বৃষ্টির দিনগুলো ( পর্ব ৭ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "বৃষ্টির দিনগুলো" গল্পের সপ্তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর দিনের পর দিন তার সঙ্গে কথা বলা, তার হাসি দেখা, তার রাগ, অভিমান, আনন্দ, দুঃখ- সবকিছুর মধ্যে দিয়ে জন্ম নেওয়া এক গভীর অনুভূতি ছিল এটি। কিন্তু ভালোবাসা বুঝে যাওয়া আর ভালোবাসা প্রকাশ করা এক জিনিস নয়।অনেক সময় মানুষ তার সবচেয়ে সত্য অনুভূতিটাই বলতে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। সেও সেই ভয়ের মধ্যেই ছিল, যদি মেঘলা তাকে শুধুই বন্ধু ভাবে? যদি তার কথার পর সবকিছু বদলে যায়? যদি এই সুন্দর সম্পর্কটাই হারিয়ে ফেলে?এই প্রশ্নগুলো তাকে প্রতিদিন তাড়া করছিল।একদিন বিকেলে তারা শহরের এক পুরোনো ক্যাফেতে বসেছিল, বাইরে তখন টানা বৃষ্টি পড়ছে।
কাঁচের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ছোট ছোট রেখা তৈরি করছে আর চারদিকে নরম আলো। মেঘলা কফির কাপ হাতে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। এরপর হঠাৎ সে বলল- জানো, আমি ছোটবেলায় একটা জিনিস খুব বিশ্বাস করতাম। এরপর সে জিজ্ঞাসা করলো- কী? মানুষ আসলে সবার জীবনে কোনো না কোনো কারণ নিয়ে আসে। এখনো বিশ্বাস করো? সে বললো-করি। তাহলে আমি তোমার জীবনে কেন এসেছি?প্রশ্নটা শুনে মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।তারপর ধীরে ধীরে বলল- হয়তো আমাকে কিছু শেখাতে। সে জিজ্ঞাসা করলো- কী শেখাতে? যে পৃথিবীতে এখনো ভালো মানুষ আছে। সে তখন হেসে বলল- আমি এত ভালো নই, সেটা তুমি ভাবো।
আর তুমি? আমি জানি, তার উত্তর শুনে বুকের ভেতরটা কেমন যেন উষ্ণ হয়ে উঠল। কিন্তু সেই মুহূর্তেও সে তার নিজের মনের কথাটা বলতে পারল না। এদিকে সময় এগিয়ে যাচ্ছে, বর্ষা আরও গভীর হচ্ছে আর তাদের সম্পর্কও। এখন মেঘলা তার প্রতিদিনের অভ্যাস। সকালের প্রথম ভাবনা, রাতের শেষ স্মৃতি। কিন্তু এই সুখের মধ্যেই সে লক্ষ্য করতে শুরু করল- মেঘলা মাঝে মাঝে কেমন যেন বদলে যাচ্ছে। কখনও হঠাৎ চুপ হয়ে যায়, কখনও দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকে না।কখনও ফোন ধরলেও আগের মতো প্রাণখোলা কথা বলে না। প্রথমে ভেবেছিল পড়াশোনার চাপ, কিন্তু বিষয়টা তার চেয়েও বেশি কিছু ছিল।একদিন সে সরাসরি জিজ্ঞেস করল- তোমার কি কোনো সমস্যা হয়েছে? মেঘলা হাসল।
মেঘলা হেসে বললো- না। সে বললো- না, তুমি মিথ্যা বলছ। কেন? কারণ তোমাকে আমি চিনি। সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর বলল- সব প্রশ্নের উত্তর সবসময় দেওয়া যায় না। কথাটা শুনে তার অদ্ভুত অস্বস্তি হতে লাগলো। কিন্তু আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ, সেদিন সারাদিন আকাশ মেঘলা ছিল। বিকেলের দিকে মেঘলা তাকে ফোন করল, তার কণ্ঠস্বর অস্বাভাবিক শান্ত। এরপর বললো- দেখা করতে পারবে? অবশ্যই, তাহলে নদীর পাড়ে এসো। সে কোনো প্রশ্ন করেনি, শুধু চলে গেল। সন্ধ্যার একটু আগে সেখানে পৌঁছাল। নদীর জল ধূসর, আকাশে কালো মেঘ, বাতাসে বৃষ্টির গন্ধ। মেঘলা আগেই এসে বসে ছিল। আজ তাকে কেমন যেন অন্যরকম লাগছিল। অর্থাৎ চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ, মুখে সেই পরিচিত হাসি নেই।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





