কালী পূজা ভ্রমণ পর্ব:৬
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন?আশা করি,আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে কালী পূজা ভ্রমণ ষষ্ঠ পর্বটি উপস্থাপন করছি। আশা করি, আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।
এরপর আমরা চলে গেলাম নব পল্লী এসোসিয়েশন মন্ডপের কালী পূজা দেখতে। প্রতিবছর এই মাঠে বেশ বড় করে উদযাপন করা হয় কালী পূজা। হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয় এই মন্ডপের কালী পূজা দেখার জন্য। পূজার মন্ডপ থেকে এক কিলোমিটার দূরে আমাদের গাড়ি পারে কি করতে হলো। কারণ এখানে এতটা পরিমাণে ভিড় হয়েছে সেটা বলা বাহুল্য। যাইহোক, গাড়ি পার্কিং করে লাইনে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে আমরা মন্ডপের দিকে এগোতে লাগলাম। মন্ডপের কাছে আসতেই চোখটা ঝলসে গেল প্যান্ডেলের রঙ্গিন আলোতে। এ বছর নবপল্লী এসোসিয়েশনের পূজার থিম বৃন্দাবনের চন্দ্রোদয় মন্দির। ৪৭ তম বর্ষে পদার্পণ করা এই পূজা মণ্ডপটি বৃন্দাবনের ঐশ্বরিক মন্দিরের আদলে তৈরি করা হয়েছে। যার জন্য দর্শকদের দেখার আকর্ষণ টা আরো বেশি বেড়ে গিয়েছে। এই প্যান্ডেলটিতে আসলেই মনে হবে যেন বৃন্দাবনের চন্ডোদয় মন্দিরে আপনি প্রবেশ করেছেন। এই প্যান্ডেলটি ভিতরে প্রবেশ করার আগে আপনার চোখে পড়বে বিশাল প্রকৃতির একটি হাতি। বিশাল আকৃতির এই হাতি টিকে সাজানো হয়েছে সোনার অলংকারে।

আমরা ভিতরে প্রবেশ করলাম। প্যান্ডেলের ভিতরে প্রবেশ করতেই প্যান্ডেলের চারি পাশে দেখতে পেলাম শ্রীকৃষ্ণের বাল্যকালের কিছু স্মৃতি। যেখানে শ্রীকৃষ্ণ কদম ডালে বসে বাঁশি বাজাচ্ছেন। শ্রীকৃষ্ণ রাধার সঙ্গে দোলনায় দোল খাচ্ছেন। শ্রীকৃষ্ণ বাল্যকালে যমুনা নদীতে কালীয় নাগের সঙ্গে যখন যুদ্ধ করেছিল। সেই নাগের মাথার উপর শ্রীকৃষ্ণ নৃত্য করেছিল। তারই একটি চিত্র এখানে ধারণ করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের যখন কারাগারে জন্ম হয় তখন তার বাবা বসুদেব একটি ঝুড়িতে করে যমুনা নদী পার করে গোকুলে নিয়ে যাচ্ছিল তখন প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিল। তখন পঞ্চ নাগ সেই ঝুড়ির উপর তার ফনা তুলে সেই ঝড়ের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল শ্রীকৃষ্ণকে তা চিত্র এখানে ধারণ করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণকে অনেকে রাখাল রাজা বলে ডাকতো। শ্রীকৃষ্ণ মাঠে গরু চরাতে খুব পছন্দ করতেন, এখানে তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই প্যান্ডেলের প্রত্যেকটি কোনায় কোনায় শ্রীকৃষ্ণের প্রতিচ্ছবি দেখাতে পারবেন।

শ্রীকৃষ্ণের বাল্যকালের চিত্র দেখতে দেখতে আমরা মূল প্যান্ডেলের ভেতরে প্রবেশ করলাম। প্যান্ডেলের উপরের নকশাটি এত সুন্দর ভাবে সাজানো হয়েছে মন ছুয়ে যাওয়ার মত। কালী পূজার প্রত্যেকটি প্যান্ডেলে বিভিন্ন ধরনের রঙ্গিন ঝাড়বাতি ব্যবহার করা হয়। এটি প্রত্যেকটি প্যান্ডেলেই দেখতে পাওয়া যায়। এখানেও তার ব্যাতিক রকম হয়নি এখানেও খুব সুন্দর একটি ঝাড়বাতি ব্যবহার করা হয়েছে। সেই রঙ্গিন ঝাড়বাতির আলোতে প্যান্ডেলের ভেতরের পরিবেশটা আরো ঝলমলে হয়ে উঠেছে। সামনেই দেখতে পেলাম মা কালীর প্রতিমা। মাকে দেখে আমি একটু অবাক চোখে তাকিয়ে থাকলাম অনুভব করতে থাকলাম মায়ের রূপ। মাকে ঘিয়ে রয়েছে পঞ্চ নাগ আর সেই পঞ্চ নাগের মাথার উপর রয়েছে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। এ যেন এক শিল্পীর অপরূপ সৃষ্টি। এই প্রতিমাটি দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছে। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছিল না মায়ের সামনে,মানুষের ভিড়ে।


যাইহোক, মাকে প্রণাম করে প্যান্ডেলের বাইরে চলে এলাম। বাইরে কিন্তু রাস্তার পাশে বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান বসেছে। আমরা একটি খাবারের দোকান থেকে কিছু খাবার খেলাম। আমার খুব ভালো লাগছিল কারণ এই প্যান্ডেলটি যে থিমটা তৈরি করা হয়েছে বৃন্দাবনের চন্দ্রোদয় সেখানে বৃন্দাবনের শ্রীকৃষ্ণের বাল্যকালের স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে। আর সব থেকে চমৎকার লেগেছে মা কালীর চারিপাশে পঞ্চ নাগ ঘিরে রয়েছে এবং পঞ্চ নাগের মাথার উপর শ্রীকৃষ্ণ রয়েছে।









