মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ১৯ )

in আমার বাংলা ব্লগ17 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ১৯ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- আর মধ্যরাতের অতিথি? সে কে? তার বাবা? অয়ন? নাকি অর্ণব নিজেই? নির্মলবাবু ধীরে ধীরে সামনে এসে বসলেন। আজ তোমাকে সব বলতে হবে। অর্ণব তার দিকে তাকাল। সব? হ্যাঁ। ১৯৮৬ সালে কী হয়েছিল? নির্মলবাবু কয়েক সেকেন্ড চোখ বন্ধ করে রইলেন। তারপর বললেন- ১৭ জুলাই, ১৯৮৬। রাত তখন প্রায় এগারোটা, অমল তার স্ত্রী মাধবী আর ছেলে অয়নকে নিয়ে এই বাড়িতে ছিল। তোমার বাবা সেদিন প্রথমবার এই বাড়িতে এসেছিল। অর্ণব অবাক হয়ে বলল- আমার বাবা তখন অমলকে চিনত? খুব ভালোভাবে। কীভাবে? তারা দুজন একই জায়গায় কাজ করত।

কোথায়? একটা গবেষণাগারে। অর্ণব ভ্রু কুঁচকে বলল- কী নিয়ে গবেষণা? নির্মলবাবু একটু থামলেন, মানুষের স্মৃতি। অর্ণবের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। স্মৃতি? হ্যাঁ। তারা কি কোনোভাবে মানুষের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে পারত? পুরোপুরি নয়। বৃদ্ধ বললেন- কিন্তু একটা পরীক্ষায় তারা বুঝেছিল- মৃত্যুর ঠিক আগে মানুষের মস্তিষ্কে তৈরি হওয়া কিছু স্মৃতি অদ্ভুতভাবে পরিবেশে থেকে যেতে পারে। অর্ণব কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। এই বাড়ির সঙ্গে তার সম্পর্ক? এই বাড়ির দেয়াল, মাটি আর কাঠের মধ্যে একটা অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ছিল। কী? কিছু স্মৃতি এখানে অন্য জায়গার তুলনায় অনেক বেশি সময় টিকে থাকত। অমল সেটা জানতে পেরেছিল? হ্যাঁ। তারপর? নির্মলবাবু বললেন- অমল পরীক্ষা শুরু করল।

কাদের ওপর? প্রথমে নিজের ওপর। তারপর? অয়নের ওপর। অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল। আমার ভাই? বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন- হ্যাঁ। ১৯৮৬ সালের সেই রাত। অমল দোতলার উত্তর ঘরটাকে পরীক্ষাগার বানিয়েছিল।ঘরের মাঝখানে একটা কাঠের টেবিল। তার ওপর পুরোনো ক্যাসেট রেকর্ডার। কয়েকটা তার, একটা লণ্ঠন। আর একটা অদ্ভুত গোলাকার ধাতব যন্ত্র।অয়ন তখন মাত্র দশ বছরের শিশু, সে কিছুই বুঝত না। তার বাবা তাকে বলেছিল- এটা একটা খেলা। অয়ন বিশ্বাস করেছিল, কিন্তু মাধবী বিশ্বাস করেনি। সে বারবার অমলকে বলেছিল- ছেলেটাকে এসবের মধ্যে টেনো না। অমল বলেছিল- এটা শেষ পরীক্ষা। মাধবী বলেছিল- তুমি পাগল হয়ে গেছ। অমল উত্তর দিয়েছিল- মৃত্যুর পরও যদি স্মৃতি বেঁচে থাকে, তাহলে মানুষ আসলে কখনও পুরোপুরি মরে না। সেই রাতে পরীক্ষাটা শুরু হয়।

অয়নকে চেয়ারে বসানো হয়।তার মাথায় কয়েকটা তার লাগানো হয় এবং অমল যন্ত্র চালু করে। ঘরের বাতি নিভিয়ে দেয়, শুধু একটা লণ্ঠন জ্বলছিল। রেকর্ডারে অমল বলেছিল- পরীক্ষা শুরু রাত ১২টা ১১ মিনিট।তারপর- অয়ন স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। ১২টা ১৪ মিনিট। অয়ন বলেছিল- বাবা...অমল বলেছিল- ভয় পাস না, ১২টা ১৬ মিনিট। অয়ন হঠাৎ অন্যরকম গলায় কথা বলে। বাবা...অমল জিজ্ঞেস করে- কী? অয়ন বলেছিল- দরজার বাইরে কে? অমল দরজার দিকে তাকায়, কিন্তু কেউ নেই। তারপর অয়ন আবার বলে- ও আমাকে ডাকছে। অমল জিজ্ঞেস করে- কে? অয়ন উত্তর দেয়- আমি। রেকর্ডিং এখানেই কয়েক সেকেন্ডের জন্য অস্পষ্ট। তারপর একটা শব্দ- ঠক... ঠক... ঠক...দরজায় তিনবার কড়া নাড়া। অমল দরজার দিকে এগিয়ে যায়।...


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png