শিরোনাম: "বন্ধুত্বের সেতু" গল্পের পটভ

বন্ধুত্বের সেতু
পটভূমি
একটি ছোট্ট গ্রাম, নাম "নবীনপুর"। এই গ্রামে ছিল দুটি ভিন্ন সম্প্রদায়, "সুরমা" ও "কিরণ"। সুরমা সম্প্রদায়ের লোকেরা ছিল কৃষক, আর কিরণ সম্প্রদায়ের লোকেরা ছিল ব্যবসায়ী। দু'পক্ষের মধ্যে ছিল এক অদৃশ্য দেয়াল, যার কারণে তারা একে অপরের সাথে মেলামেশা করত না।
গ্রামের মাঝখানে ছিল একটি নদী, যার উপর একটি পুরনো সেতু ছিল। সেতুটি ছিল ভাঙাচোরা, কিন্তু তা দিয়েই দু'পক্ষের যোগাযোগ ছিল। একদিন, সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং গ্রামের লোকেরা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যায়।
গল্পের শুরু
গ্রামের দুই তরুণ, রাহুল (সুরমা সম্প্রদায়) ও সুমি (কিরণ সম্প্রদায়) একদিন নদীর তীরে বসে ছিল। তারা দু'জনেই তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্বের অভাব অনুভব করছিল। রাহুল বলল, "আমরা যদি এই সেতুটি মেরামত করতে পারি, তাহলে আমাদের দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্বের সূচনা হতে পারে।"
সুমি বলল, "তুমি ঠিক বলেছ! কিন্তু আমাদের দু'পক্ষের লোকদের একত্রিত করতে হবে।"
বন্ধুত্বের যাত্রা
রাহুল ও সুমি সিদ্ধান্ত নিল যে তারা প্রথমে নিজেদের সম্প্রদায়ের লোকদের সাথে কথা বলবে। তারা গ্রামে একটি সভা ডাকল। সভায় তারা জানাল যে, সেতু মেরামতের মাধ্যমে তারা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে চায়।
প্রথমে, গ্রামবাসীরা দ্বিধায় ছিল। তারা ভাবছিল, "কেন আমরা তাদের সাথে কাজ করব?" কিন্তু রাহুল ও সুমি তাদের হৃদয় থেকে কথা বলল। তারা তাদের বন্ধুত্বের গল্প শেয়ার করল এবং বুঝাল যে একসাথে কাজ করলে তারা আরও শক্তিশালী হতে পারবে।
সেতুর পুনর্নির্মাণ
অবশেষে, দুই সম্প্রদায়ের লোকেরা একত্রিত হল। তারা মিলে কাজ শুরু করল। সুরমা সম্প্রদায়ের কৃষকরা নদীর পাড় থেকে কাঠ সংগ্রহ করল, আর কিরণ সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে এল।
দিনের পর দিন তারা একসাথে কাজ করল, হাসি-ঠাট্টা করল এবং একে অপরকে সাহায্য করল। ধীরে ধীরে সেতুটি পুনর্নির্মিত হতে লাগল।
বন্ধুত্বের ফল
সেতুটি যখন শেষ হল, তখন পুরো গ্রামে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। রাহুল ও সুমি বুঝতে পারল যে, সেতুটি শুধু একটি ভৌত কাঠামো নয়, বরং তাদের বন্ধুত্বের প্রতীক।
সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, গ্রামবাসীরা একত্রিত হল। তারা একে অপরকে আলিঙ্গন করল এবং প্রতিজ্ঞা করল যে তারা একে অপরের সাথে সবসময় সহযোগিতা করবে।
উপসংহার
"বন্ধুত্বের সেতু" কেবল একটি সেতু ছিল না, বরং এটি ছিল এক নতুন সম্পর্কের সূচনা। নবীনপুর গ্রামে সুরমা ও কিরণ সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্বের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হল। তারা বুঝতে পারল যে, একসাথে কাজ করলে যে কোনও বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
এভাবেই বন্ধুত্বের শক্তিতে তারা নতুন করে জীবন শুরু করল, যেখানে ভেদাভেদ নেই, বরং আছে একতা ও ভালোবাসা।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.