রবীন্দ্র সরোবরে গোধূলি
নমস্কার বন্ধুরা,
শারীরিক অসুস্থতা কয়েকটা দিন আমাকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে বেঁধে রেখেছিল। মূলত ঘাড়ে এবং শিরদাঁড়ায় চোট পাওয়ার পরে ভয়াবহ ব্যথা তারপর হঠাৎ জ্বর। শরীর কিছুটা সারলেও মনটা পুরোপুরি ছন্দে ফিরছিল না। সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন বাড়ি থেকেই কাজকর্ম করছি, যতটুকু পারা যায় আর কি। আজ অনেকদিন পর ঘর থেকে বেরিয়ে ছিলাম। তাই যখন কাজের ফাঁকে একটু অবসর পেলাম, মনে হল কোথাও কিছুটা সময় কাটিয়ে আসা দরকার। সেই ভাবনা থেকে সন্ধ্যে বেলাতে বেরিয়ে পড়লাম, যদিও কিছুদিন আগে সেখানে যাওয়া শুরু করেছিলাম তবে কয়েক দিনের মধ্যেই খুব পরিচিত হয়ে গেছে জায়গাটা, রবীন্দ্র সরোবর। কলকাতায় শীতের শেষ আমেজটা এখনো বাতাসে রয়ে গেছে। বিকেল হলেই হালকা ঠান্ডা বাতাস, বসন্তের আগমনী সুর বললেও হয়। যখন বেরিয়েছিলাম তখন বিকেলের আলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছিল। আকাশে ছাই ও গেরুয়া রঙের মেলবন্ধন।
রবীন্দ্র সরোবরে গোধূলি বেলায় পৌঁছে প্রথমেই যে অনুভূতিটা হলো তা হলো নিস্তব্ধতা। সপ্তাহের মাঝের দিন হওয়ায় সরোবরে প্রায় ফাঁকা। হাতেগোনা মানুষ বসে আছে, তার মাঝেও এক অদ্ভুত নীরবতা। মনে হচ্ছিলো সবাই নিজের মতো করে এই সন্ধ্যেটাকে অনুভব করছে। সরোবরের রাস্তা ধরে কেউ হাঁটছে, কেউ বসে গল্প করছে, কেউবা একা বসে আছে। আমিও একাই পথ হাঁটছিলাম। রবীন্দ্র সরোবরের জলের ওপর ধীরে ধীরে দিনের আলো নিভে গিয়ে সন্ধ্যার আলো পড়া শুরু করল, আর ছোট ছোট ঢেউগুলো কৃত্রিম আলোতে নেচে উঠতে চাইছিল।
হাঁটতে হাঁটতে হালকা বাতাস মুখ চোখে ছুঁয়ে যাচ্ছিল, সেই বাতাসের স্পর্শে মনে হচ্ছিল গত কদিনের সব ক্লান্তি মিলিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা পুরোপুরি নেমে এলো, চারপাশের আলো আর অন্ধকারের মেলবন্ধনে এক অন্যরকম সৌন্দর্য তৈরি হলো। আকাশের রং মুহূর্তের মধ্যে বদলে অনেকটা নীলচে হয়ে উঠল। কাজ করতে ইচ্ছে করছিল না, সত্যি বলতে কাজ করবার মতন ঘাড়ে শক্তি ছিল না। তাকিয়ে থাকাও কঠিন, রবীন্দ্র সরোবর থেকেই তাই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। তবে এত সুন্দর গোধূলি উপভোগ করব একা একা সেটা আজ না গেলে বুঝতেই পারতাম না।
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS






