ইমু পাখি- উড়তে না পারা এক বিস্ময়
প্রকৃতির এমন কিছু কিছু সৃষ্টি আছে, যাদের সামনে দাঁড়ালে মানুষ আপনা আপনিই হয় তাদের মায়ায় পড়ে যায়, নাহলে প্রকৃতির সৃষ্টি করা কোনো প্রাণীর সৌন্দর্যে দৃষ্টি আটকে যায়। আকারে বিশাল, দৃষ্টিতে গভীর, অথচ আচরণে শান্ত, ঠিক তেমনই এক পাখির সঙ্গে চিড়িয়াখানায় দেখা হয়ে গেছিলো। ছবিতে যে পাখিটিকে দেখা যাচ্ছে, সে হলো ইমু।অনেকটা উটপাখির মতো। উড়তে পারে না ঠিকই, কিন্তু পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ পাখিদের মধ্যে এটি একটি। লম্বা গলা, শক্ত পা, ঘন বাদামি-ধূসর পালক আর শান্ত চোখ, সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত, কিন্তু আকর্ষণীয়। ইমু মূলত অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখি, আমাদের এদিকে তেমন দেখা যায় না লোকালে ।
এরা উড়তে না পারলেও অসম্ভব দ্রুত দৌড়াতে পারে, ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পারে। শক্তিশালী পায়ের জোরে এরা দীর্ঘ পথ অনায়াসে অতিক্রম করতে পারে। এদের পা খুবই মজবুত হয়ে থাকে এবং শত্রুকে ঘায়েল করতেও সক্ষম। এদের শরীর অনেকটা ভারসাম্যপূর্ণ। তবে একটা বিষয় যে, এত বড়ো পাখি একমাত্র জঙ্গল বা বড়ো কোনো উদ্যানে চলাফেরার জন্য উপযোগী। খাঁচার ভেতরে একপ্রকার বন্দি জীবন তাদের বলা যায়, এতে এদের ভারসাম্যও নষ্ট হয় একদিকে। তাও ভালো একদিকে যে, এইসব প্রাণীদের আমরা এখানে থেকে সামনে দিয়ে দেখতে পাচ্ছি, নাহলে এদের দেখা বাহুল্য। এইগুলো এশিয়ার বাইরের প্রাণী, ফলে ওইসব পরিবেশে এদের বেশি মানায়।

