🕌 ইসলাম ও আধুনিক জীবন || পর্ব ২: প্রযুক্তি ও ঈমান
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি জায়গায় ঢুকে গেছে। ঘুম থেকে ওঠার পর Smartphone হাতে নেওয়া থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো না কোনোভাবে Technology আমাদের সঙ্গে থাকে। কাজের জন্য Computer, যোগাযোগের জন্য Messenger, শেখার জন্য YouTube, খবরের জন্য Internet, Business পরিচালনার জন্য বিভিন্ন Online Platform এবং এখন Artificial Intelligence পর্যন্ত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে।
প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করেছে। কয়েক সেকেন্ডে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যোগাযোগ করা যায়। ঘরে বসে শিক্ষা নেওয়া যায়। Online Business করা যায়। নতুন কোনো বিষয় শেখার জন্য হাজার হাজার বই ও ভিডিও পাওয়া যায়। এমনকি আমরা এমন অনেক কাজ করতে পারি, যেগুলো কয়েক বছর আগেও কল্পনা করা কঠিন ছিল।
কিন্তু এই সুবিধার পাশাপাশি একটা বড় প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি যত দ্রুত আমাদের জীবনে ঢুকছে, আমাদের ঈমান কি সেই গতিতে শক্ত হচ্ছে? কারণ Technology নিজে ভালো বা খারাপ নয়। এটা একটা মাধ্যম। আমরা সেটাকে কী কাজে ব্যবহার করছি, সেটাই আসল বিষয়। একটা Smartphone দিয়ে কুরআন পড়া যায়, আবার একই Smartphone দিয়ে এমন কিছু দেখা যায় যা একজন মানুষের ঈমান ও চরিত্রের ক্ষতি করতে পারে। Internet দিয়ে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যায়, আবার মিথ্যা তথ্য, গীবত, অপবাদ এবং অশ্লীলতার মধ্যেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যায়।
একটা Computer দিয়ে হালাল Business করা যায়, আবার প্রতারণার পথও বেছে নেওয়া যায়। AI দিয়ে নতুন কিছু শেখা যায়, মানুষের উপকার করা যায়, কাজ সহজ করা যায়। আবার মিথ্যা তথ্য তৈরি করা, প্রতারণা করা বা অন্যের ক্ষতি করার জন্যও ব্যবহার করা সম্ভব। তাই প্রশ্নটা হওয়া উচিত নয় যে Technology ব্যবহার করব কি না। প্রশ্ন হওয়া উচিত, Technology ব্যবহার করার সময় আমি কি আমার ঈমানকে সঙ্গে রাখছি? একজন মুসলিমের জন্য এই প্রশ্নটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যখন একা থাকি, তখন আমাদের Smartphone এর স্ক্রিনে কী দেখি সেটা হয়তো পৃথিবীর কেউ জানে না। আমরা কী Search করি, কোন ভিডিও দেখি, কোন মানুষের Profile দেখি, কোন Comment করি, এসব অনেক সময় অন্য কেউ দেখতে পায় না। কিন্তু একজন মুসলিম বিশ্বাস করে, মানুষের চোখ এড়িয়ে গেলেও আল্লাহর দৃষ্টি এড়ানো যায় না। এই বিশ্বাসটাই একজন মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
মানুষ যখন বুঝতে শেখে যে কেউ না দেখলেও আল্লাহ দেখছেন, তখন তার আচরণ পরিবর্তন হতে শুরু করে। তখন Social Media তে কাউকে অপমান করার আগে সে ভাবে। কারও সম্পর্কে মিথ্যা কথা Share করার আগে ভাবে। নিষিদ্ধ কিছু দেখার আগে ভাবে। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার আগে ভাবে। কারণ তখন তার সামনে শুধু Smartphone থাকে না।
