ক্ষত চিহ্নের মাঝে শান্তির বার্তা!

in Incredible India2 days ago

1000091840.jpg

আজকের ছবিগুলো হিমাচল প্রদেশের। একদিকে যেখানে দেখতে পাচ্ছেন বৌদ্ধ মূর্তি শান্তির প্রতীক হিসেবে, ঠিক তেমনি হিমাচলের কাজায় অবস্থিত পাহাড়ের ছবিগুলো জুম করলে বুঝতে পারবেন, পাহাড়ের গায়ে রয়েছে অসংখ্য দাগ কিংবা ক্ষত!

ঠিক যেনো আমাদের জীবনের এক্ টুকরো ছবি! যেখানে একদিকে যেমন আমরা শান্তির কথা বলি, মনে প্রানে চাই জীবন শান্তিময় হোক, তেমনি অন্যদিকে প্রতিদিন লড়াই করে বেচে থাকতে গিয়ে সেই মন ক্ষত বিক্ষত হয় বিভিন্ন আঘাতে, ঠিক যেমনটি পর্বতের গায়ে দেখতে পাচ্ছেন।

মুশকিল হলো, এখানে অর্থাৎ এই প্ল্যাটফর্মে ছবির গুরুত্ব লেখার চাইতে অধিক, আর ঠিক সেই কারণে বেশিরভাগ সকলেই ছবি দেখে, তার সময়সীমা দেখে একটি লেখার মান নির্ণয় করে!

1000091819.jpg

ছবি যদি নিজের হয়, আর লেখার সঙ্গে তার সামঞ্জস্য থাকে তাহলে, সেই লেখাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

প্রতিদিনের ছবি দিনলিপির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কিন্তু যেখানে সামাজিক বার্তা, কোনো প্রয়োজনীয় শিক্ষার প্রশ্ন আসে, সেখানে লেখার মানকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি।

অনেক গল্প ইতিপূর্বে লিখেছি, যেগুলো সবটাই আমার নিজস্ব লেখা, কোথাও কোনো কিছু থেকে নকল করে লেখা নয়, তবে মুশকিল হলো আজকাল মুষ্টিমেয় মানুষ লেখা পড়তে আগ্রহী।

যাক, যে বিষয়টি নিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম, জীবনের প্রায় সব পর্যায় মানুষকে ছোট থেকে বড় সংঘর্ষের মধ্যে দিতে যেতে হয়, আর ভবিষ্যতেও হবে!

তবে, এই ক্ষত চিহ্নের মাঝে যদি খানিক মানসিক শক্তি অব্যাহত রাখতে হয়, তাহলে নিজেদের বিচারধারা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

কেনো এমনটা বলছি? কারণ, আমরা অন্য কাউকে পরিবর্তন করতে সক্ষম, এই বিশ্বাস থাকা ভালো কিন্তু প্রত্যাশা নয়!

কারণ, কোনো মানুষ নিজে থেকে পরিবর্তিত হতে না চাইলে, তাকে পরিবর্তন করা যায় বলে আমি বিশ্বাস করি না!

1000091804.jpg

দেখুন, প্রত্যেকেই নিজস্ব লড়াই করেই প্রত্যহ জীবনযাপন করছে, সেখানে কারোর থেকে নিজের জন্য অত্যধিক প্রত্যাশা, শান্তির পরিবর্তে অশান্তি বৃদ্ধি করে বলেই আমার মনে হয়।

আজকে, অনেকদিন বাদে একজনকে ফোন করেছিলাম, আমার ভাইয়ের অসুস্থতার খবর জানানোটা প্রয়োজনীয়তা মনে করেছিলাম।

অভিযোগ করাটা কিছু মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি!
আর কিছু মানুষ একটা পর্যায় পর্যন্ত অপবাদ মুখ বুজে সহ্য করে যায়, সমস্ত ক্ষতচিহ্ন নিজের মধ্যে ধারণ করে, পার্থক্য একটাই বাইরের ক্ষত খালি চোখে দেখা যায়, ঠিক যেমনটি পাহাড়ের গায়ে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু অন্তরের ক্ষত দেখতে হলে, সেই মানুষগুলোকে একই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

1000091798.jpg
1000091801.jpg

অনেকে কটূক্তি অনেক নিয়েছি, এবং এখনো অনেক সময় নিয়ে নিতে হয়!
এখন অনেকেই ভাবতে পারেন, এটা তো অন্যায়!
কারোর কটূক্তি অকারণে কেনো সহ্য করা! উত্তর হলো, কারোর জন্য নিজের শান্তি বিঘ্নিত হতে দেবার আর কোনো ইচ্ছে নেই।

1000091795.jpg

আমাদের মস্তিষ্ক এবং মন এই দুটি বিষয়কে বোঝাতে হবে, শেখাতে হবে কোন বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দেবো, আর কোন বিষয়কে নয়!

কোন মানুষ আমদের জীবনের কতটুকু জায়গা দখল করে থাকবে, কিংবা আমরা করতে দেবো, মানসিক শান্তির অধিকটাই নির্ভর করে তার উপরে!

কাজেই, ক্ষত এবং ক্ষতি দুটির জায়গা অধিক হয় আমাদের নির্বাচিত সিদ্ধান্তের উপরে, তাই আজকাল সৃষ্টিকর্তা ছাড়া জীবনে কাউকে বিশেষ গুরুত্ব দেবার নেই, তাই হয়তো ক্ষত চিহ্নের মাঝে শান্তির বার্তা লেখার মাধ্যমে তুলে ধরতে পারছি!

জীবন একটাই, তাই অগ্রাধিকার নিজেকে ভালো রাখতে খরচ করুন, নইলে ক্ষত বৃদ্ধির জন্য বাড়তি প্রয়াসের প্রয়োজন নেই, কাছের, দূরের, পরিচিত, অপরিচিত মানুষই যথেষ্ট, যদি না জানা থাকে, কাকে কতটুকু জায়গা দেওয়া উচিত!

জানিনা, আদেও এসব লেখার গুরুত্ব এই প্ল্যাটফর্মে কতখানি, তবে তাতেই বা কি এসে যায়!
আমি কোনো কারণেই, কোনো কিছুর বিনিময়ে নিজের শান্তির সাথে সমঝোতা করতে রাজি নই!

1000010907.gif

1000010906.gif