সমালোচনার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা!

আজকে মন খারাপ নিয়েই লেখার শীর্ষক নির্ধারণ করেছি।
যারা মোটামুটি রোজকার সংবাদের দিকে খানিক নজর রাখেন তারা হয়তো জানবেন আজকে ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের বিষয়টি।
খবর বলছে দুবারের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.২ এবং ৭.৫!
তখন আমি জী বাংলা বলে একটি খবরের চ্যানেল দেখছি এবং সেখানে বলছে বিগত একশ বছরে এত মারাত্মক ভূমিকম্প দেখেনি ভেনিজুয়েলা!
টেলিভিশনের পর্দায় দেখছিলাম কিভাবে একটি গাড়ি এগিয়ে যাবার পরপরই বিশালাকার বিল্ডিং ধসে পড়ছে!
এরপর মানুষের দৌড়াদৌড়ি শিপিং মলের ভিতরে, বাড়ির অভ্যন্তরে এক্ এক সদস্য এক্ একটি জিনিষ আঁকড়ে ধরে চিৎকার করছে!
প্রথম ভূমিকম্প হবার উনচল্লিশ সেকেন্ডের মধ্যে দ্বিতীয় ভূমিকম্প হয় বলে খবর থেকে জানতে পেরেছি।
এখন চলছে উদ্ধারকার্য! এবারে খানিক দৃষ্টি আকর্ষণ করবো কমিউনিটিতে চলমান প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তুর দিকে!
কেনো বললাম? দেখুন প্রতিযোগিতায় আমি এবার যে বিষয়বস্তু নির্বাচন করেছি, সেটা আজকের এই ঘটনার সাথে খানিক সম্পৃক্ত!
কে অধিক শক্তিশালী? প্রকৃতি নাকি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি?
আজকের এই ভয়ঙ্কর ঘটনা কি এর উত্তর পরিষ্কার করে দিচ্ছে না?
ইতিপূর্বেও একাধিক দেশে একাধিকবার এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী থেকেছে বহু পরিবার, বহু মানুষ সহ দেশ!
এবার আসবো শীর্ষক এর বিষয়ে! আমরা প্রত্যেকে দুর্ঘটনার পর সেটা নিয়ে কাটাছেঁড়া করতে অভ্যস্ত সমালোচনার হাত ধরে!
আচ্ছা! সমালোচনার সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা কি ততটাই সচেতন হতে পেরেছি এই আধুনিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির হাত ধরে?
আমার ব্যক্তিগত উত্তর কিংবা অভিমত হলো না!
কেনো এই অভিমত? যদি সচেতনতা ওই সমালোচনার চাইতে অধিক গুরুত্ব পেতো, তাহলে কি আধুনিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি এই আগত ভূমিকম্প সম্পর্কে মানুষকে জাগ্রত করতে পারতেন না?

এটা আমার প্রশ্ন! আসলে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পকেট গরম করতে ব্যস্ত হলে, তার পরিণতি তো ভোগ করতেই হবে, এই বার্তাই কি আজকে প্রকৃতি দিয়ে গেলো?
এগুলো ভাবনার বিষয়! কথাগুলো শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দেশেই সীমাবদ্ধ নয়!
সাধারণ মানুষের জীবন আজ মূল্যহীন, ক্ষমতাবান গদিতে বসা মানুষজনের লোভের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ;
পক্ষান্তরে এই সাধারণ মানুষ সমালোচনায় সামিল হয় অর্ধেক জ্ঞান নিয়ে সচেতন না হয়ে!
এর কারণ? সাময়িক সুবিধা দিলেই জল গড়িয়ে যায় অন্যত্র!
এটা না বুঝেই যে অজান্তে তারাও এই পাপে সমানভাবে সামিল হচ্ছেন অনৈতিকতার হাত ধরে।
আর ঠিক সেই কারণে লক্ষ্য করলে দেখবেন, মৃত্যুর হার যত না ওই ক্ষমতাবানদের হয় দুর্ঘটনায় তার চাইতে বেশি হয় সাধারণ মানুষদের।
অনেক খারাপ কথা, অনেক অপমান নিয়েছি, সোজা, সত্যি বলতে গিয়ে!
প্রত্যুত্তর কখনও করেছি, আজকাল বন্ধ করে দিয়েছি, কারণ আমি বিশ্বাস করি প্রকৃতি সময় হলে জবাব দেবে সময়ের হাত ধরে।
আর সেই কথা মাথায় রেখেই এবারের কমিউনিটির প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু নির্বাচন করেছিলাম, আর আজকে একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে প্রকৃতি দেখিয়ে দিল, কে বেশি শক্তিশালী।
পরিশেষে তাই আমার মনে হয়, গঠনমূলক সমালোচনা করুন যদি নিজে কোনো অনৈতিকতার অংশ না হন, নইলে সচেতন থাকুন কারণ প্রকৃতির থাবা কখন যে আপনার উপর বসবে এ কথা বলা খুব মুশকিল!
মানুষ হয়ে জন্মে দায়ভার ঝেড়ে ফেললে তো চলবে না, প্রতিবাদী হতে হবে যখন যখন বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি অযথা থাবা বসাবে প্রকৃতির ভাগে!

আজ হয়তো অনেকেই এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর তদন্ত করবে, এর পিছনের কারন, ওই চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ার মত!
যদি সচেতনতা পূর্বেই থাকতো তাহলে হয়তো অনেক দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতো!
লেখায় ইতি টানবার আগে যে প্রাণগুলো আমার শহর তথা ভেনিজুয়েলায় ঝরে গেলো, তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি!

