অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ৫ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর পঞ্চম পর্ব শেয়ার করে নেবো। সে একবার পিছনে তাকাল, কিন্তু কেউ নেই, সেই অচেনা লোকটিও নেই। কালো কোট পরা মানুষটি কোথায় গেল, অরিন্দম বুঝতে পারল না। কিছুক্ষণ আগেও তো লোকটি তার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। আর তার পরেই চারপাশের স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, ট্রেন- সব যেন মুহূর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেছে। অরিন্দম আবার দরজার দিকে তাকাল।চাবিটা ঘোরাও...ফিসফিস শব্দটি আবার এল।এবার যেন দরজার ভেতর থেকেই। অরিন্দম ধীরে ধীরে চাবিটি তালায় ঢুকিয়ে দিল- খট্। চাবি ঠিকমতো ঢুকে গেল এবং তার বুকের ভেতর ধুকপুকানি আরও বেড়ে গেল।
চাবিটি ঘোরানোর আগে হঠাৎ তার মনে হলো- এই দরজাটা সে আগে কোথাও দেখেছে। কোথায়? মনে পড়ছে না।কিন্তু দরজাটার কাঠের দাগ, ডানদিকে ছোট ফাটল, নিচের মরচে ধরা লোহার পাত- সবকিছু যেন তার খুব পরিচিত। যেন বহু বছর আগে সে এই দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু কখন?অরিন্দম চোখ বন্ধ করল, মাথার ভেতর একটা অস্পষ্ট ছবি ভেসে উঠল। একটি ছোট স্টেশন, বৃষ্টি পড়ছে। একটি শিশু দৌড়ে যাচ্ছে, তার হাতে লাল রঙের একটা খেলনা ট্রেন। তারপর- একটি পুরুষ কণ্ঠ- অরিন্দম! দাঁড়া! অরিন্দম চোখ খুলে ফেলল। তার শ্বাস দ্রুত হয়ে গেছে- এটা সম্ভব নয়... সে নিজেকেই বলল। তার শৈশবের কোনো স্মৃতি কি এই দরজার সঙ্গে যুক্ত? কিন্তু সে তো ছোটবেলায় এই রকম কোনো স্টেশনে কখনও যায়নি।
অন্তত তার মনে পড়ে না। আবার ভেতর থেকে শব্দ এল- দেরি হয়ে যাচ্ছে...অরিন্দম এবার চাবিটি ঘুরিয়ে দিল- ক্লিক, দরজা খুলে গেল।ভেতরে ঢুকেই অরিন্দম থমকে দাঁড়াল। ঘরটি ছোট- পুরনো কাঠের দেওয়াল, এক পাশে একটা টেবিল। টেবিলের ওপর ধুলো জমে আছে, দেয়ালে একটি ভাঙা ঘড়ি। আর ঘরের মাঝখানে একটি কাঠের চেয়ার। চেয়ারের পাশে রাখা একটি পুরনো লণ্ঠন। কিন্তু লণ্ঠনের ভেতরে আগুন নেই।তবুও সেটি জ্বলছে- হালকা নীল আলো। অরিন্দম ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে ঢুকল। দরজাটি তার পিছনে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল- ধাম! অরিন্দম চমকে ঘুরে তাকাল। দরজার হাতল টেনে দেখল- বন্ধ। সে জোরে ধাক্কা দিল, কোনো লাভ হলো না। দরজা খুলুন!
তার নিজের কণ্ঠস্বর ঘরের মধ্যে প্রতিধ্বনিত হলো। তারপর অদ্ভুত একটা ব্যাপার ঘটল। প্রতিধ্বনির মধ্যে আরেকটি কণ্ঠ মিশে গেল- খুব ক্ষীণ...খুলুন...। অরিন্দম থেমে গেল। সে আবার বলল- কে? প্রতিধ্বনি ফিরে এল- কে... কে... কে...। কিন্তু শেষের শব্দটা তার নিজের কণ্ঠে ছিল না, সেটা ছিল একজন শিশুর কণ্ঠ- অরিন্দম...অরিন্দমের শরীর কেঁপে উঠল। সে ঘুরে ঘরের দিকে তাকাল, কিন্তু কেউ নেই।তারপর টেবিলের দিকে চোখ পড়তেই সে দেখল- একটি পুরনো টেপ রেকর্ডার। ধুলোয় ঢাকা, রেকর্ডারের পাশে একটি ক্যাসেট। ক্যাসেটের ওপর সাদা কাগজে হাতে লেখা- অরিন্দমের জন্য। অরিন্দমের গলা শুকিয়ে গেল। সে ধীরে ধীরে টেপ রেকর্ডারটির কাছে গেল। ক্যাসেটটি তুলে নিল, তারিখ লেখা আছে- ১৭ অক্টোবর, ২০০৪।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