তার সামনে থাকে আল্লাহর প্রতি জবাবদিহিতার অনুভূতি। আজকের পৃথিবীতে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়তো Technology নয়। বরং অতিরিক্ত Technology এবং দুর্বল Self Control। আমরা বলি, পাঁচ মিনিট Facebook দেখব। কিন্তু সেই পাঁচ মিনিট কখন এক ঘণ্টা হয়ে যায় বুঝতেই পারি না। আমরা বলি, একটু YouTube দেখব। তারপর একটার পর একটা ভিডিও আসতে থাকে। আমরা বলি, একটু TikTok বা Reels দেখব। তারপর আমাদের মূল্যবান সময়ের একটা বড় অংশ সেখানেই চলে যায়।
সময় চলে যায়, কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না। এখানে আমাদের নিজেদের একটা প্রশ্ন করা দরকার। আমি কি ফোন ব্যবহার করছি, নাকি ফোন আমাকে ব্যবহার করছে? প্রযুক্তি যদি আমাদের কাজ সহজ করে, জ্ঞান বাড়ায়, উপার্জনের সুযোগ তৈরি করে এবং মানুষের উপকার করতে সাহায্য করে, তাহলে সেটা আমাদের জন্য উপকারী হতে পারে। কিন্তু Technology যদি আমাদের নামাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, ঘুম নষ্ট করে, সময় নষ্ট করে, চোখ ও মনকে অসুস্থ করে এবং আমাদের গুনাহের দিকে নিয়ে যায়, তাহলে আমাদের ব্যবহারের পদ্ধতি পরিবর্তন করা দরকার।
ইসলাম আমাদের সময়ের গুরুত্ব বুঝিয়েছে। কুরআনে আল্লাহ সূরা আল আসরে সময়ের শপথ করেছেন। সেখানে মানুষের ক্ষতির কথা বলা হয়েছে, তবে ঈমান, সৎকাজ, সত্যের উপদেশ এবং ধৈর্যের মাধ্যমে মুক্তির পথ দেখানো হয়েছে। এই বিষয়টা আমাদের Technology ব্যবহারের ক্ষেত্রেও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের হাতে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা। একজন ধনী মানুষেরও ২৪ ঘণ্টা। একজন গরিব মানুষেরও ২৪ ঘণ্টা। একজন Businessman এরও ২৪ ঘণ্টা। একজন Student এরও ২৪ ঘণ্টা। পার্থক্য তৈরি হয় আমরা সেই সময়টা কীভাবে ব্যবহার করছি তার ওপর। ধরুন, একজন মানুষ প্রতিদিন তিন ঘণ্টা শুধু অপ্রয়োজনীয় Social Media Content দেখে। মাসে সেটা প্রায় ৯০ ঘণ্টা হয়ে যায়। বছরে সেটা এক হাজার ঘণ্টারও বেশি।
এক হাজার ঘণ্টায় একজন মানুষ নতুন Skill শিখতে পারে। একটি Business সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারে। অনেক বই পড়তে পারে। কুরআন ও ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে।নিজের Career এর জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। পরিবারকে সময় দিতে পারে।অথবা সেই সময়টা শুধু Scroll করেই শেষ হয়ে যেতে পারে।তাই Technology ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের একটা সুন্দর Balance দরকার। আমরা Technology ছেড়ে দেব না। বরং Technology কে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখব।
আজকের একজন মুসলিম চাইলে Smartphone কে তার একটি ছোট Islamic Library বানাতে পারে। কুরআন, Hadith, Tafsir, Islamic Books এবং শিক্ষামূলক অনেক কিছু হাতের কাছে রাখা সম্ভব। চাইলে প্রতিদিন কিছু সময় Online Learning এর জন্য রাখা যায়। চাইলে AI ব্যবহার করে নতুন Skill শেখা যায়। চাইলে Internet ব্যবহার করে হালাল Business শুরু করা যায়। চাইলে নিজের কাজকে বিশ্বের বিভিন্ন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। অর্থাৎ Technology আমাদের জন্য একটা বড় সুযোগও হতে পারে। কিন্তু সুযোগের সঙ্গে দায়িত্বও আসে।
