শিরোনাম: "বন্ধুত্বের সেতু" গল্পের শুরুতে আমরা

in #life8 hours ago

image


বন্ধুত্বের সেতু

একটি ছোট্ট গ্রামে ছিল দুটি বন্ধু, রাহুল এবং সুমি। তারা একসাথে স্কুলে যেত, খেলা করত এবং সবকিছু ভাগ করে নিত। তাদের বন্ধুত্ব ছিল অটুট, কিন্তু গ্রামে একটি সমস্যা ছিল। গ্রামের মাঝখানে একটি বড় নদী ছিল, যা তাদের দুই পরিবারকে আলাদা করে রেখেছিল। নদীর অপর পাশে সুমি থাকলেও, রাহুলের বাড়ি ছিল নদীর এই পাশে।

একদিন, সুমি তার বাবার সাথে নদীর পাড়ে বসে ছিল। তিনি তার বাবাকে বললেন, "বাবা, আমি রাহুলের সাথে খেলতে যেতে চাই। কিন্তু নদী পার হতে পারি না।" তার বাবা বললেন, "দেখো, সুমি, নদীটা খুব বিপজ্জনক। তুমি যদি পারাপার করতে চাও, তাহলে তোমাকে একটি সেতু তৈরি করতে হবে।"

সুমি ভাবতে লাগল। সে জানত যে রাহুলও একই ভাবনায় আছে। তাই সে নদীর পাড়ে গিয়ে রাহুলকে বলল, "চলো, আমরা একসাথে একটি সেতু তৈরি করি। তাহলে আমরা সহজেই একে অপরের সাথে দেখা করতে পারব।"

রাহুল প্রথমে একটু দ্বিধায় ছিল, কিন্তু পরে সে সুমির উদ্যম দেখে উৎসাহিত হলো। তারা দুজন মিলে পরিকল্পনা করতে শুরু করল। তারা গ্রামের পুরনো কাঠ এবং বাঁশ সংগ্রহ করতে লাগল। গ্রামের অন্যান্য বন্ধুরাও তাদের কাজে সাহায্য করতে আসল।

দিনের পর দিন পরিশ্রমের পর, অবশেষে তারা একটি শক্তিশালী সেতু তৈরি করতে সক্ষম হলো। সেতুটি নদীর উপর দিয়ে চলে গিয়েছিল, এবং এটি ছিল তাদের বন্ধুত্বের প্রতীক।

সেতু তৈরি হওয়ার পর, সুমি এবং রাহুল একে অপরের সাথে দেখা করতে পারল। তারা একসাথে খেলা করল, গল্প করল এবং তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হলো। গ্রামের অন্যান্য শিশুরাও তাদের সেতু ব্যবহার করে খেলতে আসতে লাগল।

একদিন, গ্রামের প্রধান তাদের সেতুর প্রশংসা করে বললেন, "এই সেতু শুধু একটি কাঠের রাস্তা নয়, এটি আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতু।"

সুমি এবং রাহুল বুঝতে পারল, তাদের বন্ধুত্ব শুধু তাদের জন্য নয়, বরং পুরো গ্রামের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তারা একসাথে নতুন নতুন পরিকল্পনা করতে লাগল এবং তাদের বন্ধুত্বের সেতু গ্রামবাসীদের মধ্যে একতা এবং সহযোগিতার প্রতীক হয়ে গেল।

এভাবেই রাহুল এবং সুমির বন্ধুত্বের সেতু গ্রামটিকে একত্রিত করল এবং তাদের বন্ধুত্ব চিরকাল অটুট রইল।


image


Pixabay.com

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.