Deoria Taal - দেওরিয়া তাল/ইন্দ্র সরোবর!

in Incredible India8 days ago

1000086521.jpg

আমি যদি ভারত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে বসি, তাহলে হয়তো একটা জীবন কম পড়ে যাবে, কেনো বলছি?

ভারত শুধু একটি দেশ নয়, এটি বিশ্বের মধ্যে অন্যতম একটি স্থান যেখানে প্রকৃতি দু'হাত তুলে আশীর্বাদ করেছে এবং ভিন্ন ভিন্ন জায়গাকে নিজের মতো করে সুসজ্জিত করেছে।

শুধু সাজিয়েছে বললেও বোধকরি সবটা বলা হয় না, কারণ এই দেশের ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে রয়েছে পৌরাণিক কাহিনী!

যেটি এই দেশের ঐতিহ্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে! ভাবছেন নিজের দেশ বলে খানিক বাড়তি প্রশংসা করছি?

আরে না মশাই, একেবারেই নয়, আমার লেখার শব্দবন্ধ যদি কারোর জল মেশানো মনে হয়, তাহলে ঐ গুগল আর হাত ধরে আমার কথার যথার্থতা একবার মিলিয়ে নিতেই পারেন।

যে স্থানগুলোর সাথে পৌরাণিক কাহিনী জড়িত সেই জায়গাগুলো আমার কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

যে দেশের সাথে জড়িয়ে আছে একাধিক কাহিনী, সেটা পুরাণের হাত ধরে হোক, কিংবা ইতিহাসের হাত ধরে, সেই দেশের একটু হলেও বাড়তি গুরুত্ব তো রয়েইছে।

1000086522.jpg

আজকের ছবিগুলো হলো, উত্তরাখণ্ডের দেওরিয়া তালের।

এখন অনেকেই ভাবতে পারেন, কিংবা প্রশ্ন উঠতে পারে আর পাঁচটা পাহাড়ি জায়গার থেকে এই জায়গাটির বাড়তি বিশেষত্ব কোথায়?

চলুন তাহলে, এবার খানিক পুরাণের হাত ধরে এই জায়গার বিশেষত্ব খুঁজে বের করা যাক।

আজকের এই যে হ্রদটি তুলে ধরেছি, পুরাণের পাতা উল্টালে দেখা যাবে, এক্ সময় দেবতাদের স্নানের জায়গা ছিল এই হ্রদটি!

শুধু এইটুকুতেই এই হ্রদের গুরুত্ব শেষ হয়ে যায় না, এরপর যে বিষয়টি এই জায়গার গুরুত্ব বৃদ্ধি করে সেটা জানতে হিন্দু ধর্মের চর্চিত মহাভারতের সময় যেতে হবে।

বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ দয়া করে চাইবেন না, কারণ বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর!

অনেক বিষয় আমরা স্বচক্ষে না দেখতে পারলেও, এটা অস্বীকারের কোনো জায়গা নেই যে, তাদের অস্তিত্ব রয়েছে!

ঠিক তেমনি এই হ্রদের সাথে জড়িত মহাভারতের উল্লেখিত তথ্য তুলে ধরবার প্রয়াস করছি, বিশ্বাসের দায়ভার ছেড়ে দিলাম পাঠক পাঠিকাদের উপর।

1000086523.jpg

যে সময়ের উল্লেখ করছি, সেটা ছিল পাণ্ডবদের বনবাসের সময়।
একদিন পাণ্ডবদের জ্যৈষ্ঠ ভ্রাতা যুধিষ্ঠির জল আনতে গিয়েছিলেন এই হ্রদে যখন তাকে যক্ষের কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল।

যারা যুধিষ্ঠির সম্পর্কে ওয়াকিবহল, তারা জানবেন সে সত্যবাদী নামেও পরিচিত।
যক্ষ কি কি প্রশ্ন করেছিল যুধিষ্ঠিরকে সেটি গুগল থেকে পেয়ে যাবেন, তাই আর সে বিষয় উল্লেখ করলাম না!

ভৌগোলিক দিক থেকে দেখলে এই হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৯৯৯ ফুট উঁচু!
পাশাপশি এই জায়গাটি কেদারনাথ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মধ্যে এটি একটি সবুজ তৃণভূমিতে অবস্থিত।

সব মিলিয়ে প্রকৃতির অতি সযত্নে নির্মিত এক্ টুকরো প্রাণ জুড়ানো নিখুঁত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের পাশাপশি, পূরাণের সাক্ষী বললে একটুও বেরিয়ে বলা হবে না!

নির্ভেজাল সৌদর্যর প্রতিরূপ এই দেউরিয়া তাল, রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অবস্থিত উত্তরাখণ্ডের মনোরম আলপাইন হ্রদ।

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  
Loading...