রঙিন অহংকার
মানুষের জীবন আর হাওয়া ভরা বেলুনের ভেতরে খুব বেশি পার্থক্য নেই। একদিকে সামান্য দম আটকে গেলেই সবকিছুর অবসান, আরেকদিকে হাওয়া বেরিয়ে গেলেই নিঃশব্দে মিলিয়ে যায় তার অস্তিত্ব।
ফ্লাইওভারের নিচে ধূসর কংক্রিটের পিলারের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে এক বেলুন বিক্রেতা। তার হাতে রঙিন সুতোয় বাঁধা অসংখ্য বেলুন—লাল, নীল, হলুদ, সবুজ। বাতাসে দুলতে থাকা সেই বেলুনগুলো যেন ধুলো মাখা শহরের আকাশে ভাসতে থাকা ছোট ছোট স্বপ্ন।
হয়তো সে জানে—এই বেলুনগুলোর ভেতরে বন্দী বাতাসের মতোই মানুষের জীবনও কতটা নাজুক, কতটা ক্ষণস্থায়ী। আবার যারা প্রতিনিয়ত এই বেলুন কিনে নিয়ে যায়, তারাও অজান্তে যেন সেই একই সত্যকে ছুঁয়ে যায়।
প্রতিদিন সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে এক কৌতূহলী ছেলে। বিস্ময়ভরা চোখে সে দেখে—কিভাবে এক টুকরো ফাঁপা রঙিন রাবার ধীরে ধীরে ফুলে ওঠে, প্রাণ পায়, আর মুহূর্তেই কারও হাত ধরে অজানা পথে ভেসে যায়।
একদিন নিছক কৌতূহল আর শিশুসুলভ দুষ্টুমির টানে ছেলেটা হাতে থাকা সূচালো পিনটা আলতো করে ছুঁইয়ে দেয় একটি বেলুনের গায়ে। তারপরই যেন মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে রঙিন নীরবতা।
টপ… টপ… টপ…
একটার পর একটা বেলুন ফেটে যায়। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে হুলুস্থুল শব্দ, আর মুহূর্তেই হারিয়ে যায় তাদের রঙিন অহংকার।
ছেলেটা তখন হঠাৎ ভাবতে শুরু করে—
এই যে শহরের ভেতরে এত বর্ণিল মানুষ প্রতিনিয়ত গিজগিজ করছে, এদের জীবনও কি তবে ওই বেলুনগুলোর মতোই? সামান্য একটি আঘাতেই কি সব ফেটে যাবে? নাকি নিঃশব্দে, কারও চোখে না পড়েই, ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে তাদের দম?
শেষ পর্যন্ত তো দুটোই একই—ক্ষণস্থায়ী।
তবুও এই ক্ষণিক জীবনের ভেতর মানুষ এত অহংকার জমিয়ে রাখে কেন? এত দম্ভ, এত আত্মমগ্নতা কেন?
ব্যস্ত শহরের অন্তহীন ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা সেই কৌতূহলী ছেলেটা আজও এই সহজ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়ায়।
কিন্তু শহর বড় ব্যস্ত—এখানে প্রশ্নের চেয়ে শব্দ বেশি, আর উত্তরের চেয়ে মানুষের ভিড়।
আর হয়তো সেই কারণেই, এই শহরে বেলুন ফাটার শব্দ সবাই শুনতে পায়—
কিন্তু মানুষের নিঃশব্দ ভেঙে পড়া কেউ টের পায় না।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR





