এক করুন গল্প।।
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ এর প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই?আশা করি আপনারা সবাই অনেক ভালো আছেন।আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি।আমি @shahid420 বাংলাদেশ থেকে।বন্ধুরা আজকে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হলাম নতুন একটি ব্লগ নিয়ে।চলুন আজকের ব্লগ টি শুরু করা যাক।
মানুষ হলো এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব।আবার মানুষই হলো এই পৃথিবীর নিকৃষ্ট জীবদের মধ্যে অন্যতম।কখনো কখনো এই মানুষ তার জীবনে বড় ধরনের উপকার করা মানুষ কেও মৃত্যুর মতো যন্ত্রণা দিয়ে থাকে।ঠিক তেমনি একটি ঘটনা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করে নেবো।
আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে,ঠিক আজকের এই দিনেই ঘটেছিল এক অজানা ছেলের জীবনে করুন একটি ঘটনা।যেখানে এই ছেলেটি একটি মেয়ের জীবন কে, বলতে পারেন একটি নতুন জীবন উপহার দিয়েছিল।কি ছিলো তাহলে সেই রহস্যময় ঘটনা? চলুন নিচে পড়া যাক।
ঠিক গত বছর এই দিনেই এক মে তার নিজস্ব স্থান হতে বেরিয়ে পড়ে।আর এই বিষয়টি ছেলেটি আন্দাজ করতে পারে। মেয়েটি যখন একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছালো তখন রাত বাজে দশটা।
ছেলেটি সারাদিন রোজা রেখে পরিশ্রম করে বাসায় এসেছিল রেস্ট নিতে কিন্তু তা আর হলোনা।ভাবলো আমি যদি এখন জিদ করে বসে থাকি তাহলে এই মেয়ে মানুষ একাই এত রাতে বিপদে পড়তে পারে।ভাবলো তাকে তার পরিবারের কাছে গিয়ে সে দিয়ে আসবে,আর এটাই ছিলো ছেলেটির মস্ত বড় ভুল।
ছেলেটি যখন মেয়েটির সাথে সাক্ষাৎ করলো তখন মেয়েটি একটি আবদার করে বসলো যা ছেলেটির পক্ষ থেকে দেওয়া অসম্ভব।ঠিক তখনই মেয়ের বাসা থেকে সবাই ফোন দেওয়া শুরু করলো।আর নানান কথা বলতে শুরু করলো।
ঠিক তখন ছেলেটি অস্বিকার করতে বাধ্য হলো যে মেয়েটি তার সাথে নেই।ঠিক তখনই মেয়েটি ফোনে বলল আমি তার সাথেই আছি এবং জোরস্থী করছে।
ছেলেটি কথাটি শোনা মাত্রই থ হয়ে গেলো।ছেলেটি ভাবলো মেয়েটিকে রেখেই সে তার গন্তব্যে চলে যাবে,চলেও গিয়েছিল কিন্তু ভাবলো মেয়ে মানুষ এত রাতে একা।যদি কিছু হয়ে যায়?তাই পুনরায় সে ফিরে আসলো মে টির কাছে আর সিদ্ধান্ত নিলো তার পরিবারের কাছে দিয়ে আসবে এতে যাইহোক তার।
অবশেষে 75 কি: মি: রাস্তা পাড়ি দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল মেয়েটিকে তার পরিবারের কাছে।তখন রাত প্রায় এগারোটা ছুঁই ছুঁই।রাস্তায় ছেলেটি লক্ষ্য করলো মেয়েটি তার পরিবারের সাথে চুপি চুপি যোগাযোগ করছে।ছেলেটি ভাবলো হয়তো এমনি কথা বলছে কিন্তু না,একটু পরেই মেয়ের পরিবারের লোক ছেলেটিকে ফোন দিয়ে নানান ধরনের অকথ্য কথা বলা শুরু করে।
তখন ছেলেটি বুঝতে পারে যে এই মে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ষড়যন্ত্র করছে।তখন রাত প্রায় বারোটার কাছাকাছি।ছেলেটি ভাবলো যার জন্য এত কষ্ট করছি সেই বেইমানি করছে আমার সাথে।আবার ভাবলো মেয়েটিকে একা ফেলে চলে যাবে,আবার ভাবলো যদি মেয়েটির কিছু হয়ে যায়?তাই ঠিক করলো যাইহোক সঠিকভাবে মেয়েটিকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দিবে।
তখন মেয়েটি তার এক দুলাভাইয়ের সুনাম গেয়েই যাচ্ছিলো।ছেলেটি বলল,তোমার দুলাভাই যদি এতই ভালো মানুষ হয় তাহলে সে তোমাকে নিতে আসছেনা কেনো?আপনি একটা মে মানুষ এত রাতে বাইরে সে কেনো এগিয়ে আসছেনা?বুঝলেন তো তার কষ্ট হবে বলে সে আসছেনা,আর আমি সারাদিন কিচ্ছু না খেয়ে ক্লান্ত শরীর নিয়ে আপনকে সেভলি পৌছাতে যাচ্ছি আপনার পরিবারে।কিন্তু তখনও হতভাগী মেয়েটি ঐ ছেলের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র সাজাচ্ছিল।
