নীল চিঠির প্রতীক্ষা ( পর্ব ১০ )

in আমার বাংলা ব্লগ3 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000080608.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "নীল চিঠির প্রতীক্ষা" গল্পের দশম পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো এরপরে ওই কথা শোনার পরে অয়নের চোখ ভিজে উঠল। এতদিন ধরে সে ভেবেছে নীলা তাকে ভুলে গেছে, কিন্তু নীলা তো তাকে নিজের ভেতরেই বাঁচিয়ে রেখেছে। মহিলা মৃদু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো- সে আমার সামনে কেন আসেনি? কারণ সে ভয় পায়।কিসের ভয়? তুমি তাকে বদলে যেতে দেখবে, সেই ভয়। কিছু মানুষ নিজের কষ্ট প্রিয় মানুষের সামনে দেখাতে পারে না। কথাগুলো শুনে অয়নের বুকটা আরও ভারী হয়ে উঠল। এরপর সে ধীরে বলল-আমি কি তার সঙ্গে দেখা করতে পারি? মহিলা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মাথা নাড়ল- পারো। তবে একটা কথা মনে রেখো- তোমার স্মৃতির নীলা আর আজকের নীলা এক নয়।

অয়ন শান্ত গলায় বলল- মানুষ বদলাতে পারে।কিন্তু অনুভূতি বদলায় না। বিকেলের দিকে মহিলা অয়নকে একটা ছোট্ট গলির সামনে নিয়ে এল।গলিটার শেষ মাথায় পুরোনো দোতলা একটা বাড়ি। সেখানে চারপাশে অদ্ভুত নীরবতা, বাড়িটার বারান্দায় কয়েকটা টব রাখা এবং শুকনো গাছের পাতাগুলো বাতাসে নড়ছিল। এরপর মহিলা নিচু গলায় বলল- ও উপরে থাকে। অয়নের বুকের ভেতর ধকধক শব্দ হচ্ছিল। এত বছরের অপেক্ষা… এত রাতের নির্ঘুম স্মৃতি… এত চিঠি…সবকিছু মিলিয়ে এই মুহূর্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এরপর সে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠল। প্রতিটা ধাপের সঙ্গে তার শ্বাস ভারী হয়ে উঠছিল।

দরজার সামনে গিয়ে সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।তারপর খুব আস্তে দরজায় কড়া নাড়ল। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো শব্দ এল না। আবার কড়া নাড়তেই খুব ধীর পায়ের আওয়াজ শোনা গেল এবং দরজাটা আস্তে খুলল। আর তারপর অয়ন স্থির হয়ে গেল। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে নীলা। কিন্তু সত্যিই কি এ সেই নীলা? চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ, মুখ অনেক শুকিয়ে গেছে। তবুও সেই চোখ…সেই গভীর শান্ত চোখ দুটো এখনও ঠিক আগের মতোই আছে। নীলাও স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল। তার চোখ ধীরে ধীরে ভিজে উঠল এবং কিছু মুহূর্ত কেউ কোনো কথা বলতে পারল না। কারণ কিছু অনুভূতির ভাষা হয় না। অবশেষে নীলা খুব আস্তে বলল- তুমি এসেছ…।

এরপর অয়ন মৃদু হাসল এবং চোখের জল লুকিয়ে বলল- তুমি তো বলেছিলে খুঁজতে বের হতে না।নীলার ঠোঁটে হালকা কাঁপা হাসি ফুটল। তবুও তুমি এলে। কারণ আমি এখনও অপেক্ষা করতে জানি।এই কথাটা শুনে নীলার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। ঘরটা খুব ছোট ছিল। একটা টেবিল, কিছু বই, জানালার পাশে চেয়ার আর টেবিলের ওপর ছড়িয়ে ছিল অসংখ্য নীল খাম। অয়ন ধীরে জিজ্ঞেস করল- এগুলো? নীলা চুপচাপ খামগুলোর দিকে তাকাল- তোমাকে লেখা চিঠি।অয়ন তখন অবাক হয়ে বলল- এতগুলো? হ্যাঁ, অনেক চিঠি লিখেছি। কিন্তু সব পাঠাতে পারিনি।অয়ন ধীরে একটা খাম হাতে নিল এবং খামের ওপরে তার নাম লেখা। তার বুকের ভেতর কেমন মোচড় দিয়ে উঠল- কেন পাঠাওনি?.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png