এখন থেকে শুধু নিজের জন্য বাঁচবো
আজকের লেখাটা খুব সাজানো কোনো গল্প না। আজ লিখছি নিজের ভেতরের জমে থাকা একটা সিদ্ধান্তের কথা। অনেক দিন ধরে যেটা মনে মনে ভাবছিলাম, কিন্তু স্বীকার করার সাহস পাইনি।জীবনে একটা সময় আসে, যখন মানুষ হঠাৎ করে বুঝে যায়, সে আসলে খুব ক্লান্ত। শরীরের ক্লান্তি না, এইটা হয় মনের ক্লান্তি। এই ক্লান্তি ঘুমে যায় না, বিশ্রামে যায় না। কারণ এই ক্লান্তির জন্ম হয় বছরের পর বছর নিজেকে উপেক্ষা করার ভেতর দিয়ে। আমি সেই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি।
আমি এমন একজন ছিলাম, যে সব সময় অন্যদের কথা ভেবেছে। কে কষ্ট পাবে, কে রাগ করবে, কে ভুল বুঝবে, এই ভয়েই নিজের সিদ্ধান্তগুলো বারবার বদলেছি। নিজের ইচ্ছেগুলোকে চাপা দিয়েছি এই ভেবে যে, আমি না হয় একটু সহ্য করলাম। কিন্তু কেউ আমাকে কখনো বলেনি, তুমি কেমন আছো?তুমি কি ঠিক আছো? কারণ আমি সব সময় ঠিক থাকার অভিনয় করেছি।
জীবনের বড় একটা সময় কেটে গেছে সবাইকে ধরে রাখার চেষ্টায়। সম্পর্ক, মানুষ, দায়িত্ব সবকিছুকে আঁকড়ে ধরেছি এই ভয়ে যে, যদি আমি একটু বদলাই, যদি আমি নিজের কথা বলি, তাহলে হয়তো আমি একা হয়ে যাবো। কিন্তু আজ বুঝি, আমি এমনিতেই একা ছিলাম। ভিড়ের মধ্যেও একা।
আমি দেখেছি, মানুষ আপনার ত্যাগে অভ্যস্ত হয়ে যায়। আপনি যত বেশি দেন, তারা তত কম ভাবতে শেখে। আপনি যত বেশি সহ্য করেন, তারা তত বেশি চাপাতে শেখে। এক সময় আপনার মূল্য আর মানুষ হিসেবে থাকে না, অভ্যাসে পরিণত হয়। এই সত্যিটা মানতে কষ্ট হয়। কারণ আমরা বিশ্বাস করতে চাই আমাদের ভালোবাসা, আমাদের ত্যাগ একদিন না একদিন বুঝবে সবাই।
কিন্তু বাস্তবতা খুব নিষ্ঠুর। সবাই বোঝে না। সবাই বোঝার চেষ্টা করেও না। একদিন এসে দেখবেন, আপনি নিজেই আর নিজেকে চিনতে পারছেন না। আয়নায় তাকিয়ে নিজের চোখের দিকে তাকানো কঠিন লাগে। কারণ সেখানে আনন্দ নেই, শান্তি নেই শুধু একরাশ প্রশ্ন।
আমি কোথায় ভুল করলাম?
কেন আমি এতটা ভেঙে পড়লাম?
উত্তরটা খুব সোজা, আমি নিজেকে শেষ করে দিয়েছিলাম অন্যদের ভালো রাখতে গিয়ে। আজ তাই একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে শুধু নিজের জন্য বাঁচবো। এই কথাটা বলা সহজ, মানা কঠিন। কারণ আমাদের শেখানো হয় নিজের কথা ভাবা মানেই স্বার্থপরতা। কিন্তু কেউ শেখায় না, নিজেকে একদম ফুরিয়ে ফেলা মানেই আত্মহত্যার আরেকটা ধীর সংস্করণ।
আমি আর সেটা চাই না।
আমি আর এমন জায়গায় নিজেকে রাখবো না, যেখানে আমাকে ছোট হতে হয়। যেখানে আমার অনুভূতিগুলো গুরুত্ব পায় না। যেখানে আমাকে বারবার প্রমাণ করতে হয় যে, আমি খারাপ মানুষ না।আমি এখন শিখছি “না” বলতে। সব জায়গায় না, সবার জন্য না কিন্তু নিজের শান্তির জন্য “না”।
আমি শিখছি একা থাকতে। কারণ একা থাকা আর একা হয়ে যাওয়া এক জিনিস না। একা থাকা মানে নিজের সাথে সৎ থাকা। আমি শিখছি সীমা টানতে। সবাই আমার জীবনের ভেতরে ঢুকতে পারবে না। সবাই সব জানবে না। সবাই সব পাওয়ার অধিকার রাখে না। হয়তো এই নতুন পথটা নিঃসঙ্গ। হয়তো কিছু মানুষ দূরে চলে যাবে। হয়তো কেউ বলবে, আগের মতো আর নেই।
কিন্তু সত্যি বলতে কি , আগের মতো থাকাটাই আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল। আমি আর আগের মতো থাকতে চাই না। আমি শান্ত থাকতে চাই। আমি চাই, রাতে ঘুমানোর আগে নিজের সাথে কথা বলতে পারি। চাই, সকালে উঠে নিজেকে বোঝাতে না হয় যে আজও কেন আমাকে নিজেকে ভুলে যেতে হবে। আমি জানি না সামনে কী আছে। আমি জানি না এই সিদ্ধান্ত ঠিক না ভুল।
