নীল চিঠির প্রতীক্ষা ( শেষ পর্ব )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "নীল চিঠির প্রতীক্ষা" গল্পের শেষ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর নীলা জানালার বাইরে তাকাল। বাইরে তখন সন্ধ্যা নামছে। কারণ আমি চাইনি তুমি আমার জন্য নিজের জীবন আটকে রাখো। অয়ন তখন শান্ত গলায় বলল- কিন্তু আমি তো আটকে গেছি অনেক আগেই। নীলা চোখ বন্ধ করল এবং বললো হয়তো এই কথাটাই সে সবচেয়ে বেশি ভয় পেত। কিছুক্ষণ নীরবতার পর অয়ন বলল- তুমি কি জানো, আমি প্রতিদিন পোস্ট অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম? নীলা তখন মৃদু হেসে বলল- জানি।অয়ন অবাক হয়ে তাকাল এবং বললো- জানো? আমি একবার এসেছিলাম এবং অনেক দূর থেকে তোমাকে দেখেছিলাম। অয়নের বুকটা কেঁপে উঠল।
তাহলে সেদিন কুয়াশার মধ্যে যে মেয়েটাকে সে দেখেছিল- সেটা সত্যিই নীলা ছিল। নীলা তখন ধীরে বলল- আমি সামনে আসার সাহস পাইনি। সে জিজ্ঞাসা করলো- কেন? কারণ কিছু ভালোবাসা দূর থেকে সুন্দর লাগে। অয়ন তখন মাথা নাড়ল- না নীলা, সত্যিকারের ভালোবাসা মানুষের দুর্বলতাকেও ভালোবাসে। এই কথাটা শুনে নীলা হঠাৎ কেঁদে ফেলল, অনেক দিনের জমে থাকা কান্না। অয়ন ধীরে তার পাশে গিয়ে বসে রইল এবং বাইরে তখন হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঠিক সেই প্রথম দিনের মতো। কিছুক্ষণ পর নীলা নিচু গলায় বলল- জানো অয়ন, আমি সবসময় ভাবতাম, যদি আরেকটু সময় পেতাম।অয়ন তখন ধীরে বলল- আমাদের এখনও সময় আছে। নীলা মৃদু হাসল এবং সেই হাসির মধ্যে অদ্ভুত একটা শান্তি ছিল। সব মানুষের হাতে সমান সময় থাকে না।
ঘরের ভেতর যেনো একটা অদ্ভূত নীরবতা নেমে এল। অয়ন বুঝতে পারছিল, সময় তাদের খুব বেশি সুযোগ দেবে না। তবুও সেই মুহূর্তে তার মনে হচ্ছিল- এই কয়েকটা মুহূর্তই হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে সত্যি সময়। রাত গভীর হতে লাগল এবং বৃষ্টি আরও বাড়ল। নীলা টেবিলের ওপর রাখা একটা শেষ নীল খাম অয়নের হাতে দিল এবং বললো- এটা পরে পড়বে। অয়ন খামটা হাতে নিল। সেই মুহূর্তে তার বুকের মধ্যে যেনো অদ্ভুত ভয় কাজ করছিল। সে ধীরে বলল- আমি আবার আসব কাল। নীলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাথা নাড়ল- হয়তো। অয়ন দরজার কাছে গিয়ে একবার পিছনে তাকাল। নীলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিল ঠিক আগের মতো। ঠিক যেনো সেই পুরোনো দিনের মতো। পরদিন সকালে অয়ন আবার সেই বাড়িতে গেল, কিন্তু দরজা বন্ধ ছিল।
চারপাশে একটা অদ্ভুত নীরবতা ছিল। তার বুক হঠাৎ কেঁপে উঠল। এরপর পাশের বাড়ির এক বৃদ্ধ ধীরে বলল- রাতে মেয়েটাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এরপর অয়নের মাথার ভেতর সবকিছু যেন থেমে গেল। সে তখন কাঁপা হাতে নীলার দেওয়া শেষ খামটা খুলল। ভেতরে ছোট্ট একটা চিঠি, সেখানে লেখা- অয়ন, যদি কোনোদিন আমি সত্যিই হারিয়ে যাই, তাহলে এবার আর আমাকে খুঁজতে বের হবে না। কারণ আমি তোমার অপেক্ষার মধ্যেই বেঁচে থাকব। তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলে, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তি। আর একটা কথা- বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে বসে থেকো, আমি হয়তো বাতাস হয়ে তোমার কাছে ফিরে আসব- তোমার নীলা। চিঠিটার ওপর অয়নের চোখের জল পড়ে শব্দগুলো ঝাপসা হয়ে গেল। বাইরে তখন বৃষ্টি পড়ছে আর বহুদিন পর অয়ন বুঝতে পারল- কিছু অপেক্ষার কখনও শেষ হয় না। কারণ কিছু মানুষ চলে গিয়েও মানুষের জীবনে চিরকাল থেকে যায়।
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





