তারানাথ তান্ত্রিক!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
বিভূতিভূষণ এবং তার ছেলে তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এর অমর সৃষ্টি তারানাথ তান্ত্রিক। তারানাথ তান্ত্রিক লেখা বিভূতিভূষণ শুরু করলেও শেষ করতে পারেনি। পরবর্তীতে উনার ছেলে সেটা শেষ করে। তারাদাস বাবার মতো অতো নামকরা লেখক না হতে পারলেও তিনি এই বিষয়ে বেশ দক্ষ। তারানাথ তান্ত্রিক বৃদ্ধ বয়সে কলকাতা থাকা শুরু করে। ঐসময় তার কাছে হাজির হয় কিশোরী এ গল্পকথক নিজে। তারানাথ ভালো শ্রোতা পেয়ে বেশ উৎফুল্ল হয়ে যায়। এবং নিজের জীবনের বহু ভয়ংকর অভিজ্ঞতা গল্প হিসেবে বলতে থাকে। তারানাথ যখন প্রথম কলকাতা আসে শেয়ার বাজারের উঠানামা এবং ঘোড়ার দৌড়ে কে জিতবে এসবের নিখুঁত প্রেডিকশন করে সবাইকে অবাক করে দেন। তখন তার বাড়ির সামনে পড়ে যেত অনেক বড় ব্যবসায়ীদের লাইন। তবে ধীরে ধীরে তার বিদ্যার ক্ষয় হয়। কারণ সে তার বিদ্যার সঠিক ব্যবহার করেনি।
কিশোরী এবং গল্পকথক যখন যেত তখনই তারানাথ তার জীবনের গল্প শোনাত। নিজের জীবনের ছোটবেলার কথা। তখন সে ভীষণ জ্বরে পড়েছিল। তারা দাদা নিজের জীবনের আত্মাহুতি দিয়ে জ্বরাসুর এর পূজা দিয়ে তাকে সুস্থ করে। অথবা শ্মশানের সেই বিখ্যাত হাকিমি সিদ্ধ যোগীনি মাতু পাগলি। মাতু পাগলি ছিল তারানাথের প্রথম গুরু। তার কাছ থেকে বেশ কিছু শিখতে পারে তারানাথ। তবে সেই মাতু পাগলি ছিল বেশ ভয়ংকর। তারানাথ জীবনে সাধুসঙ্গ করেছে বহুবার। তবে তার কপালে পুরোপুরি সন্যাসী হওয়া লেখা ছিল না। সে সন্যাসীর পথ ধরলেও বার বার তাকে ফিরে আসতে হয়েছিল সংসার জীবনে। তারানাথ তান্ত্রিকের আরাধ্য ছিল মধুসুন্দরী দেবী। এটা বেশ চমৎকার একটা ঘটনা তারানাথের জীবনের।
মধুসুন্দরী দেবীকে তারানাথ আরাধ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এছাড়া তারানাথ এর জীবনে অসংখ্য অভিজ্ঞতা হয়েছে। যেমন কালভৈরবের সাথে দেখা। বেতাল কে পরাজিত করা। এছাড়া অন্যতম সেরা গল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে দেবদর্শন, ব্রক্ষপিশাচ, আগুন এছাড়া অসংখ্য অসংখ্য গল্প। তারানাথের কাছে তার নিজের জীবনের গল্প বেশ রোমাঞ্চিত করে তুলতো কিশোরী এবং গল্পকথক কে। তাই তারা বার বার ফিরে যায় তার কাছে। তারানাথ পুরোপুরি সন্যাসী না হতে পারলেও বেশ কিছু বিদ্যা সে অর্জন করেছিল। কিন্তু নিজের প্রথম জীবনে সে সেটার সঠিক ব্যবহার না করায় সেইই শক্তি ক্রমেই হারিয়ে ফেলতে শুরু করে। তারানাথ তান্ত্রিক এক অসাধারণ সৃষ্টি।
যারা একটু ভুত অথবা হরর পছন্দ করেন তারা পড়তে পারেন। তবে এটা পুরোপুরি হরর সিরিজ না। তারানাথ তান্ত্রিক বইটা আমার কাছে বেশ দারুণ লেগেছে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটা সৃষ্টি এইটা। প্রথম প্রথম যখন শুরু করি আমার নিজেরও খুব একটা ভালো লাগছিল না। কিন্তু যতই এগিয়ে যেতে থাকি শেষ করার প্রতি একটা আগ্রহ তৈরি হয়ে যায়। তারানাথের মুখ থেকে গল্প শোনার জন্য আমিও যেন উন্মুখ হয়ে থাকতে শুরু করি। যাইহোক আপনারা চাইলে পড়তে পারেন। এক চমৎকার বই এটা। আমার বেশ পছন্দের। একেবারে গ্রাম্য ভূতের গল্প যেমন আছে। তেমনই আছে অন্যরকম কিছু অভিজ্ঞতা। যেগুলো সাধারণত শোনা যায় না। তারানাথ কীভাবে তার জীবনের এতোবছর কাটিয়েছে সেটাই যেন পুরো বইয়ে বলা হয়েছে। এবং জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে গল্প আকারে।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।



.png)



Daily task
https://x.com/i/status/2010258548065014192
https://x.com/i/status/2010258728319328605