একটি সবজি দিয়ে তিনটি স্বাস্থ্যকর রেসিপি!

ইতিপূর্বে আমার একটি লেখায় উল্লেখ করেছিলাম, শূন্য অপচয় করে কিভাবে একটি সবজি ব্যাবহার করে একাধিক স্বাস্থ্যকর রেসিপি তৈরি সম্ভব!
বর্তমানে সকলেই স্বাস্থ্য সচেতনতায় মনোযোগী হয়েছে, এটি অবশ্যই একটি ভালো দিক!
এই সবজিটি দিয়ে আর ভিন্ন ভিন্ন পদ তৈরি সম্ভব, হয়তো ভবিষ্যতে আজকের তিনটি নিরামিষ পদের বাইরে কিভাবে আমিষ ভাবেও লাউ এর পদ তৈরি করা সম্ভব সেগুলি নিয়েও হাজির হয়ে যাবো;
তবে আজকে রান্নার পদগুলো নিরামিষ এর মধ্যেই আবদ্ধ থাক।
তাহলে আর অধিক সময় ব্যয় না করে চলে আসুন রান্নার পদ্ধতির হাত ধরে আমার হেঁসেলে!
- প্রথম রেসিপি:-
প্রথমে, একটি গোটা লাউ ধুয়ে নিয়ে, তারপর লাউয়ের খোসা আমি একটু মোটা করে ছড়িয়ে নিয়েছিলাম।

এরপর, লাউয়ের খোসা ঠিক আলু ভাজার মত করে কুচিয়ে নিয়েছি, ঠিক ছবির মত করে।
এবার, একটি কড়াই মাঝারি আঁচে বসিয়ে, তাতে সরষের তেল দিয়ে ধোঁয়া ওঠা পর্যন্ত গরম করে, তাতে সামান্য কালোজিরে আর কাঁচালঙ্কা ফোড়ন দিয়েছিলাম।

কয়েক সেকেন্ড ফোড়ন নাড়িয়ে কুচিয়ে রাখা লাউয়ের খোসা দিয়ে দিয়েছিলাম কড়াইতে!
এরপর, আঁচ কমিয়ে একটি ঢাকনা দিয়ে কড়াই ঢেকে দিয়েছিলাম।

ঠিক এই অবস্থায় লাউয়ের খোসা রেখেছিলাম, যতক্ষণ খোসাগুলো থেকে জল বেরিয়ে সেগুলো খানিক নরম না হয়ে যায়।
এরপর, ঢাকনা সরিয়ে লবণ, হলুদ গুঁড়ো আর সামান্য চিনি দিয়ে সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে নিয়ে, পুনরায় ঢাকনা চাপা দিয়ে দিয়েছিলাম।

স্লো আঁচে সোনালী রঙ ধরা পর্যন্ত লাউয়ের খোসা ভেজে নামিয়ে নিয়ে, গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করবেন, এই পদের মধ্যে একটা অদ্ভুত সুন্দর গন্ধ থাকে, যেটি আমার শৈশব মনে করিয়ে দেয়।

- দ্বিতীয় রেসিপি:-
যে মুহূর্তে লাউয়ের খোসা ভাজার জন্য ঢাকনা চাপা দিয়েছিলাম প্রথমবার, সেই ফাঁকে লাউয়ের টুকরোগুলো ধুয়ে এক অংশ চৌক করে কেটে নিয়েছিলাম মুসুরির ডালে দেবার জন্য, আর বাকি তিনটুকরো লাউয়ের নিরামিষ তরকারি করবার জন্য!

প্রথমে এক্ টুকরো লাউ দিয়ে ডাল রান্নার পদ্ধতি ভাগ করা যাক!
ছবিতে কিভাবে ডালের জন্য লাউ টুকরো করে কেটেছি সেটি উল্লেখিত।
![]() | ![]() |
|---|
আমি প্রেসার কুকারে ডাল রান্না করি না, কাজেই, কড়াইতে ভালো করে ধুয়ে মুসিরির ডাল বসিয়ে দিয়েছিলাম, তাতে নুন দিয়ে দিয়েছিলাম,
এবং ঢাকনা চাপা দিয়ে নিম্ন আঁচে ডাল সেদ্ধ হয়ে আসলে, অর্থাৎ যখন নব্বই শতাংশ ডাল সেদ্ধ হয়ে যাবে, সেই মুহূর্তে কেটে রাখা লাউয়ের টুকরো ডালে দিয়ে দিয়েছিলাম।

