'হৃদয়ের স্পন্দন'গল্প পর্ব:৫
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে হৃদয়ের স্পন্দন গল্পের পঞ্চম পর্বটি শুরু করছি। আশা করি, গল্পের পঞ্চম পর্বটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।
.jpg)
সোর্স
পূজা সেই ভিডিও ফুটেজটি দেখে একেবারে চুপচাপ হয়ে যায়। তখন কর্মচারীটি পূজা কে বলে, কি হয়েছে ম্যাডাম আপনি চুপচাপ হয়ে গেলেন যে? পূজা বলে, আমি যাকে খুঁজছি সেই ব্যক্তিটি এই। কর্মচারীটি বলে, ওকে ম্যাডাম আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন পরবর্তীতে এনি এলে আমি সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে জানাবো। পূজা তখন তার ব্যাক থেকে 500 টাকার একটি নোট সেই কর্মচারীর হাতে দিতে যায়। তখন সে কর্মচারীটি বলে, সরি ম্যাডাম আমি টাকা নিতে পারব না। পূজা বলে, আমি তোমাকে খুশি হয়ে দিচ্ছি তুমি নাও। কর্মচারী বলে, না ম্যাডাম এটা আমার দায়িত্ব মধ্যে পড়ে। পূজার কথা না বাড়িয়ে তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাড়ি ফিরে পূজা তার মাকে বলে, রিমি কোথায়? ওকি বাড়িতে এসেছে? তার মা বলে, হ্যাঁ রিমি এসেছে ওর রুমে আছে। পূজা বলে, ঠিক আছে।
রিমি রুমে তার বিছানা ঠিক করছিল ঠিক তখন পূজা পেছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরে। রিমি বলে, কি হয়েছে আজ এ তো আনন্দিত? পূজা তখন বলে, আমি তার দেখা পেয়েছি। রিমি বলে,কার দেখা পেয়েছিস? পূজা বলে, আরে আমার সেই স্বপ্নের মানুষটির। রিমি বলে, কোথায় দেখা হল তোদের? আমাকে কেন ফোন করলি না আমি একটু তোর হিরোকে দেখতাম 🙂। তুই কি তোর মনের কথাগুলো বলতে পেরেছিস? পূজা বলে, সে সুযোগ আমি পাইনি। রিমি বলে, তুই কেমনরে দিদি। এতদিন পর তোর স্বপ্নের মানুষটির দেখা পেলি কিন্তু তাকে কিছু না বলে যেতে দিলি কি করে? পূজা বলে, আরে আমি বলব কি করে। তাকে তো আমি সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখেছি। রিমি বলে, সিসিটিভি ক্যামেরা 🤔🤔। পূজা রিমিকে সব ঘটনা খুলে বলে। রিমি সবকিছু বুঝে পূজাকে বলে, চিন্তা করিস না আমার মন বলছে খুব শীঘ্রই সামনাসামনি তোদের দেখা হবে। পূজা বলে, তাই যেন হয় রে, তাই যেন হয় 🙂।
পরের দিন সন্ধ্যায় রকি আবারো সেই রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যায়। রকিকে দেখে সেই কর্মচারীটি তার কাছে এসে রকিকে বলে, স্যার আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আপনার সঙ্গে কিছু কথা শেয়ার করতে পারি? রকি বলে, মনে করার কি আছে। বলো কি বলবে আমি শুনছি। তখন সেই কর্মচারীটি রবিকে বলে, বেশ কিছুদিন ধরে আপনাকে একটি মেয়ে পাগলের মতন খুঁজছে। সে আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায়। আপনি আমাদের রেস্টুরেন্টে আসেন সে মেয়েটি সেটি জানে। তাই সে প্রতিদিন এখানে আপনার খোঁজ করতে আসে। কর্মচারীর মুখে এই কথাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে রকি একটু অবাক হয়ে যায়। রকি কর্মচারীকে বলে, আমাকে খুঁজছে 🤔 তুমি কি তার কোন ঠিকানা জানো? কর্মচারীটি বলে, আমি তার ঠিকানা জানি না কিন্তু আমাকে তার কন্টাক্ট নাম্বার দিয়েছে। আমাকেও বলেছে আপনি যদি আমাদের এখানে আসেন তাহলে তাকে ফোন করতে। রকি বলে, ঠিক আছে যেহেতু তোমার কাছে তার কন্টাক্ট নাম্বার রয়েছে তুমি তাকে ফোন করো। আমি তার জন্য অপেক্ষা করছি। আর হ্যাঁ সে এলে আমি খাবার অর্ডার করছি। কর্মচারীটি বলে, ওকে স্যার। আমি তাকে ফোন করছি।
কর্মচারীটি দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে পূজাকে ফোন করে। পূজা তখন রিমির সঙ্গে মার্কেট করছিল। পূজার ফোন বাজার সঙ্গে সঙ্গে পূজা ফোনটি রিসিভ করে। পূজা বলে, হ্যাঁ বল কি হয়েছে? কর্মচারীটি বলে, ম্যাডাম আপনি কি এখন আমাদের রেস্টুরেন্টে আসতে পারবেন? পূজা বলে, কেন কি হয়েছে? আমি তো একটু বাইরে এসেছি। কর্মচারীটি বলে, ম্যাডাম আপনি যদি এখন আসেন তাহলে তাহলে আপনার সেই মানুষটির সঙ্গে দেখা হতে পারে। পূজা বলে, উনি কি এসেছে? কর্মচারীটি বলে, হ্যাঁ ম্যাডাম উনি এসেছে তাই আপনাকে আমি ফোন করেছি। পূজা বলে, তুমি যেভাবে হোক ওনাকে কিছুটা সময় আটকে রাখো আমি এখনই আসছি। কর্মচারীটি বলে, ওকে ম্যাডাম।
ফোনটি রেখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূজা রিমিকে বলে, রিমি এখন আর মার্কেট করতে হবে না কাল করব। রিমি বলে, কেন কি হয়েছে তুই তো বললি আজ মার্কেট করবো। পূজা বলে,মার্কেট যে কোনদিন করা যাবে কিন্তু মানুষটি যদি হারিয়ে যায় আর হয়তো খুঁজে পাবো না। রিমি বলে, আরে কি সব বলে যাচ্ছিস বুঝিয়ে বল কি হয়েছে? পূজা বলে, রেস্টুরেন্টের কর্মচারীটি আমাকে ফোন করেছে। রিমি বলে, ফোন করে কি বলেছে? পূজা বলে, আমার স্বপ্নের মানুষটি রেস্টুরেন্টে এসেছে আমাকে শীঘ্রই যেতে বলল। রিমি বলে, কি বলছিস দিদি? মার্কেট কাল করব আগে চল রেস্টুরেন্টে তোর স্বপ্নের মানুষটির সঙ্গে দেখা করি। পূজা ও রিমি একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে সোজা চলে যায় সেই রেস্টুরেন্টে। রেস্টুরেন্টে যে, পূজা সেই কর্মচারীকে বলে, কোথায় সে কর্মচারীকে বলে, আপনি আসুন আমার সঙ্গে। পূজা মনে মনে খুব আনন্দিত হয় কারণ অনেকদিন পর তার স্বপ্নের মানুষটির সঙ্গে সে দেখা করছে। কিন্তু আবার ভয় ও করছে কারণ সে জানে না তার স্বপ্নের মানুষটির সামনে সে কি বলবে।