বন্ধ ঘরের ভেতরের শব্দ ( পর্ব ২৯ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "বন্ধ ঘরের ভেতরের শব্দ" গল্পের ২৯ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- দরজাটা আস্তে আস্তে খুলতে শুরু করল। ঈশান দৌড়ে ওপরে উঠল। তার পেছনে সেই অন্য ঈশানও হাঁটছে- ধীরে এবং হাসতে হাসতে।দরজাটা পুরো খুলে গেল, কিন্তু ভেতরে কোনো ঘর নেই, কোনো দেওয়াল নেই, কোনো মেঝে নেই। শুধু অসীম অন্ধকার। আর সেই অন্ধকারের মধ্যে...অসংখ্য মুখ- হাজার হাজার। কেউ কাঁদছে, কেউ হাত বাড়িয়ে আছে, কেউ চিৎকার করছে।তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছোট্ট মেঘলা। হাতে সেই পুতুল। সে হাসল, কিন্তু সেই হাসিতে আনন্দ নেই।শুধু ক্লান্তি। সে বলল- দাদা...এতদিন পরে এলি? ঈশান চোখের জল সামলাতে পারল না। তোকে নিয়ে যাব। মেঘলা ধীরে মাথা নাড়ল- আমাদের নিয়ে যাওয়া যায় না। আমরা শব্দ হয়ে গেছি। শুধু...দরজাটা আবার বন্ধ করা যায়।
ঈশান বুঝতে পারল এই দরজা বাইরে থেকে বন্ধ হয় না, ভেতর থেকে করতে হয়। মেঘলা তার হাতে একটা ছোট্ট লোহার কড়া তুলে দিল। এটা লাগিয়ে দে, তাহলেই শব্দ থেমে যাবে। ঈশান এগিয়ে গেল, ঠিক তখনই তার অন্য সত্তা তার হাত চেপে ধরল।না! দরজা বন্ধ করলে... আমিও শেষ হয়ে যাব। ঈশান তার দিকে তাকাল, সে আর ভয় পাচ্ছে না।খুব শান্ত গলায় বলল- তুই কখনও আমি ছিলি না। তুই শুধু আমার ভয় ছিলি। আজ আমি তোকে ছেড়ে দিলাম। এই কথা বলেই সে সমস্ত শক্তি দিয়ে লোহার কড়াটা দরজায় বসিয়ে দিল। এক মুহূর্তে পৃথিবী বদলে গেল এবং সমস্ত শব্দ থেমে গেল।ঝড় থেমে গেল, বৃষ্টি থেমে গেল, সব কণ্ঠস্বর মিলিয়ে গেল। শুধু একবার...খুব আস্তে...মেঘলার গলা শোনা গেল- ধন্যবাদ... তারপর অন্ধকারটা ধীরে ধীরে আলো হয়ে গেল।...
