শিরোনাম: "বন্ধুত্বের সেতু" গল্পের পটভ

বন্ধুত্বের সেতু
পটভূমি
একটি ছোট গ্রাম, নাম গোপালপুর। এখানে নদীর ধারে সবুজ মাঠ, গাছপালা আর ফুলের বাগান ছিল। গ্রামটি ছিল শান্ত ও সুন্দর, কিন্তু সেখানে ছিল দুটি ভিন্ন সম্প্রদায়। এক সম্প্রদায়ের মানুষরা ছিল কৃষক, আর অন্য সম্প্রদায়ের মানুষরা ছিল মৎস্যজীবী। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিল এক ধরনের অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্ব।
গ্রামের মাঝখানে একটি পুরনো বাঁশের সেতু ছিল, যা দুই সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করত। কিন্তু সেতুটি ছিল ভঙ্গুর এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা হয়নি। দুই সম্প্রদায়ের লোকেরা একে অপরকে এড়িয়ে চলত, এবং সেতুর দিকে তাকানোর সময়ও তাদের মনে হত যেন একটি অদৃশ্য দেওয়াল রয়েছে।
চরিত্র
- রহিম: একজন কৃষক, সদালাপী ও বন্ধুত্বপূর্ণ। সে বিশ্বাস করে যে, মানুষকে একত্রিত করা সম্ভব।
- সারা: একজন মৎস্যজীবী, সে সাহসী এবং স্বাধীনচেতা। কিন্তু সে তার সম্প্রদায়ের প্রতি খুবই নিষ্ঠাবান।
- গ্রামবাসীরা: কৃষক ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের সদস্যরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করে এসেছে।
গল্প
একদিন, রহিম তার জমিতে কাজ করছিল। হঠাৎ সে একটি মাছ ধরার জাল দেখতে পেল, যা নদীর পাড়ে পড়ে ছিল। সে বুঝতে পারল যে, এটি সারা ও তার সম্প্রদায়ের। রহিম সিদ্ধান্ত নিল, সারা ও তার সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
রহিম সেতুর দিকে গেল, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর সে দেখল সারা জাল তুলছে। প্রথমে তাদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা ছিল, কিন্তু রহিম সাহস করে বলল, "হ্যালো, সারা! এই জালটি কি তোমার?" সারা কিছুক্ষণ চুপ করে রহিমের দিকে তাকাল, তারপর বলল, "হ্যাঁ, এটা আমার। তুমি এখানে কী করছ?"
রহিম বলল, "আমি ভাবছিলাম, আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে আমাদের দুজনেরই লাভ হবে।" সারা কিছুক্ষণ চিন্তা করল এবং তারপর রাজি হল। তারা একসঙ্গে কাজ শুরু করল, এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে লাগল।
গ্রামের অন্যান্য মানুষরা তাদের বন্ধুত্ব দেখে অবাক হল। তারা ভাবতে লাগল, যদি রহিম এবং সারা একত্রিত হতে পারে, তাহলে কি তারা তাদের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে?
রহিম ও সারা সিদ্ধান্ত নিল, তারা গ্রামে একটি উৎসবের আয়োজন করবে, যেখানে দুটি সম্প্রদায় একসঙ্গে আসবে। তারা সেতুটিকে মেরামত করার পরিকল্পনা করল এবং সবাইকে دعوت জানাল।
উৎসবের দিন, গ্রামবাসীরা সেতুর ওপর এসে দাঁড়াল। রহিম ও সারা তাদের হাতে হাত রেখে সেতুর ওপর দাঁড়ালেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করল, গান গাইল এবং নাচের আয়োজন করল। সেতুটি শুধু একটি বাঁশের সেতু নয়, এটি হয়ে উঠল বন্ধুত্বের একটি প্রতীক।
উপসংহার
সেতুটি মেরামত হওয়ার পর, গ্রামবাসীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করল। কৃষকরা মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে মাছ কিনতে লাগল, আর মৎস্যজীবীরা কৃষকদের কাছ থেকে শাকসবজি। অবশেষে, গোপালপুর গ্রামটি হয়ে উঠল একটি শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক স্থান।
বন্ধুত্বের সেতু তৈরি হল, যা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তুলল এবং তারা বুঝতে পারল, একসঙ্গে থাকার মধ্যে রয়েছে অশেষ শক্তি।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.