**গল্পের বিষয়: "বন্ধুত্বের সেতু"** গল্পের প

বন্ধুত্বের সেতু
এক গ্রামে ছিল দুই বন্ধু, রাহুল এবং সোহান। তারা ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছে। তাদের বন্ধুত্ব ছিল অটুট, কিন্তু গ্রামের মধ্যে একটি নদী ছিল, যা তাদের দুই পরিবারকে আলাদা করে রেখেছিল। নদীটি ছিল গভীর এবং ভীষণ বেগে বইত। তাই তারা কখনোই একে অপরের বাড়িতে যেতে পারত না।
একদিন, রাহুল ও সোহান সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা নদীর উপর একটি সেতু বানাবে। তারা জানত যে এই কাজটি সহজ হবে না, কিন্তু তাদের বন্ধুত্বের জন্য তারা সবকিছু করতে প্রস্তুত ছিল। তারা শুরু করে কাঠ ও বাঁশ সংগ্রহ করতে। প্রতিদিন বিকেলে তারা নদীর পাড়ে গিয়ে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করত।
সপ্তাহের পর সপ্তাহ চলে গেল, এবং সেতুর কাজ এগিয়ে চলল। কিন্তু একদিন হঠাৎ করে একটি ঝড় শুরু হলো। প্রবল বৃষ্টির কারণে নদীর জল বেড়ে গেল এবং তাদের সেতুর কাজ প্রায় ভেঙে গেল। রাহুল হতাশ হয়ে পড়ল এবং বলল, “এখন তো আমাদের সেতু বানানো সম্ভব নয়। আমরা কি আর চেষ্টা করব?”
সোহান বলল, “হাল ছেড়ে দিলে হবে না। আমাদের বন্ধুত্বের জন্য এই সেতু বানাতে হবে। আমরা যদি একসাথে থাকি, তবে সবকিছুই সম্ভব।”
এই কথায় রাহুলের মনে নতুন আশা জাগল। তারা আবার কাজ শুরু করল। তারা একসাথে কঠোর পরিশ্রম করতে লাগল। অবশেষে, কয়েক মাসের পর তারা সেতুটি সম্পূর্ণ করল। সেতুটি ছিল মজবুত এবং সুন্দর। তারা আনন্দে উল্লাস করতে লাগল।
সেতু নির্মাণের পর, রাহুল এবং সোহান একে অপরের বাড়িতে যেতে লাগল। তারা একসাথে খেলাধুলা করত, গল্প বলত এবং নিজেদের জীবন ভাগাভাগি করত। গ্রামের মানুষও তাদের বন্ধুত্ব দেখে অবাক হয়েছিল। তারা বুঝতে পারল, বন্ধুত্বের শক্তি আসলে কত বড়।
একদিন, গ্রামের বড়দিনের উৎসবে, রাহুল এবং সোহান সেতুর উপর দাঁড়িয়ে ঘোষণা করল, “এই সেতু কেবল আমাদের মধ্যে নয়, বরং সকলের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতু। আসুন, আমরা সবাই মিলে একে অপরকে সহযোগিতা করি এবং ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হই।”
গ্রামের সবাই তাদের কথা শুনে উল্লাসিত হলো। সেতুটি শুধু একটি নির্মাণ নয়, বরং বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে উঠল। রাহুল এবং সোহানের বন্ধুত্বের মাধ্যমে গ্রামের সবাই একত্রিত হলো এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহযোগিতার সেতু গড়ে উঠল।
এভাবে, রাহুল এবং সোহানের বন্ধুত্বের সেতু তাদের জীবনকে বদলে দিল এবং গ্রামটিকে এক নতুন আলোর পথে নিয়ে গেল। বন্ধুত্বের শক্তি সত্যিই অসীম, এবং সেই সেতু আজও সকলের হৃদয়ে জীবন্ত।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.