স্বপ্নের ঠিকানা ( পর্ব ৪ )

in আমার বাংলা ব্লগ3 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000076111.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে 'স্বপ্নের ঠিকানা' গল্পের চতুর্থ পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো এরপরে অর্ণব কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল এবং তারপর ধীরে ধীরে সব বলল- তার স্বপ্ন, বাড়ি ছেড়ে আসা, আর এখনকার সমস্যা গুলো। লোকটা আবার এইসব কথা মন দিয়ে শুনল এবং তারপর বলল- আমি একসময় পেইন্টার ছিলাম, এখন বয়স হয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু তোমার চোখে আমি সেই আগুনটা দেখছি, যেটা আমার মধ্যে ছিল। অর্ণব অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে লোকটির দিকে। লোকটা আবার বলল- তুমি যদি সত্যিই কিছু করতে চাও, তাহলে একটা ছোট কাজ শুরু করো, অর্থাৎ রাস্তার পাশে বসে ছবি আঁকা শুরু করো। মানুষ তোমার ছবি কিনবে, কম হলেও শুরু হবে। অর্ণবের চোখে যেনো একটু আশার আলো জ্বলে ওঠে।

অর্ণব আসলে ভাবেনি যে, এভাবেও শুরু করা যায়। লোকটা তাকে একটা পুরোনো ঠিকানা দিল। অর্থাৎ একটা জায়গার নাম, যেখানে অনেক স্ট্রিট আর্টিস্ট কাজ করে। লোকটা সেখানে গিয়ে চেষ্টা করতে বললো। তখন রাত নেমে এসেছে, কিন্তু আজও অর্ণবের মাথার ওপর কোনো ছাদ নেই।তবে তার মনে আজ একটা নতুন শক্তি এসেছে লোকটার কথা শুনে। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো- আমি পারব, অবশ্যই পারব। তার চোখে আর ভয় নেই, আছে শুধু দৃঢ়তা। অর্ণব এর কাছে আজকের দিনটা খুব কঠিন ছিল। কিন্তু এই দিনটাই তাকে শিখিয়েছে- স্বপ্ন শুধু দেখা নয়, তার জন্য লড়াইও করতে হয়। আর এখন সেই লড়াই শুরু হয়ে গেছে।

অর্ণব জানে এটাই শুধু শুরু। তার সামনে আরও অনেক পথ, অনেক বাধা অপেক্ষা করছে। কিন্তু সে সবকিছুতে মোকাবেলা করতে এখন প্রস্তুত।কারণ, সে খুঁজছে তার নিজের “স্বপ্নের ঠিকানা”। পরেরদিন ভোরের আলো অর্ণব এর কাছে যেন একটু অন্যরকম লাগে। এদিকে রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি অর্ণবের, পার্কের বেঞ্চেই কেটে গেছে পুরো রাত। মাঝে মধ্যে ঠান্ডা বাতাসে শরীর কেঁপে উঠেছে, আবার কখনো দূরের কুকুরের ডাক ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। তবুও নতুন সকালে তার মনে এক নতুন উত্তেজনা কাজ করতে লাগে। কারণ আজ সে প্রথমবার নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে। সকালে অর্ণব প্রথমেই সেই কাগজটা বের করে, যেখানে গতকাল সেই বৃদ্ধ লোকটি একটা ঠিকানা লিখে দিয়েছিল।

ঠিকানাটা খুব বড়ো কিছু নয়- শহরের এক কোণায় ছোট্ট একটা জায়গা, যেখানে নাকি অনেক স্ট্রিট আর্টিস্ট নিজেদের কাজ করে। অর্ণব হাঁটতে শুরু করে এবং রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে সে লক্ষ্য করে- সবাই নিজের নিজের কাজে ব্যস্ত, অর্থাৎ কেউ অফিসে যাচ্ছে, কেউ দোকান খুলছে, আবার কেউ স্কুলের ইউনিফর্ম পরে ছুটছে। তার মনে একটা প্রশ্ন জাগে, আমি কি পারব এদের মতো নিজের জায়গা তৈরি করতে? কিন্তু সে থামে না। প্রায় এক ঘণ্টা হাঁটার পর অর্ণব পৌঁছে যায় সেই জায়গায়। একটা পুরোনো দেয়াল, চারপাশে রঙের ছাপ, বিভিন্ন ধরনের আঁকা ছবি। সেখানে কেউ মানুষের মুখ আঁকছে, কেউ প্রকৃতি, কেউ আবার অদ্ভুত সব কল্পনার ছবি। অর্ণব দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছে, আর তার মনে হচ্ছে এটাই তার জায়গা।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png