পৌষ মেলার ইতিহাস
Image Created by OpenAI
কোনো মেলা বা উৎসব এর বিষয় আসলে সেটা আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে বেশি পড়ে যায়। কারণ তুলনামূলক অন্যান্য রাজ্যের থেকে পশ্চিমবঙ্গে উৎসব বেশি হয়ে থাকে। আর এখন শীতের সময় এসে যে উৎসব এর কথা মনে পড়ে যায়, সেটা হলো পৌষ মেলা। এই পৌষ মেলা বলতে গেলে আবার শান্তিনিকেতন ফিরে যেতে হয়। কারণ পৌষ মেলা মানেই শান্তিনিকেতন। এই মেলার উৎপত্তিস্থল এখানেই। যদিও এখন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এটা ছড়িয়ে গিয়েছে আর ওখানকার মতো বেশি বড়ো করে না হলেও বেশ ভালোই হয়ে থাকে। শান্তিনিকেতনে শীতের আমেজ, বাউল গান, লোক সংস্কৃতি আর কাঁথা-শাড়ির রঙ্গিন আকর্ষণ। এছাড়াও আরো নানা আকর্ষণ এর বিষয় আছে, যা আমাদের মুগ্ধ করে তোলে।
আর এই সবকিছু মিলিয়েই শান্তিনিকেতন এর পৌষ মেলা এক অনন্য সংস্কৃতির উদাহরণস্বরূপ রয়ে গেছে। তবে এই মেলাটির সূচনা হয়েছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ঠাকুর পরিবারের হাত ধরে প্রায় ১৮৯৪ সালের দিকে। ফলে এই পৌষ মেলা শান্তিনিকেতনের অনেক বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বাহক। সেই সময়ের দিকে শান্তিনিকেতনে যে দয়ালচাঁদ নামের একজন জমিদার ছিলেন, সে তার জায়গা ব্রাহ্মণ সমাজকে দান করেছিলেন। আর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ওই জায়গাটিতে পৌষ মাসের ৭ তারিখের দিক থেকে এই ব্রহ্মচার্জ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন আর সেখান থেকেই প্রতি বছর এই দিনটিকে পৌষ মেলা হিসেবে ধার্য করা হয়। পৌষ মেলা আসলে শুধু একটা মেলা বা উৎসব এর নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা বাংলার সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
