স্বপ্নের ঠিকানা ( পর্ব ১ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে 'স্বপ্নের ঠিকানা' গল্পের প্রথম পর্ব শেয়ার করে নেবো। একদিন ভোরবেলা, শহর তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। রাস্তার বাতিগুলোও এখনও কিছু কিছু জায়গা জ্বলছে, আর আকাশের পূর্বদিগন্তে লালচে আলো ফুটে উঠেছে। এদিকে ভোরের হালকা ঠান্ডা বাতাসে ভেসে আসছে চায়ের দোকানের প্রথম কেটলির গন্ধ। অর্ণব তখন পথে ধীরে ধীরে হাঁটতে থাকে। তার কাঁধে একটা পুরোনো ব্যাগ ছিল, কিন্তু চোখে একটা ক্লান্তি ভাব। তবুও ভেতরে ভেতরে কোথাও একটা যেনো জেদ জমে আছে, একটা আগুন।তবে আজ সে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়েছে, নিজের স্বপ্নের খোঁজে। অর্ণবের বাড়ি খুব বড়ো ছিল না এবং জিনিসপত্রও তেমন বেশি ছিল না।
ছোট্ট একটা ভাড়া বাড়ি, সেখানে তার বাবা-মা আর সে থাকতো। এই তিনজনের একটা ছোট্ট সংসার ছিল। তার বাবা ছিল একজন স্কুলের ক্লার্ক। সারাদিন খাতা-কলম নিয়ে কাজ করে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরত। আর মা গৃহিণী, কিন্তু সংসার চালানোর জন্য মাঝে মাঝে লোকের বাড়িতে সেলাইয়ের কাজও করতে হতো। তাদের ছেলে অর্ণব ছোটবেলা থেকেই একটু আলাদা ছিল। অর্থাৎ সবাই যেখানে “নিরাপদ ভবিষ্যৎ” এর চিন্তা করতো, সেখানে সে চাইতো “নিজের মতো একটা জীবন”। তবে অর্ণব সাধারণ ভাবে জীবনযাপন করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতো। সে ছবি আঁকতে ভালোবাসত, গল্প লিখতে ভালোবাসত, আর সবচেয়ে বেশি ভালোবাসত- নিজের স্বপ্নগুলোকে বাস্তব বানানো।
কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই, ওর স্বপ্ন আর তার বাবার স্বপ্ন এক ছিল না। একদিন সন্ধ্যায় অর্ণব নিজের আঁকা কিছু ছবি বাবার সামনে নিয়ে এসে বলল- আমি আর পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি করতে চাই না। আমি আর্টিস্ট হতে চাই, নিজের একটা স্টুডিও খুলতে চাই। তার বাবা চুপ করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিল। তারপর হঠাৎ রেগে উঠে বলল- এগুলো কোনো কাজ না, ছবি এঁকে কেউ জীবন চালাতে পারে? তুমি কি আমাদের অবস্থা দেখছো না? কিন্তু অর্ণব আর্ট এর মাধ্যমে নিজের জীবনের সুখ খুঁজে পেতে চেয়েছিলো। সে সবসময় চাইতো, এইসব এর মাধ্যমে নিজেকে সমাজের সামনে মিলে ধরা। যাইহোক, এরপর অর্ণব বলল- আমি পারব বাবা। আমাকে একটু সময় দাও।
কিন্তু তার বাবা সেই সুযোগ দিতে রাজি ছিল না। কোনোমতে অর্ণব এর এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। তার বাবার একটাই কথা ছিল, পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। যাইহোক, অর্ণব এর এই কথার পরে, তার বাবা শান্তভাবে বললো- আমি আমার ছেলেকে কষ্ট করতে দেখব না। তুমি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নাও, আর এইসব আজেবাজে চিন্তা মাথা থেকে বের করে দাও। সেদিনের তার বাবার কথাগুলো অর্ণবের ভেতরটা ভেঙে দিয়েছিল। সেদিনের রাতটা ছিল অর্ণব এর জন্য একটা নীরব- নিস্তব্ধতা। ঘরের আলো নিভে গেছে, সবাই ঘুমিয়েও পড়েছে। কিন্তু অর্ণবের চোখে কোনো ঘুম নেই।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |






High-Yield Curation by @steem-seven
Your content has been supported!
Maximize your passive income!
Delegate your SP to us and earn up to 0.45 STEEM / 1000 SP.
Click here to see our Tiered Reward System
We are the hope!
Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