আমরা যা দেখি, যা শুনি, যা বলি এবং যা Share করি, সেগুলোও আমাদের চরিত্রের অংশ হয়ে যায়। অনেক মানুষ Online এ এমন কিছু কথা বলে, যা সে বাস্তবে সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারত না। কারণ Screen এর আড়ালে থেকে মানুষ অনেক সময় নিজের আচরণের সীমা ভুলে যায়। কাউকে অপমান করা, গালি দেওয়া, মিথ্যা অভিযোগ করা, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ করা, গীবত করা এবং অশালীন মন্তব্য করা অনেকের কাছে খুব সাধারণ হয়ে গেছে।
কিন্তু একজন মুসলিমের জন্য Online আর Offline চরিত্র আলাদা হওয়ার কথা নয়। আমি বাস্তবে যেমন মানুষ, Internet এর মধ্যেও আমার চরিত্র তেমন হওয়া উচিত। কারণ একজন মুসলিমের পরিচয় শুধু তার পোশাকে নয়, তার কথায়ও। শুধু তার নামাজে নয়, তার আচরণেও। শুধু মসজিদের মধ্যে নয়, তার Online জীবনেও। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো Technology আমাদের ঈমানকে শুধু দুর্বলই করতে পারে এমন নয়। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে Technology আমাদের ঈমানকে আরও শক্তিশালী করতেও পারে।
ধরুন, আপনি কাজের ব্যস্ততার মধ্যে আছেন। আপনার ফোনে নামাজের সময়ের Reminder আছে। আজান শুনে আপনি কাজ থামিয়ে নামাজ পড়লেন। এটা Technology কে ঈমানের কাজে ব্যবহার করা। আপনি প্রতিদিন কুরআনের একটি আয়াত পড়ার জন্য Reminder দিলেন। এটা Technology কে ঈমানের কাজে ব্যবহার করা। আপনি কোনো Islamic Lecture শুনে নিজের জীবন সম্পর্কে ভাবলেন। এটাও Technology কে ভালো কাজে ব্যবহার করা। আপনি কোনো Skill শিখলেন এবং সেই Skill দিয়ে হালাল উপার্জন শুরু করলেন। এটাও Technology এর সুন্দর ব্যবহার। তাহলে Technology আমাদের শত্রু নয়। আমাদের সিদ্ধান্তই Technology কে আমাদের জন্য ভালো অথবা ক্ষতিকর করে তোলে।
আজকের দিনে আরেকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হলো AI। AI এখন মানুষের কাজের ধরন পরিবর্তন করছে। লেখা, ছবি, Research, Programming, শিক্ষা, Business এবং বিভিন্ন ধরনের কাজ সহজ হয়ে যাচ্ছে। একজন মুসলিম AI ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু তাকে নিজের বিবেকও ব্যবহার করতে হবে। AI দিয়ে যদি কোনো কাজ সহজ হয়, শেখা যায়, সময় বাঁচে এবং মানুষের উপকার হয়, তাহলে সেটা ভালো কাজে লাগানো সম্ভব। কিন্তু AI ব্যবহার করে যদি মিথ্যা পরিচয় তৈরি করা হয়, কাউকে প্রতারণা করা হয়, অন্যের কাজ চুরি করা হয় বা মানুষের ক্ষতি করা হয়, তাহলে Technology উন্নত হলেও ব্যবহারকারীর কাজ ভালো হয়ে যায় না।
আমাদের মনে রাখতে হবে, Technology উন্নত হওয়ার সঙ্গে মানুষের নৈতিকতা automatically উন্নত হয় না। একটা মানুষ হাতে অত্যাধুনিক Smartphone নিয়ে খুব খারাপ কাজ করতে পারে। আবার একজন মানুষ সাধারণ একটা ফোন দিয়েও মানুষের উপকার করতে পারে। তাই আমাদের Technology এর পাশাপাশি Character তৈরি করতে হবে। আমাদের সন্তানদেরও শুধু Technology শেখালে হবে না। তাদের Technology ব্যবহারের নৈতিকতাও শেখাতে হবে।
