অনুভূতিমূলক পোস্ট ||| হঠাৎ অসুস্থ ||| original writing by @saymaakter
আসসালামু আলাইকুম। আমার বাংলা ব্লগের সকল ভাই-বোনেরা আশা করছি পরিবারকে নিয়ে সুস্থ সুন্দরভাবে দিন যাপন করছেন।আমি আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে এই সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে আছি তবে প্রচন্ড অসুস্থতায় আছি।শুধু যে আমি অসুস্থ তা না আমার বাসায় প্রায় সবাই অসুস্থ। এই অসুস্থতা যেন হঠাৎ কিছু আনন্দকে কেন্দ্র করে।অসুস্থ অবস্থায় সবার জন্যই দোয়া রইল সবাই যেন সুস্থ থাকে পরিবারকে নিয়ে। কারণ পরিবারের একজন অসুস্থ থাকলে এমনিতেই মনের অবস্থা ভালো থাকে না তারপর যদি সেই পরিবারের সবাই কম-বেশি কিছু না কিছু অসুখে ভোগে তখন তো আরো কষ্ট লাগে।
বরাবরের বরাবরের মতো আবারো হাজির হলাম আপনাদের মাঝে নতুন আরেকটি ব্লক নিয়ে। আজ আমি আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি অনুভূতিমূলক পোস্ট "হঠাৎ অসুস্থ"।
ডিসেম্বর মাস এলেই সবার প্ল্যান থাকে গ্রামের বাড়িতে ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন জায়গায় সবাই ঘুরতে চায়।আমিও এরকম প্ল্যান করি কখন বাচ্চাদের পরীক্ষা শেষ হবে আর বাবার বাড়িতে সবাই মিলে ঘুরতে যাব কিন্তু এবার হয়েছে উল্টো। যেকোনো ব্যস্ততার কারণে এবং বাচ্চার পরীক্ষার কারণে ডিসেম্বরে আর বাড়ি যাওয়া হয়নি। তারপর রমজান মাস গেল একটু ব্যস্ততার মাঝে ছিলাম। বেশ ভালই রমজান মাস গুলো কেটে গেল। হঠাৎ সবাই মিলে ডিসিশন নিলাম গ্রামের বাড়িতে যাব ঈদের পরের দিন।
কোন পরিকল্পনা নয় কোন সিদ্ধান্ত নেই আগের থেকে।এযেন হঠাৎ আনন্দ। কিন্তু এই আনন্দ আর সহ্য হলো না কপালে। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে প্রচন্ড ঠান্ডা শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল শরীরও তেমন ভালো ছিল না। আর ঈদের দিন মোটকথা প্রচন্ড অসুস্থ ছিলাম। তারপরও চেষ্টা করেছি সবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বাসার সবকিছু নিজে করে সুন্দরভাবে গুছিয়ে সব কাজ করতে। ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খেলাম। কিন্তু নিজের বাবার বাড়িতে যাওয়ার প্রোগ্রামটি আর মিস করতে চাইলাম না।
ওষুধ নিয়ে চলে গেলাম বাবার বাড়িতে। প্রথমত জার্নি দ্বিতীয়ত অসুস্থ ছিলাম আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লাম সেখানে গিয়ে। আমার সঙ্গে আমার ছোট ছেলেও অসুস্থ হয়ে পড়ল। সেই আনন্দ আর করা হলো না। বিছানায় শুয়ে থাকলাম। তিনদিন পর আবার ব্যাক করলাম বাসায়। বাসায় এসে আবার ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খাওয়া শুরু করলাম। মোটকথা অসুখ আর কমছেই না।বিশেষ করে আমি অসুস্থ থাকলেও এতটা খারাপ লাগত না।
আমার ছেলে অসুস্থ এবং হাজবেন্ডও অসুস্থ আমার নিজের জন্য অতটা খারাপ লাগছে না। বাসার পরিবারের জন্য বেশি খারাপ লাগছে। বিশেষ করে আমার ছোট ছেলে একদম খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। প্রচন্ড জ্বর এবং ঠান্ডা। জানিনা এই অসুস্থতা থেকে কবে মুক্তি পাবো। তারপরও বলবো সৃষ্টিকর্তা যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন হয়তো বা এর ভেতরেও কোন মঙ্গল রয়েছে। কিছু কিছু মুহূর্ত থাকে আনন্দ করতে চাইলেও আনন্দ করা হয়ে আর উঠে না। দুটো বছর পর চলে গেলাম বাবার বাড়িতে পাঁচ দিনের জন্য অথচ আনন্দ আর করা হলো না।
অসুস্থতার ভিতরেই চলে গেল দিনগুলো।তারপরও সৃষ্টিকর্তার কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া অনেকদিন পর মায়ের মুখ। পুরনো সবকিছু দেখতে পেলাম এটাই বা কমকিশের।তবে অসুস্থ হয়েও পোস্টটি লিখলাম কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আর আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন সবাই খুব শীঘ্রই যেন সুস্থ হয়ে আবার ফিরে হাসিখুশি আনন্দমুখর মন নিয়ে আপনাদের মাঝে সুন্দর কিছু ব্লগ নিয়ে আসতে পারি।
আজ যাচ্ছি অন্য কোনদিন আবারো হাজির হব আপনাদের মাঝে সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
আমার পরিচয়
আমি মোছাঃ সায়মা আক্তার।আমি একজন ব্লগার, উদ্যোক্তা।কবিতা লিখতে, নতুন কোনো রেসিপি তৈরি করতে এবং নতুন নতুন ডিজাইন সৃষ্টি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।আমি উদ্যোক্তা জীবনে সব সময় গ্রামের অবহেলিত মহিলাদের নিয়ে কাজ করি।আর এই অবহেলিত মহিলাদের কাজ নিয়ে দেশের স্বনামধন্য কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রোভাইড করি এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানি করছি।আর এসব কিছুর পিছনে আমার এই অবহেলিত মহিলাদের উৎসহ এবং উদ্দীপনায় সম্ভব হয়েছে।তাই সব সময় আমি অবহেলিত মানুষের পাশে থাকতে এবং অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে খুব ভালো লাগে।এজন্যই সব সময় অবহেলিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি এবং তাদের সহযোগিতায় নিজেকে সব সময় সম্পৃক্ত রাখি।আমি ২০২১ সালের আগস্ট মাসে স্টিমিটে যুক্ত হই।আমার বাংলা ব্লগে শুরু থেকে আছি এবং এখন পর্যন্ত আমার বাংলা ব্লগেই ব্লগিং করে যাচ্ছি।
🇧🇩আল্লাহ হাফেজ🇧🇩