কিন্তু এটুকু জানি, নিজেকে ভালোবাসা কোনো অপরাধ না। নিজের মানসিক শান্তিকে বেছে নেওয়া কোনো দুর্বলতা না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমার ভেতরে একটা অদ্ভুত নীরবতা নেমে এসেছে। যেন অনেক দিন পর মাথার ভেতরের কোলাহল একটু থেমেছে। আগে সব সময় মনে হতো, কিছু একটা করা দরকার, কাউকে বোঝানো দরকার, কোথাও নিজেকে প্রমাণ করা দরকার। এখন আর সেই তাড়া নেই। এখন শুধু ইচ্ছে করে, নিজেকে একটু সময় দিতে।
আমি বুঝতে শিখেছি ,সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া জরুরি না। সব ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্বও আমার না। কেউ যদি আমাকে ভুল বোঝে, হয়তো সেটাও তাদের সমস্যা, আমার নয়। এই উপলব্ধিটা সহজে আসেনি। এসেছে অনেক অপমান, অনেক না বলা কষ্ট, আর অনেক রাতের নিঃশব্দ কান্নার ভেতর দিয়ে।
আগে ভাবতাম, সম্পর্ক মানেই সব সহ্য করা। এখন বুঝি, সম্পর্ক মানে সম্মান। যেখানে সম্মান নেই, সেখানে ভালোবাসা টিকে থাকতে পারে না। শুধু দায়িত্ব আর অভ্যাস দিয়ে কোনো সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখা যায় না। একটা সময় মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আর সেই ক্লান্তিটাই ধীরে ধীরে মানুষটাকে নিঃশেষ করে দেয়। আজ আমি আর কারো কাছ থেকে অযথা প্রত্যাশা রাখি না। প্রত্যাশা যত কম, কষ্টও তত কম এই সত্যিটা আমি অনেক দেরিতে শিখেছি। এখন কেউ পাশে থাকলে ভালো লাগে, না থাকলেও নিজেকে দোষ দিই না। সবাই সব সময় থাকবে, এই ভাবনাটা আসলে নিজের ওপরই বাড়তি চাপ দেওয়া।
আমি এখন ছোট ছোট জিনিসে শান্তি খুঁজে পাই। চুপচাপ বসে থাকা, আকাশের দিকে তাকানো, নিজের চিন্তাগুলোকে সাজানো এই সাধারণ মুহূর্তগুলোই এখন আমার সবচেয়ে বড় আশ্রয়। আগে যেগুলোকে সময় নষ্ট মনে হতো, এখন সেগুলোই বাঁচিয়ে রাখে।এই পথে হাঁটা সহজ না। মাঝেমধ্যে পুরোনো অভ্যাস ফিরে আসে। আবার কাউকে বেশি গুরুত্ব দিতে ইচ্ছে করে, আবার নিজেকে ভুলে যেতে মন চায়। তখন নিজেকে থামাই। মনে করিয়ে দিই, এই যাত্রাটা শুরু করেছি নিজের জন্য।
আমি জানি না, এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে। কিন্তু এটুকু জানি, চেষ্টা না করলে কোনোদিনই জানা যাবে না। অন্তত এবার নিজেকে সুযোগ দিচ্ছি। যদি কেউ এতে দূরে সরে যায়, সেটাও মেনে নেওয়ার শক্তি এখন আমার আছে। এই লেখাগুলো কাউকে দোষ দেওয়ার জন্য না। এগুলো শুধু আমার নিজের কাছে নিজের স্বীকারোক্তি। হয়তো কেউ পড়বে, হয়তো পড়বে না। কিন্তু আমি লিখেছি, আর সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এখন থেকে আমি বাঁচবো।
চুপচাপ, ধীরে, নিজের মতো করে।
শুধু নিজের জন্য।
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: এখন থেকে শুধু নিজের জন্য বাঁচবো
কমিউনিটি : সাহিত্য ক্যানভাস
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ...




High-Yield Curation by @steem-seven
Your content has been supported!
Maximize your passive income!
Delegate your SP to us and earn high rewards
Click here to see our Tiered Reward System
We are the hope!
Congratulations!
Your post has been selected and upvoted by the SteemPro Team 🚀
Explore more on SteemPro:
🌐 https://www.steempro.com
🎮 Play SteemHeights: https://www.steempro.com/games/steem-heights
💬 Join our Discord: https://discord.gg/Bsf98vMg6U
💪 Supporting the growth of the Steem ecosystem together.
🟩 Vote for witness faisalamin:
https://steemitwallet.com/~witnesses
https://www.steempro.com/witnesses#faisalamin
This is an automated message.