**গল্পের বিষয়: "সোনালী স্মৃতি"** গল্পের শুরুতে,

সোনালী স্মৃতি
একটি ছোট্ট গ্রামে, যেখানে সবুজ মাঠ ও নদীর পানি ঝিকমিক করে, সেখানে বাস করত একটি মেয়ে, নাম তার মায়া। মায়ার বাবা-মা ছিলেন কৃষক। তাদের জীবন ছিল সাধারণ, কিন্তু মায়ার মনে ছিল অসাধারণ সব স্বপ্ন। সে সব সময় ভাবত, একদিন সে বড় হবে এবং পৃথিবীর সব সুন্দর জায়গা ঘুরে দেখবে।
মায়ার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল গ্রামের পাশে একটি পুরানো বটগাছ। প্রতিদিন স্কুল শেষে সে সেখানে যেত। গাছের নিচে বসে সে তার স্বপ্নের কথা ভাবত, কখনো কখনো বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করত। সেই বটগাছ ছিল তার সোনালী স্মৃতির সাক্ষী।
একদিন, মায়ার বন্ধু রাহুল বলল, "মায়া, আমরা কি বটগাছের নিচে একটি পিকনিক করতে পারি?" মায়া আনন্দিত হয়ে বলল, "অবশ্যই! এটি আমাদের সেরা স্মৃতি হবে।" তারা পরিকল্পনা করতে শুরু করল।
পিকনিকের দিন এল। মায়া ও রাহুলসহ আরও কিছু বন্ধু গাছের নিচে এসে জমায়েত হলো। তারা খাবার নিয়ে এল, গান গাইল, এবং খেলাধুলা করল। সেই দিনটি ছিল তাদের জীবনের অন্যতম সেরা দিন। তারা হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠেছিল, আর বটগাছের ছায়ায় তাদের সোনালী স্মৃতিগুলো তৈরি হচ্ছিল।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে, মায়ার বাবা-মা শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। মায়া হতাশ হয়ে গেল। সে জানত, শহরে গিয়ে তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ বাড়বে, কিন্তু বটগাছের স্মৃতিগুলো তাকে সবসময় তাড়া করবে।
শহরে গিয়ে মায়া নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করল। কিন্তু বটগাছের নিচের সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে তার মন খারাপ হয়ে যেত। একদিন, সে সিদ্ধান্ত নিল যে সে ফিরে যাবে গ্রামে। সেই পুরানো বটগাছের নিচে বসে আবার তার সোনালী স্মৃতিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করবে।
মায়া ফিরে এল গ্রামে। বটগাছটি আগের মতোই দাঁড়িয়ে ছিল। সে গাছের নিচে বসে চোখ বন্ধ করে সেই সকল সুখের স্মৃতি মনে করল। সে বুঝতে পারল, স্মৃতিগুলো কখনো মুছে যায় না; তারা আমাদের মনে চিরকাল বেঁচে থাকে।
সেদিন থেকে মায়া প্রতিজ্ঞা করল, সে তার স্মৃতিগুলোকে কখনো ভুলবে না, বরং সেগুলোকে হৃদয়ে ধারণ করে নতুন স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাবে।
এভাবেই মায়ার জীবনে সোনালী স্মৃতিগুলো তাকে শক্তি দিল, নতুন পথে চলার জন্য।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.