কোন Website ভালো? কোন Content এড়িয়ে চলতে হবে? কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করা উচিত? কীভাবে Online এ অন্যকে সম্মান করতে হয়? কীভাবে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে হয়? কীভাবে Technology কে শিক্ষা এবং ভালো কাজের জন্য ব্যবহার করা যায়? এসব শেখানোও বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সবশেষে একটা কথা মনে রাখা দরকার। আমরা ২০২৬ সালে বাস করছি। পৃথিবী আরও আধুনিক হবে। আগামী দিনে Technology আরও শক্তিশালী হবে। AI আরও উন্নত হবে। মানুষের জীবন আরও Digital হবে।
হয়তো এমন একটা সময় আসবে যখন আজকের অনেক Technology আমাদের কাছে খুব সাধারণ মনে হবে। কিন্তু মানুষের হৃদয়ের প্রয়োজন বদলাবে না। মানুষ এখনও শান্তি চাইবে। ভালোবাসা চাইবে। পরিবার চাইবে। নিরাপত্তা চাইবে। ক্ষমা চাইবে। আর একজন মুমিন তার সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি চাইবে। তাই Technology যতই উন্নত হোক, আমাদের হৃদয়ের দিকনির্দেশনা যেন হারিয়ে না যায়। আমরা Technology ব্যবহার করব, কিন্তু Technology আমাদের ঈমান নিয়ন্ত্রণ করবে না। আমরা Internet ব্যবহার করব, কিন্তু Internet আমাদের সময়ের মালিক হবে না। আমরা AI ব্যবহার করব, কিন্তু AI আমাদের বিবেকের জায়গা নেবে না।
আমরা আধুনিক হব, কিন্তু আমাদের চরিত্র হারাব না। আমরা দুনিয়ার সঙ্গে এগিয়ে যাব, কিন্তু আল্লাহর পথ থেকে সরে যাব না। কারণ একজন মুসলিমের আসল শক্তি তার হাতে থাকা Technology নয়। তার আসল শক্তি হলো তার ঈমান। আল্লাহ আমাদের Technology, জ্ঞান, সময় এবং সামর্থ্যকে ভালো কাজে ব্যবহার করার তাওফিক দিন। আমাদের চোখ, কান, মন এবং অন্তরকে হেফাজত করুন। আধুনিক পৃথিবীর সব সুযোগ গ্রহণ করেও যেন আমরা আমাদের দ্বীন এবং ঈমানকে শক্তভাবে ধরে রাখতে পারি। আমিন। 🌙
চলবে...
🕌 ইসলাম ও আধুনিক জীবন || পর্ব ৩: Smartphone ও ইসলাম
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: 🕌 ইসলাম ও আধুনিক জীবন || পর্ব ২: প্রযুক্তি ও ঈমান
কমিউনিটি : সাহিত্য ক্যানভাস
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ...



Esto es genial, la frase ‘প্রযুক্তি যত দ্রুত আমাদের জীবনে ঢুকছে, আমাদের ঈমান কি সেই গতিতে শক্ত হচ্ছে?’ me hizo reflexionar. No es lo mismo usar el smartphone para leer el Qur’an que para absorber contenido dañino, la diferencia se nota. 👍
Congratulations!
Your post has been selected and upvoted by the SteemPro Team 🚀
Explore more on SteemPro:
🌐 https://www.steempro.com
🎮 Play SteemHeights: https://www.steempro.com/games/steem-heights
💬 Join our Discord: https://discord.gg/Bsf98vMg6U
💪 Supporting the growth of the Steem ecosystem together.
🟩 Vote for witness faisalamin:
https://steemitwallet.com/~witnesses
https://www.steempro.com/witnesses#faisalamin
This is an automated message.