নীল চিঠির প্রতীক্ষা ( পর্ব ৫ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "নীল চিঠির প্রতীক্ষা" গল্পের পঞ্চম পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো এরপরে সারারাত অয়ন ঘুমাতে পারেনি, জানালার বাইরে তখন নিঃশব্দ রাত। দূরে কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছিল এবং মাঝে মাঝে ঠান্ডা বাতাস ঘরের পর্দা উড়িয়ে দিচ্ছিল। অয়ন বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। তার মাথার মধ্যে বারবার একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল- নীলা কি সত্যিই ফিরে এসেছে? নাকি কোথাও থেকে শুধু তাকে দেখছে? আর যদি সত্যিই সে ফিরে এসে থাকে, তাহলে সামনে আসছে না কেন? ভোরের দিকে একটু চোখ লেগেছিল অয়নের। কিন্তু ঘুম ভাঙতেই সে আবার সেই কাগজটা হাতে নিল। তার মনে হচ্ছিল, কাগজটা শুধু একটা চিঠি নয়, বরং বহুদিনের অন্ধকারে হঠাৎ দেখা পাওয়া একফোঁটা আলো।
সেদিন লাইব্রেরিতে যাওয়ার সময়ও তার মন অদ্ভুতভাবে অস্থির ছিল। রাস্তার পাশে প্রতিটা মানুষকে তার নতুন করে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছিল। তার মনে হচ্ছিল, এই ভিড়ের মধ্যেই হয়তো কোথাও নীলা আছে, হয়তো খুব কাছেই।লাইব্রেরিতে পৌঁছে দরজা খুলতেই পুরোনো বইয়ের গন্ধটা নাকে এল, আর এই গন্ধের সঙ্গে অয়নের জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে।আর সেই স্মৃতির বড়ো একটা অংশ জুড়ে আছে নীলা। অয়ন ধীরে ধীরে টেবিল গুছিয়ে বসে পড়ল, কিন্তু আজ বইয়ে মন বসছিল না। তখন সে খেয়াল করল, জানালার ধারে একটা পুরোনো বই পড়ে আছে, কিন্তু এই বইটা আগে সেখানে ছিল না। অয়ন বইটা হাতে নিল এবং বইয়ের মলাটে লেখা ছিল- শেষের কবিতা। বইটার ভেতরের পাতাগুলো উল্টাতে উল্টাতে হঠাৎ একটা জায়গায় এসে সে থেমে গেল।
পাতার কোণ ভাঁজ করা, আর পাশে নীল কালিতে দাগ টানা একটা লাইন- মানুষের জীবনে কিছু সম্পর্কের কোনো নাম হয় না, তবুও তারা সবচেয়ে গভীর হয়ে থাকে। অয়নের বুকটা ধক করে উঠল। কারণ এই দাগ টানার অভ্যাসটা নীলার ছিল। সে যখন কোনো লাইন খুব পছন্দ করত, তখন পাশে ছোট্ট নীল দাগ টেনে রাখত। অয়ন তাড়াতাড়ি চারপাশে তাকাল, কিন্তু লাইব্রেরি ফাঁকা, কেউ নেই। তবুও তার মনে হচ্ছিল, কেউ যেন খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ তাকে নিঃশব্দে দেখছে। ঠিক তখনই দরজার বাইরে হালকা একটা শব্দ হলো।অয়ন দ্রুত বাইরে বেরিয়ে এল, কিন্তু বাইরে কেউ নেই। শুধু বাতাসে কৃষ্ণচূড়া গাছের পাতা দুলছে। তার বুকের মধ্যে অদ্ভুত কাঁপুনি হচ্ছিল। এতদিন পর হঠাৎ এসব কী হচ্ছে? কেন তার মনে হচ্ছে, নীলা খুব কাছেই আছে?
সারাদিন এই প্রশ্নগুলো তাকে তাড়া করে বেড়াল।বিকেলের দিকে লাইব্রেরিতে গ্রামের স্কুলশিক্ষক অনিরুদ্ধ বাবু এল। আর তিনি প্রায়ই বই নিতে আসেন। অয়নকে তখন অন্যমনস্ক দেখে সে বলল-কী ব্যাপার অয়ন? আজ তোমাকে খুব অস্থির লাগছে। অয়ন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল- স্যার, আপনি কি কখনও এমন কাউকে ভুলতে পারেননি, যে অনেক দূরে চলে গেছে? অনিরুদ্ধ বাবু মৃদু হেসে বলল- ভুলে যাওয়াটা খুব অদ্ভুত জিনিস। মানুষ আসলে কাউকে পুরোপুরি ভুলে যায় না, শুধু অভ্যাস করে নেয়। অয়ন ধীরে বলল- কিন্তু যদি সেই মানুষটা আবার ফিরে আসে? বৃদ্ধ শিক্ষক একটু অবাক হয়ে তাকাল এবং বললো- ফিরে আসা মানেই সব আগের মতো হয়ে যায় না, অয়ন। তবুও কি মানুষ অপেক্ষা করে?......
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