অবশেষে ছেলেটি যখন মেয়েটিকে নিয়ে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে একটু পরেই মেয়েটি যায় আরেক দিকে,ভান করছিলো আর বলছিল তার বাসা সে চিনতেছেনা।চিন্তা করুন এক মেয়ে বলছে সে তার পরিচিত বাসা চিনছেনা।একটু পরেই ছেলেটিকে তার এবং তার দুলাভাইয়ের ভাড়া করা কিছু লোক আটকিয়ে দিলো।
তারপর ছেলেটির সাথে অমানবিক অত্যাচার চালায়।মেয়েটি জাস্ট দেখছিল।ছেলেটির ফোন টিও নিয়ে নেয়।এক পর্যায়ে মেয়েটি আর ছেলেটির সাথে কোনো কথা বলেনা বরং মেয়েটি ছেলেটির বিরুদ্ধে গিয়ে তার পরিবারের সাথে দালালি শুরু করে।অনেক সময় পর মেয়েটি এসে ছেলেটিকে রাগান্বিত কন্ঠে বললো ফোনের পাসওয়ার্ড দাও লাগবে আমার, মনে হলো যেনো মেয়েটি কোনো চোরের সাথে কথা বলছে।আর ছেলেটি হলো সেই চোর।
ছেলেটি অবাক হয়ে ভাবলো, যে মেয়ে কে এত রাতে এত কষ্ট করে এত দূরের রাস্তা পাড়ি দিয়ে সূরক্ষিতভাবে নিয়ে আসলাম আর সে একবারও জিজ্ঞেস টুকু করলোনা, এখন কেমন লাগতেছে,ছেলে তখনও হার্টের সমস্যা ভুগছিলো,ছেলেটি ভাবলো তাহলে এই মেয়ের কাছে আমি নয় আমার ফোনের পাসওয়ার্ড টাই গুরুত্বপূর্ণ হলো( আফসোস)।একটু পর দেখল মেয়েটি খুব শান্তিতেই ঘুমিয়ে গেছে অথচ ছেলেটি হাহাকারের কষ্ট জর্জরিত।এক পর্যায়ে ছেলেটি এত অত্যাচার আর মেয়েটির আচরণ দেখে নীরব ,নিশ্চুপ হয়ে গেলো।
অথচ তখনও মেয়েটি যেই ফোন টি ব্যবহার করতো সেই ফোন টিও ছিল ছেলেটির দেওয়া।
পরের দিন ছেলেটির থেকে মেয়েটি আড়ালে গেলো,আর দ্বিতীয় দফায় ছেলেটির উপর নির্মম অত্যাচার চালানো হলো ভাড়া করা লোকেদের দিয়ে।তারপর ছেলেটির পরিবার কেও কঠিন ধরনের অপদস্থ করলো এমনকি ছেলেটির মায়ের সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললো মেয়েটি এবং তার পরিবার।মেয়েটি শুধু চোখ মিটিয়ে দেখছিল।যাক এর মাঝে আরো অনেক গভীর কষ্টকর কথা লুকিয়ে যেটা ছেলেটি বলতে চাচ্ছিলোনা।
একটু পরেই ছেলেটি দেখলো মেয়েটি পর পুরুষের বাইকের পিছনে উঠে কোথায় যাচ্ছিলো,ছেলেটি যখন এই দৃশ্য দেখলো মনের মধ্যে গুরুতর আঘাত পেলো।আর প্রতিজ্ঞা করলো এই চরিত্রহীনা মেয়েকে দুচোখে আর দেখবেনা সে।একটু পরে আবার দেখলো সেই মেয়েটিই তার দুলাভাইয়ের বাইকের পিছনে খামটি মেরে বসে চলে যাচ্ছে।ছেলেটি পুনরায় প্রতিজ্ঞা করলো এই চরিত্রহীনা মেয়েকে দুচোখে আর দেখবেনা সে।
ঠিক এক বছর পর ছেলে টি প্রচুর কষ্ট এই কান্নার সাথে এই দৃশ্য গুলো মনে করলো আর প্রতিজ্ঞা করলো, রমাদান মাসে অভিযোগ দিয়েছে আল্লাহর কাছে, হে আল্লাহ আমার সাথে যে বা যারাই ঐ সময়টায় অন্যায় করেছে তাদের আপনার তরপ থেকে শাস্তি দিন ।আপনার ওপরই সব কিছু সোপর্দ করলাম।
একটা মেয়ে কিভাবে পারে এত জঘন্য কাজ করতে? যে ছেলেটি রাতের অন্ধকারে মানুষরুপি জানোয়ারদের থেকে সেভ করে পরিবারের কাছে পৌছে দিলো তাকেই কঠিন আঘাত করলো।একবারও ভাবেনি সে যে কাজ টি করছে সেই কাজের ফলে ছেলেটির পরিবারের সম্মানে কতটা আঘাত হানবে,আর ছেলেটির ক্যারিয়ার এর বা কী অবস্থা হবে। অথচ মেয়েটি এত জঘন্য কাজ করার পরও মেয়েটির মা বাবা সেখানে পা পর্যন্ত দেয়নি।
তাহলে ভাবুন কি ষড়যন্ত্র করেছিল সেই চোগলখুরি।যাক তার আর তাদের বিচার হবে ঐ আল্লাহর আদালতে।তবে ছেলেটি আজও ঐ কঠিন বিভীষিকাময় রাতের কথা ভোলেনি বিন্দুমাত্র।
আমার লিখে যাওয়া প্লাটফর্ম এর এই লেখাগুলো থেকে যাবে চিরকাল, সেই সাথ আপনাদের মন্তব্য গুলিও থেকে যাবে অনন্তকাল।তাই আশা করছি আপনাদের সুন্দর সুন্দর মন্তব্য গুলো কমেন্ট বক্সে দেখতে পাবো ।
| Device | Redmi 12 |
|---|---|
| Country | Bangladesh |
| Location | Rangpur, Bangladesh |
vote@bangla.witness as a witness
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP












