মঙ্গল হোক।
বহুদিন পর উত্তপ্ত আত্মাটাকে যেন একটু নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করার সুযোগ হলো। এক্ষেত্রে অবশ্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই হয় বাল্যবন্ধুদের প্রতি।
বিষয়টা কাকতালীয়, নাকি অজান্তেই, নাকি নিয়তির কোনো অদৃশ্য আয়োজন—তা বলা কঠিন। তবে এটুকু নিশ্চিত, এর পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। বলা নেই, কওয়া নেই, হুট করেই এসে হাজির।
সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে অনেকটা বিধ্বস্ত হয়ে ছিলাম। ভেতরে ভেতরে অদৃশ্য ক্লান্তি যেন প্রতিনিয়ত গ্রাস করছিল। এমন সময়ে বাল্যবন্ধুদের সঙ্গটা, ঠিক নুয়ে পড়া গাছের গোড়ায় জল ঢেলে দেওয়ার মতোই।
কিসের ব্যথা, কিসের ক্লান্তি! নির্দ্বিধায় শরীর সটান করে এদিক-সেদিক পায়চারি, ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ে চুমুক দেওয়া , আর সঙ্গে খোশগল্প—সব মিলিয়ে সন্ধ্যাটা একদম জমে উঠেছিল।
বহমান জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত সত্যিই ভাগ্যের আশীর্বাদ । তবে এটাও সত্য, সুখকর সময়গুলো বড্ড বেশি সংক্ষিপ্ত । এই যে হঠাৎ দেখা, কিছুক্ষণ আড্ডা, হাসিঠাট্টা—আবার কবে এমন হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তবে এত অনিশ্চয়তার মধ্যেও, এই অল্প সময়ের রেশটুকু যাপিত জীবনের সঙ্গে লেপ্টেসেপ্টে থাকুক, আপাতত এটাই চাওয়া।
মঙ্গল হোক বাল্যবন্ধুদের।
