি না। আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে তোর খেতে না চাইলে তুই খাস না কিন্তু আমি খাব। পূজা বলে, এমন করলে আমি কিন্তু এখান থেকে চলে যাব। উনি কি ভাবছে বলতো। রকি হাসতে হাসতে বলে, আরে আমি কিছু মনে করছি না। আমার তো আরো ভালো লাগছে। আর এমনিতে অনেক সময় বসে আছি আমারও ক্ষুদা লেগেছে। এরপর রকি আবার বলে আপনি অর্ডার করুন তো। এরপর রিমি কিছু খাবার অর্ডার করে। খাবার অর্ডার শেষে রকি বলে, এবার বলুন তো আমাকে কেন খুঁজছিলেন? পূজা রকির কথায় কোন উত্তর দিল না চুপচাপ বসে রইল সে বুঝতে পারছিল না কোথা থেকে সে শুরু করবে। রকি তখন আবারও জিজ্ঞাসা করে কি হলো?চুপ করে বসে আছেন যে কিছু বলছেন না যে? রিমি তখন বলে রকিকে, ও আমার দিদি হয় আর আমার দিদি আপনাকে খুব ভালোবাসে। এই কথাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে রকি সোজা দাঁড়িয়ে পড়ে। রিমি হাসতে হাসতে রকিকে বলে, কি হলো আপনার? দাঁড়িয়ে পড়লেন যে? রকি বলে, না মানে কিছু না। আসলে হঠাৎ করে এই ভালোবাসার কথাটা শুনলাম তো তাই আর কি। রিমি হাসতে হাসতে বলে😄, এত অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমি আপনাকে প্রথম থেকে সব খুলে বলছি। কিন্তু তার আগে খাবারগুলো আসুক। আমার আবার খালি পেটে মাথা কাজ করে না।
রকি মুচকি হেসে বলে, হ্যাঁ তাই ভালো। আপনার মুখে এই কথাটা শুনে আমারও খুব ক্ষুধা লেগে গেছে 🙂। কিছুক্ষণ পর খাবারগুলো চলে এলো। রিমি খাওয়া শুরু করলো কিন্তু পূজা কিছু খাচ্ছিল না তখন রকি বলে, কি হয়েছে আপনার আপনি কিছু খাচ্ছেন না যে? তখন রিমি হাসতে হাসতে বলে, আমার দিদির খুব লজ্জা জানেন তো 😄 অপরিচিত মানুষের সামনে খেতে পারেনা 😄। পূজা রিমিকে বলে, এই তুই চুপচাপ খা তো সব সময় বেশি কথা বলিস। রিমি বলে, সত্যি কথা বললেই দোষ। রকি রিমিকে বলে, এবার তো একটু মাথা ঠান্ডা হয়েছে? রিমি বলে, হ্যাঁ। রকি বলে, তাহলে এবার একটু সব কথা খুলে বলুন তো আমি ঠিক বুঝতে পারছিনা। তখন রিমি বলে, পেট একটু ঠান্ডা হয়েছে মাথাও ঠান্ডা হয়েছে এবার আমি আপনাকে সব কথা খুলে বলছি। তখন পূজা বলে, রিমি চুপ কর কিন্তু। রিমি পূজাকে বলে, তুই চুপ কর নিজে তো কিছু বলতে পারবি না আর আমাকেও কিছু বলতে দিবি না। তখন রকি বলে, আপনি বলুন তো কি হয়েছে।
তখন রিমি বলে, বেশ কিছুদিন আগে আপনি দীঘায় গিয়েছিলেন মনে আছে কি আপনার? রকি বলে, হ্যাঁ বেশ কিছুদিন আগে আমি দীঘায় গিয়েছিলাম ঘুরতে। রিমি বলে, মনে করে দেখুন তো আপনি সেখানে একটি মেয়েকে সমুদ্রের জলে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে ছিলেন। রকি তখন বলে, হ্যাঁ হ্যাঁ, মনে আছে আমি একটি মেয়েকে বাঁচিয়ে ছিলাম। তখন রিমি বলে, আপনি যাকে সমুদ্রের ডুবে যাওয়া হাত থেকে বাঁচিয়ে ছিলেন। সেই মানুষটি এখন আপনার সামনেই বসে আছে। রকি তখন পূজার দিকে তাকিয়ে বলে, আপনি সেই মানুষটি যাকে আমি সমুদ্রের ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে ছিলাম। রিমি বলে, হ্যাঁ এই সেই মেয়েটি যাকে আপনি বাঁচিয়ে ছিলেন। আর সেদিন থেকে এই মেয়েটি আপনার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে 🙂। আপনি হয়তো জানেন না সেদিনের পর থেকে আপনাকে আমরা কত খুঁজেছি কিন্তু কোথাও পায়নি। রকি বলে, আমরা ঘুরতে গিয়েছিলাম আর পরের দিন চলে এসেছিলাম। রিমি বলে, আপনারা চলে এসেছিলেন আর আমরা আপনাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে ছিলাম কিন্তু কোথাও পায়নি। আমি তো আপনার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু আমার দিদি সেই আশা কোনদিন ছাড়েনি। সে আমাকে বলতো একদিন না একদিন তাকে ঠিক খুঁজে পাবো। আপনার জন্য আমার দিদি ঠাকুরের সামনে প্রার্থনা করে বলতো জানো আপনাকে এসে খুঁজে পায়। আর একদিন হঠাৎ করে এই রেস্টুরেন্টে আপনার সঙ্গে আচমকা দেখা হয়ে যায়। সে জানতে পারে আপনি প্রায়ই এই রেস্টুরেন্টে খেতে আসেন। তাই সে প্রতিদিন এখানে আপনার খোঁজ করতে আসতো। আর আজ দেখুন ঠিক আপনার সঙ্গে আমার দিদির দেখা হয়ে গেল।
.jpg)