এরপর, ডাল পুরো সেদ্ধ হয়ে গেলে, লাউয়ের টুকরো একটি অন্য পাত্রে তুলে রেখে ডালের কাটা দিয়ে ডাল ভালো করে ফেটিয়ে নিয়ে তাতে, লবণের পরিমাণ দেখে নিয়ে, হলুদ গুঁড়ো দিয়ে দিয়েছিলাম।
এবার অন্য পাত্রে তুলে রাখা লাউয়ের টুকরো পুনরায় ডালের মধ্যে মিশিয়ে দিয়েছিলাম।
কড়াই মাঝারি আঁচে বসিয়ে, তাতে সামান্য সরষের তেল দিয়ে, তেল গরম হলে পাঁচফোড়ন আর, গোটা শুকনো লঙ্কা ভেঙে দিয়ে, কয়েক সেকেন্ড নাড়িয়ে নিয়ে ডাল ঢেলে দিতে হবে।
এবার আঁচ বাড়িতে ডাল ফুটে উঠলে নামিয়ে নিতে হবে।

আমি ডাল নামিয়ে তাতে গন্ধরাজ লেবুর (কাফির লাইম জেস্ট) খোসা গ্রেট করে দিয়েছিলাম।
ব্যাক্তিগত ভাবে, চিকেন হোক বা মুসূরির ডাল আমি কাফির লাইম ব্যবহার করে রান্না করে থাকি।

- তৃতীয় রেসিপি:-
লাউয়ের অবশিষ্ট তিন ভাগকে আমি কুচিয়ে নিয়েছি, কিভাবে? ছবিতে উল্লেখিত।
![]() | ![]() |
|---|

এবার একটি কড়াই বসিয়ে, তারমধ্যে দুই টেবিল চামচ সরষের তেল দিয়ে দিয়েছিলাম!
তেল গরম হলে, তাতে একটি তেজপাতা, গোটা শুকনো লঙ্কা একটি এবং অর্ধেক চা চামচ গোটা জিরে , ১/৪ চা চামচ হিং ফোড়ন দিয়ে, দু তিন সেকেন্ড নাড়িয়ে, কুচিয়ে রাখা লাউ দিয়ে দিয়েছিলাম।
আঁচ কমিয়ে, খুন্তি দিয়ে ভালোভাবে লাউগুলো তেলের সাথে মিশিয়ে নিয়ে, ঢাকনা চাপা দিয়ে, আঁচ কমিয়ে দিতে হবে।
এরপর মিনিট পাঁচেক বাদে ঢাকনা তুলে দেখবেন, লাউ থেকে জল বেরিয়েছে, পাশাপশি লাউ এর টুকরো ট্রান্সপারেন্ট গিয়ে গেছে!
![]() | ![]() |
|---|

এবার, একে একে, লবণ(পরিমাণ মতো), হলুদ গুঁড়ো(১ চা চামচ), সামান্য মিষ্টি, আদাগুড়ো(১/২ চা চামচ), জিরে গুঁড়ো(১ চা চামচ), নিজের পছন্দ অনুযায়ী চেরা কাঁচালঙ্কা(৫-৬ টি), এবং ভালকরে ধুয়ে রাখা মুগডাল(১/৪ কাপ) দিয়ে দিয়েছিলাম।
সমস্ত মশলা লাউয়ের মধ্যে মিশিয়ে, আবার ঢাকনা চাপা দিয়ে হবে।
বাড়তি জল দেবার প্রয়োজন নেই, যদি লাউ কচি এবং টাটকা হয়।
এবার, লাউয়ের জলেই ডাল সেদ্ধ হয়ে যাবে, আঁচ কমিয়ে রাখতে হবে, রান্নার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |

প্রতি পাঁচ থেকে ছয় মিনিট অন্তর ঢাকনা তুলে, সমস্ত উপকরণ উল্টে পাল্টে মিশিয়ে নিতে হবে!
এইভাবে যখন ডাল পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে, জল শুকিয়ে আসবে, নামানোর আগে ঘী দিয়ে আরো একবার মিশিয়ে নিয়ে, ঢাকনা চাপা দিয়ে আঁচ বন্ধ করে দিয়ে আরো খানিকক্ষণ রেখে, নামিয়ে নিতে হবে।
এই ছিল, একটি সবজি দিয়ে তৈরি তিনটি রেসিপি।
আজকে, আমি আলাদা করে, উপকরণ এবং তার পরিমাপ উল্লেখ করিনি, কারণ তিনটি রান্নার কোনোটাতেই বিশেষ মশলা প্রয়োগ করিনি।
যেটুকু, করেছি সবটাই তৈরির পদ্ধতিতে উল্লেখিত।
এই গরমে, তেল মশলার যুক্ত খাবার এর পাশাপশি যদি এই ধরনের হালকা খাবার এক্ দুদিন খাবারের তালিকায় যুক্ত করেন, তাহলে দেখবেন, পেটের অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে সক্ষম হবেন।














