অন্তিম সীমানা ( শেষ পর্ব )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "অন্তিম সীমানা" গল্পটির শেষ পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো সেই ডায়েরির সমস্ত ঘটনা বের করার জন্য সেই ছেলেটার ধন্যবাদ শব্দটা ভেসে আসে। এরপর ভোরের আলো ধীরে ধীরে সেই বেলেডাঙার মাঠে ছড়িয়ে পড়লো। তো ওই লোকটা চোখ যখন মেলে, তখন দেখে সে মাঠের মধ্যে। আর সেই নীলকুঠি সেখানে শুধু এখন একটা পোড়া মাটির মতো গন্ধ আর কুয়াশার মতো ধোঁয়া অর্থাৎ বাংলো আর নেই সেখানে। আর মাঠের চারিদিকে লোকজন, পুলিশ, সাংবাদিক ভরে গিয়েছে। তো ওর সেই বন্ধুটা তার কাঁধে হাত দিয়ে বললো- তুই ফিরে এসেছিস বিশ্বাস হচ্ছে না, আমি ভেবেছিলাম হয়তো তোকে আর খুঁজে পাব না।
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল এবং পরে বললো- আমার এখন সেই নীলকুঠির ভেতরের সমস্ত ঘটনা চোখের সামনে ভাসছে অর্থাৎ সেই আত্মা, বন্দি কারাগার, ব্রিটিশদের অত্যাচারিত কাহিনী ইত্যাদি। ফলে সে একা ফিরে আসেনি, সেখানকার রহস্য উদঘাটন করে ফিরে এসেছে। তো সেখানে যেসব পুলিশ অফিসার দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাদের হাতে সেই ডায়েরিটা তুলে দিলো এবং তাদের বলে এখানে এই বাংলোর সমস্ত কাহিনী উল্লেখিত আছে। অফিসাররা পাতা উল্টোতে উল্টোতে চমকে গেলেন। তারা বললেন এইসব যদি সব সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে ইতিহাস বদলে যাবে। এরপর ডায়েরির সব তথ্য অনুযায়ী তদন্ত শুরু হলো এবং সব আস্তে আস্তে সামনে চলে আসলো।
সমস্ত মিডিয়ায় যেনো একটা শোরগোল পড়ে গেলো এইটা নিয়ে। সবকিছুই জনগণের সামনে চলে আসলো এবং সেই সময়ে ঘটে যাওয়া সব তথ্য আর চাপা নেই, সব এখন ধীরে ধীরে সবার প্রকাশ্যে আসছে। তবে লোকটা একদিন তার ফোনে তোলা কিছু ছবি রাতের দিকে বসে এডিট করছিলো। এর মধ্যে হঠাৎ ঘরের লাইটটা মিটমিট করছিলো এবং পর্দা হাওয়ায় নড়ছিলো। এরপর সে বাইরে গিয়ে দেখে কোনো হাওয়া নেই। মনে হলো কেউ যেনো দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে ডাকছে। লোকটা সেই ছেলের নাম ধরে ডাকল অর্থাৎ যে ডায়েরির সন্ধান দিয়েছিলো। লোকটা সেই ছেলেটার নাম ধরে ডাকল। কিন্তু কোনো উত্তর নেই।
এরপরে দূর থেকে একটা চাপা কন্ঠ ভেসে আসলো এবং লোকটাকে বললো- আমরা এখন কেউ আটকে নেই। কিন্তু মনে রেখো, সত্য যদি লুকানো হয়, তাহলে আবার একটা অন্তিম সীমানা তৈরী হবে। আলো আবারো স্বাভাবিক হয়ে গেলো এবং সবকিছুই একপ্রকার স্বাভাবিক। কিন্তু বাইরে সেই নীলকুঠির জায়গাটা এখন ফাঁকা, তবে এখন একটা আলাদা শান্তি রয়েছে সেখানে। লোকটা একটা বিষয় বুঝলো যে, অন্তিম সীমানা বাস্তবে কোনো জায়গার নাম নয়। এটা এমন একটা সীমানা, যেটা সত্যকে ভয় পেয়ে মানুষ থেমে যায়। আর যে সত্য সামনে নিয়ে আসে, তাকেই সেই সীমানা পেরোতে হয়।
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





