ভালো থাকার অভিনয় আর আসল সুখের মাঝে পার্থক্য কোথায়?
কিন্তু ভালো থাকার অভিনয় আর সত্যি সত্যি ভালো থাকাটার মাঝে পার্থক্য যোজন যোজন দূরের। আমরা যে অভিনয়ের জগতে থাকি, তার মধ্যে এতটাই ঢুকে যাই যে আমরা যা-ই করি না কেন, যেভাবেই চলি না কেন, নিজেকে আর বদলাতে পারি না। ধীরে ধীরে আমরা ওই অভিনয়কেই নিজেদের জীবনের একটা সত্যি অধ্যায় বানিয়ে ফেলি। অথচ আসল সুখ মোটেও এমন নয়, বরং সেটা এখন এক ধরনের দুর্লভ জিনিস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসল সুখের মধ্যে একধরনের শান্তি থাকে মন থেকে শান্তি, হৃদয় থেকে হাসি। এই শান্তিটা অভিনয়ের মধ্যে থাকে না, কারণ অভিনয়টা শুধুই বাইরের জন্য। বাইরে থেকে দেখে সবাই ভাবে আমরা খুব ভালো আছি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমরা হয়তো একেবারে ভেঙে পড়া মানুষ। তবুও আমরা ওই অভিনয়টাকেই আঁকড়ে ধরি, কারণ সত্যিটা প্রকাশ করতে সাহস হয় না। কারণ আমরা শিখে গেছি ভালো না থাকলেও ভালো থাকার মুখোশ পরতে হয়, হাসতে হয়, বলে যেতে হয় "আমি ঠিক আছি।"
কিন্তু একটা সময় পরে আমরা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারি না, আসলে আমি কি ভালো আছি? নাকি শুধু অভিনয় করছি? নিজের সাথে যখন এমন দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তখন বুঝতে হয় আমি আর আমার মনের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেড়ে গেছে। আমরা তখন আমাদের বাইরের পৃথিবীটা যতটা সাজিয়ে রাখি, আমাদের ভেতরের জগতটা ততটাই অগোছালো থেকে যায়।
আমার মনে হয়, জীবনের সবচেয়ে বড় প্রায়োরিটি হওয়া উচিত আমার নিজের মন। মনকে খুশি না রাখলে, সত্যিকার অর্থে ভালো থাকা সম্ভব না। যারা মনকে খুশি রাখার চেষ্টা করে, তারাই ধীরে ধীরে আসল সুখ খুঁজে পায়। অভিনয়ের জগতে নয়, বরং নিজের মনের শান্তির জগতে বাস করাই আসল বেঁচে থাকা। তাই ভালো থাকার অভিনয় নয়, সত্যিকারের ভালো থাকা জরুরি।

