শিলাইদহ কুঠিবাড়ি পর্ব-১২
আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন আশা করি ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি আপনাদের দোয়ায়। কুঠিবাড়ি পর্বের আজ আমি চলে এসেছি ১২ নম্বর পর্ব নিয়ে। আগেও আমি আপনাদের মাঝে এক থেকে ১১ নম্বর পর্ব পর্যন্ত শেয়ার করেছি। আজ চলেছি নতুন আরেকটি পর্ব নিয়ে। আশা করি আগের পর্ব গুলোর মতই এই পর্বটিও আপনাদের কাছে খুবই ভালো লাগবে। আমি সবসময় চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে গল্প এবং ফটোগ্রাফি গুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরার। আজও তার ব্যতিক্রম না। তাহলে কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক আমার আজকের পর্বের গল্প।
শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে কাটানো সময় যত এগোচ্ছিল ততই অনুভব করছিলাম এই জায়গাটি কেবল ইট পাথরের একটি স্থাপনা নয় বরং এক বিশাল ভাবনার জগত। এখানে প্রতিটি দেয়াল প্রতিটি জানালা প্রতিটি দরজার ভেতর লুকিয়ে আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিন্তা কর্ম আর অনুভূতির ইতিহাস। কুঠিবাড়ির ভেতরে দাঁড়িয়ে বারবার মনে হচ্ছিল সময় যেন এখানে থমকে গেছে শুধু আমরা বদলে গেছি। কুঠিবাড়ির স্থাপত্যের দিকে তাকালেই বোঝা যায় এটি শুধু সৌন্দর্যের জন্য তৈরি নয় বরং সৌন্দর্যের এক অপূর্ব সমন্বয়। প্রশস্ত বারান্দা উঁচু ছাদ আলো বাতাস চলাচলের সুবিধা সবকিছুই পরিকল্পিত। এই পরিবেশেই রবীন্দ্রনাথ দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন লিখেছেন ভেবেছেন কাজ করেছেন কুঠিবাড়ির ভেতরের ঘরগুলোতে ঘুরে দেখার সময় বারবার মনে হচ্ছিল রবীন্দ্রনাথের জীবনযাপন কতটা সরল ছিল। তার ব্যবহার করা আসবাবপত্রগুলো খুব সাধারণ কোথাও কোনো আড়ম্বর নেই।
এই সরলতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল তার বিশাল মন। সাধারণ কাঠের চেয়ার টেবিল কিংবা তাক সবকিছুই যেন বলে দেয় একটি ঘরে রাখা তার লেখালেখির সামগ্রী দেখে বিশেষভাবে স্পর্শিত হয়েছি। কলম কালি কাগজ এই সাধারণ উপকরণ দিয়েই তিনি সৃষ্টি করেছেন অমর সাহিত্য। আজকের আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে এই জিনিসগুলো দেখলে মনে হয় সৃষ্টির জন্য আসলে কত কম জিনিসের প্রয়োজন যদি মনের ভেতর ভাবনার আগুন জ্বলে থাকে। এই উপলব্ধি নিজেই একটি বড় শিক্ষা। এটাই ছিল আমার আজকের ১২ নম্বর পর্বের গল্প। আশা করি পুরো গল্পটি আপনাদের কাছে খুবই ভালো লেগেছে। পরবর্তীতে আমি আবার আরও একটি নতুন পর্ব নিয়ে আপনাদের মাঝে। তাহলে কথা না বাড়িয়ে আজ বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সেই কামনাই রইল। আল্লাহ হাফেজ।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |



