হারিয়ে যাওয়া নৌকা ( পর্ব ২ )

in আমার বাংলা ব্লগ10 months ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

DALL·E 2025-03-19 03.55.20 - A mysterious lost boat floating alone in the vast ocean under a full moon. In the distance, a ghostly, abandoned wooden ship with tattered sails emerg.webp

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "হারিয়ে যাওয়া নৌকা" গল্পের দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো আগের পর্বে দেখেছিলাম যে, সাগর সেই অদ্ভুত একধরণের ভুতুড়ে জাহাজের গায়ে তার নৌকা নিয়ে ধাক্কা খায়। সাগরও জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং জ্ঞান ফেরার পরে সে দেখে সেই জাহাজের পাটাতনের উপরে পড়ে আছে। তাছাড়া সাগর মাথার পিছনে প্রচন্ড ভাবে আঘাত পায়। মাথার ওই ব্যাথায় এক তো কাতরাতে থাকে আর আশেপাশেও কেউ নেই, একদম নির্জন। এরপর সাগর ওই জাহাজের সবদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলো এবং জাহাজটি দেখে অনেক পুরোনো, শ্যাওলা জাহাজের গায়ে আটকে আছে। জাগজের রেলিংগুলো যেন একদম জরাজীর্ণ অবস্থা, সব মরিচা ধরে রয়েছে। এরপর সে আবারো একটা ডাক দিলো, যে জাহাজে কেউ আছে কিনা!

কিন্তু তার প্রতিউত্তরে কোনো সাড়াশব্দ আসলো না। সে ধীরে ধীরে ওই অবস্থায় জাহাজের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো এবং যেতে যেতে সে একটা দরোজার সামনে আসলো এবং সেই দরজাটাও আধা খোলা ছিল আর জীর্ণ অবস্থা কাঠের সেই দরজা। দরজাটা দেখে তার কাছে মনে হলো যেন, অনেকদিন যাবত এর ভিতরে কেউ যাওয়া আসা করে না। সাগর সাহস করে দরোজায় ধাক্কা দিলো এবং দরজাটা ক্যাঁচ ক্যাঁচ আওয়াজ করে খুলে গেলো। এরপর সাগর ভিতরে যাওয়ার পরে সামনে এমন একটা কিছু দেখলো, যেটাতে তার অনেকটা শ্বাস রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার মতো। ওই ঘরের এক কোনে ওই জাহাজের চালকের একটা পুরোনো ডায়েরি পড়ে থাকতে দেখে এবং সেটা একপ্রকার ধুলো জমে অবস্থা খারাপ।

এরপর সাগর সেই ডায়েরিটা তুললো এবং সেই ডায়েরির পাতাগুলো মনে হয় হাত দিলেই খসে পড়ে যাবে। তারপরেও সাগর সেই ডায়েরিটা হাতে নিতেই প্রথম পাতা উল্টোতেই দেখে তাতে একটা বিশেষ কথা লেখা ছিল- তুমি যদি এটা পড়ো, তাহলে বুঝবে, তুমি আর এখান থেকে ফিরে যেতে পারবে না। এই কথাটা পড়ার পরে সাগরের গলা শুকিয়ে যায় এবং সে কি করবে সেটা বুঝে উঠতে পারছে না এই নির্জন জায়গায়। সে চারিদিকে আবারো তাকাতে লাগলো যে, এই জাহাজে সে একাই আছে, নাকি আরো কেউ আছে! সাগর এরপর ডায়েরির পরের পাতাগুলো উল্টোতে থাকে। কিন্তু ডায়েরির অনেক পৃষ্ঠা নষ্ট হয়ে গিয়েছে আবার কোথাও কোথাও লেখা মুছে গিয়েছে। তারপরেও কিছু কিছু লেখা পড়ার মতো অবস্থায় ছিল।

এরপর যেটুকু বোঝা যাচ্ছিলো, সেই লেখাগুলো সাগর পড়তে থাকে। এখানে লেখাগুলো এমন ছিল যে- "আমরা সবাই এখানে আটকে গেছি, এই জাহাজটি কখনো ডোবে না। আবার গন্তব্যেও পৌঁছাবে না"। এরপর আরো একটা লেখা ছিল এমন যে-"সমুদ্রের এই আলো আমাদেরও এখানে এনেছিল, কিন্তু আমরা আর ফিরে যেতে পারিনি"। এরপর লাস্ট আরেকটা লেখা এই ডায়েরিতে লিখে দেওয়া ছিল যে- এই ডায়েরি তুমি যদি পড়ো, তাহলে সাথে সাথে এখান থেকে পালানোর চেষ্টা করো। নাহলে তুমিও আমাদের মতো...." লাস্টের লেখাটা ঝাপসা ছিল অর্থাৎ একপ্রকার মুছে। গিয়েছিলো সাগর তো এইসব পড়ে আর সামনে এইসব দৃশ্য দেখে চুপ হয়ে যায়, তার যেন আর স্বর বের হচ্ছে না ভয়ে।

গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। তার মনে আবারো একটা বিষয় উঁকি দিলো যে, তাহলে এখানে আরো অনেকে ছিল? চারিপাশ এবং বাইরে এসে আবারো সব দেখলো। কিন্তু সে শুধু পুরোনো সব আসবাবপত্র, ছেঁড়া একধরণের মানচিত্র, কম্পাস ইত্যাদি এইসব পূর্ণ মরীচিকা পড়া সব জিনিসপত্র দেখতে পায়। এইসব দেখতে দেখতে সে বাইরে থেকে একটা ধপ ধপ করে পায়ের আওয়াজ পেলো, যেন কেউ তার দিকে আসছে। সাগর ভয়ে ভয়ে দরোজার কাছে গেলো এবং ফাঁক দিয়ে দেখার চেষ্টা করলো, দেখে একটা ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে জাহাজের ডেকের দিকে হেঁটে আসছে!....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png



Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 10 months ago 

এ ধরনের গল্পগুলো পড়তে গেলে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা হয়।আসলে এরপর কি হয়, কি হয় এমন একটা ব্যাপার।এখন সাগরের সাথে আর কি কি ঘটবে তাই জানার আগ্রহ হচ্ছে।সাগর কি তবে আর সবার মতো ফিরে যেতে পারবে না? আমার মনে হয় ফিরে যেতে পারবে।পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম দাদা।ভালো লাগে এ ধরনের গল্পগুলো পড়তে।

 9 months ago 

এই গল্পের আগের পর্ব পড়ে ভীষণ ভালো লেগেছিল এবং এই পর্বটি আরও বেশি ভালো লাগলো। কারণ প্রতিটি লাইন পড়ার সময় মনের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা কাজ করেছে। যাইহোক সাগর সেই জাহাজ থেকে ফিরে যেতে পারবে কিনা,সেটা জানার আগ্রহ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম দাদা।