পুরনো দিনের ডায়েরি ( শেষ পর্ব )
Image Created by OpenAI
আপনাদের সাথে "পুরনো দিনের ডায়েরি" গল্পের শেষ পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো টেবিলের উপর পড়ে থাকা সেই ডায়েরিটা মালতি তুলে নিয়েছিলো, যেটা রাহুলের বাবা তাকে দিয়েছিলো। আর মালতিকে বলেছিলো, যেদিন তুমি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে, সেদিন এই ডায়েরিটা খুলবে। রাহুল শুনে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো। এখন রাহুলের আসলে বিষয়গুলো এমন লাগছে যে, অবাক হয়ে কেবল শোনা ছাড়া উপায় নেই। এরপর মালতি বললো- আজও আমি এই ডায়েরি খুলে পড়িনি। কারণ জীবনে কিছু কিছু ভালোবাসা এমন থাকে যে, সেটা পড়ার থেকে বহন করাটা উত্তম। এরপর রাহুল সেখান থেকে উঠে দাঁড়ালো এবং মালতি তাকে বললো- তোমার বাবাকে ক্ষমা করে দেবে। রাহুল মাথা নেড়ে বললো- আমি বুঝেছি আর বুঝতে পারাই বোধহয় ক্ষমা।
এরপর রাহুল সবকিছু শোনার পরে সেখান থেকে ফিরে যাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ এত কিছু শোনার পরে বোঝার আর কিছুই বাকি থাকে না। আর তার বাবা আসলেই নির্দোষ ছিল, ফলে সে তার বাবাকে মনের থেকে ক্ষমা করে দিয়েছিলো। এরপর রাহুল সেখান থেকে বেরিয়ে নদীর ধারে গিয়ে বসে পড়লো। কিছুক্ষণ নদীর ধারে বসে একাকীত্ব সময় পার করছিলো আর গঙ্গার ধারা চুপচাপ বয়ে যাওয়ার দৃশ্য উপভোগ করছিলো। তখন হঠাৎ করে ডায়েরির পাতায় লেখাগুলো তার মনে পড়ছিল। বিশেষ করে 'শেষ সিদ্ধান্তের জায়গা'। রাহুল ওখানে বসে বিষয়টা বুঝলো যে- এই শেষ সিদ্ধান্ত মানে চলে যাওয়া নয়..নীরবে থেকে যাওয়া। এরপর রাহুল বাড়ি ফিরে আসলো এবং বাড়ি ফিরে আলমারিতে ডায়েরিটা রেখে দিলো। যদিও ধুলো জমবে, কিন্তু হারাবে না। কারণ কিছু ডায়েরি শুধু পড়ার জন্য নয়, সেগুলো আমাদের বদলে দেওয়ার জন্য।
