শিরোনাম: "বন্ধুত্বের সেতু" গল্পের পটভ

বন্ধুত্বের সেতু
পটভূমি
গ্রামের নাম শান্তিপুর। এই গ্রামে ছিল দুটি ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। একটি সম্প্রদায় ছিল কৃষক, যারা ধান চাষ করত, আর অপরটি ছিল মৎস্যজীবী, যারা নদীতে মাছ ধরত। এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক দিন ধরেই বিরোধ চলছিল। তাদের মধ্যে ছিল এক ধরনের অবিশ্বাস এবং শত্রুতা। কিন্তু এই বিরোধের মাঝেই জন্ম নিল একটি অদ্ভুত বন্ধুত্ব।
চরিত্র
- রাহুল - কৃষক সম্প্রদায়ের একজন তরুণ, যার স্বপ্ন ছিল একটি বড় ধানের ক্ষেত করা।
- সোফি - মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের একটি মেয়ে, যার বাবা নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাতেন।
- বাবা শান্তি - গ্রামের একজন বৃদ্ধ, যিনি শান্তি ও বন্ধুত্বের পক্ষে ছিলেন।
গল্প
একদিন, রাহুল তার ক্ষেতের পাশে বসে ছিল। হঠাৎ করে একটি মাছ নদী থেকে লাফিয়ে এসে তার কাছে পড়ে গেল। রাহুল মাছটিকে দেখে অবাক হল। সে জানত, এই মাছটি সোফির বাবার। রাহুল মাছটিকে নদীতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
সোফি নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে রাহুলকে দেখল। সে রাহুলের কাছে এসে বলল, "তুমি আমার বাবার মাছ ছেড়ে দিলে কেন?" রাহুল বলল, "মাছটি তোমার বাবার। আমি চাই না তোমাদের ক্ষতি হোক।"
সোফি রাহুলের এই উদারতা দেখে মুগ্ধ হল। তারা একসাথে কথা বলতে শুরু করল এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সূচনা হল।
কিছুদিন পর, গ্রামের মধ্যে এক বিরাট বন্যা এল। কৃষকদের ক্ষেতের ধান ডুবে গেল, আর মৎস্যজীবীদের মাছও নদীতে ভেসে গেল। পুরো গ্রাম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল।
রাহুল এবং সোফি সিদ্ধান্ত নিল, তারা একসাথে কাজ করবে। তারা দুই সম্প্রদায়ের মানুষদের একত্রিত করে। কৃষকরা মৎস্যজীবীদের জন্য খাবার সরবরাহ করল, আর মৎস্যজীবীরা কৃষকদের জন্য মাছ ধরতে সাহায্য করল।
বাবা শান্তি তাদের এই উদ্যোগে খুব খুশি হলেন। তিনি বললেন, "বন্ধুত্বের সেতু তৈরি হচ্ছে। আমরা যদি একসাথে কাজ করি, তবে কোন বিপদ আমাদের ভেঙে দিতে পারবে না।"
উপসংহার
বন্যা শেষ হওয়ার পর, গ্রামবাসীরা বুঝতে পারল যে তারা একসাথে কাজ করলে সবকিছু সম্ভব। রাহুল এবং সোফির বন্ধুত্ব গ্রামে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করল। তারা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি সেতু তৈরি করল, যা আজীবন তাদের বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে রইল।
এইভাবে, শান্তিপুরে বন্ধুত্বের সেতু তৈরি হল, যা আজও গ্রামবাসীদের হৃদয়ে বেঁচে আছে।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.