পালাগান ও কীর্তন
Image Created by OpenAI
গ্রামবাংলার অলিগলি, হাটের মাঠ, মন্দিরের আঙিনা ইত্যাদি সব জায়গায় যুগ যুগ ধরে যে লোকসংস্কৃতি মানুষের মনে গেঁথে আছে, তার মধ্যে পালাগান ও কীর্তন অন্যতম। এগুলো শুধু গান নয়- এগুলো কাহিনি, বিশ্বাস, আবেগ ও জীবনের কথা বলে। পালাগান মূলত একটি কাহিনিনির্ভর লোকগান। এখানে একজন প্রধান গায়ক থাকেন, তিনি এবং তার সহগায়করা গানের মাধ্যমে গল্প তুলে ধরেন। পালাগানের কাহিনি সাধারণত হয়ে থাকে- রামায়ণ ও মহাভারত, পুরাণ ও লোককথা এবং সামাজিক বা নৈতিক গল্পের মাধ্যমে।পালাগানের বিশেষত্ব হলো প্রশ্ন-উত্তরের ছন্দ। একজন গায়ক প্রশ্ন করেন এবং আরেকজন উত্তর দেন গানের মাধ্যমে।
একসময় গ্রামবাংলায় পালাগান ছিল বিনোদনের প্রধান মাধ্যম, যেখানে মানুষ গল্প শুনে জীবনের মূল্যবোধ শিখতে পারতো। কারণ এইসব শিক্ষনীয় বিষয় ছিল। আর কীর্তন ছিল মূলত ভক্তিমূলক সংগীত। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেমকাহিনি । চৈতন্যদেবের হাত ধরেই বাংলায় কীর্তনের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। কীর্তনের ধরনগুলো ছিল- নামকীর্তন, লীলাকীর্তন এবং পদকীর্তন। ঢোল, খোল, করতাল আর সমবেত কণ্ঠে গাওয়া কীর্তন একসময় মানুষের হৃদয়ে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে দিত। কীর্তনের কাহিনিতে শুধু ধর্ম নয়, রয়েছে মানবিক প্রেম, বিরহ, আকুতি ও আনন্দ। পালাগান ও কীর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গল্প বলা। একসময় যখন সমাজে বই বা স্কুল সহজলভ্য ছিল না, তখন এই লোকসংস্কৃতিই ছিল মানুষের একমাত্র পাঠশালা।

High-Yield Curation by @steem-seven
Your content has been supported!
Maximize your passive income!
Delegate your SP to us and earn up to 0.45 STEEM / 1000 SP.
Click here to see our Tiered Reward System
We are the hope!