কালো খামের চিঠি ( পর্ব ৭ )

in আমার বাংলা ব্লগ13 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000088311.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "কালো খামের চিঠি" এর সপ্তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর অর্ণব ছবিটি শক্ত করে মুঠোয় ধরল। সে বুঝতে পারল, রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু কোনো রেল স্টেশন নয়, বরং সেই পুরোনো স্কুল। সেখানে এমন কিছু ঘটেছিল, যার জন্য একজন মানুষ মারা গেছে, একজনের স্মৃতি মুছে গেছে, আর ঐশী নিজের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আতঙ্কে দিন কাটিয়েছে।কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন- ঐ ছবির পঞ্চম ব্যক্তি কে? আর কেন তার মুখ পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল কেউ? অর্ণব ধীরে ধীরে ক্লোকরুম থেকে বেরিয়ে এল। তার পকেটে এখন তিনটি জিনিস- ঐশীর অসমাপ্ত ডায়েরি। ১৩-B লেখা রূপার চাবি।

আর একটি নতুন কালো খাম।সে জানত না, এই তিনটি জিনিসই তাকে এমন এক সত্যের সামনে নিয়ে যাবে, যেখান থেকে আর ফিরে আসার কোনো পথ থাকবে না। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। আগের রাতের ঘটনাগুলো অর্ণবের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল।টেবিলের ওপর রাখা তিনটি জিনিস- ঐশীর অসমাপ্ত ডায়েরি, ১৩-B লেখা রূপার চাবি এবং নতুন কালো খাম- যেন তাকে এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকতে দিচ্ছিল না। সে আবার ছবিটা হাতে নিল এবং ভাঙাচোরা দোতলা একটি স্কুল ভবন। পেছনে বড় অক্ষরে লেখা- শিবপুর মডেল হাই স্কুল। তারিখ- ১৭ জুলাই, ২০০৮। এটাই সেই দিন, যেদিন ঐশী কয়েক ঘণ্টার জন্য নিখোঁজ হয়েছিল।

অর্ণব মনে করার চেষ্টা করল, সেদিন বাড়ি ফিরে ঐশী ভীষণ আতঙ্কিত ছিল। তার জামাকাপড় কাদা মাখা, হাতে ছোট ছোট আঁচড়, আর চোখে ছিল এমন এক ভয়- যেটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। মা অনেক জিজ্ঞেস করেছিলেন। কিন্তু ঐশী শুধু একটাই কথা বলেছিল- স্কুলের নিচে কেউ আছে, তারপর আর কিছু বলেনি। সবাই ভেবেছিল ছোট্ট মেয়ের কল্পনা।আজ এত বছর পর সেই কথাটাই যেন নতুন অর্থ নিয়ে ফিরে এসেছে। দুপুরের দিকে অর্ণব রওনা দিল। শহর থেকে প্রায় চল্লিশ মিনিট দূরে ছোট্ট একটি গ্রাম। সেখানেই অবস্থিত শিবপুর মডেল হাই স্কুল। পাঁচ বছর আগে নতুন ভবন তৈরি হওয়ায় পুরোনো স্কুলটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। অর্ণব পৌঁছাতেই বুঝল, জায়গাটা ঠিক যেমন ছবিতে দেখেছিল, তেমনই।

দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং জানালার কাচ ভাঙা। খেলার মাঠ আগাছায় ঢেকে গেছে, হাওয়ায় একটা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ, দূরে কাকের ডাক ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। স্কুলের মূল গেট তালাবদ্ধ। সে ভাঙা পাশের দেওয়াল টপকে ভেতরে ঢুকল। ভেতরে পা রাখতেই তার বুকের ভেতর অদ্ভুত চাপ অনুভূত হলো। যেন কেউ তাকে নজর রাখছে। করিডোরের মেঝেতে ধুলোর পুরু স্তর। দেয়ালে এখনো পুরোনো নোটিশ ঝুলছে।একটি শ্রেণিকক্ষের দরজায় লেখা- অষ্টম শ্রেণি- বি বিভাগ। এরপর অর্ণব ভেতরে ঢুকল। সেখানে ছোট ছোট বেঞ্চ এবং কালো বোর্ড রয়েছে।.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png