মনু মিয়া
গুনে গুনে সাত দিনের ছুটি, মনু মিয়ার মনে যেন প্রশান্তির ঝিলিক দিয়ে যাচ্ছে। এই যে গায়ে-গতরে এত খাটনি এই যান্ত্রিক শহরে, তা থেকে যেন কিছুটা হলেও পরিত্রাণের সুযোগ মিলেছে।
যেহেতু নাইট গার্ডের চাকরি, কোনো রকমে রাতভর ডিউটি করে এসে স্যাঁতসেঁতে ঘরটার বিছানায় শরীর এলিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে বরং ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে, মুঠোফোনটা টিপতে টিপতে সোজা বাড়িতে ফোন, জানিয়ে দিল সে ফিরছে।
অল্পস্বল্প কেনাকাটা বাড়ির সবার জন্যই করেছে, কেননা বেতন-বোনাস তো কয়েকদিন আগেই হয়েছে। শুধু ছুটিটা পেয়েছে গতদিন।নিদ্রাহীন ক্লান্ত শরীরটাতে যেন মনু মিয়ার কোনোভাবেই বিন্দুমাত্র ক্লান্তির ছাপ নেই। মাথায় শুধু বাড়ি ফেরার চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছে।
এমনিতেই বাড়তি টাকায় টিকিট কেনা, তার ভেতরে আসনসংকট, অনেকটা গাদাগাদি করেই বাসের মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে।
পুরুষ মানুষের আবার এটাই কি, সেটাই কি—শরীরে এত আরাম দিলে চলে নাকি! খানিকটা পথ বাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে, পরে আবার পাশের সিটে হেলান দিয়ে—এইভাবে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে দিয়েছে বাসের ভেতরে।
মনু মিয়ার মতো অসংখ্য চোখ যেন একই স্বপ্নে বিভোর—কখন ফুরাবে পথ। বাস ঠিকই এগিয়ে যায়, কখনো বাড়তি গতিতে কিংবা ভিড়ের মাঝে থেমে থেমে।
লম্বা ছুটিতে পুরো শহরটা যেন ফাঁকা হয়ে গিয়েছে, সব প্রাণগুলো যেন মরিয়া হয়ে ছুটছে আপন গন্তব্যে। কিলবিল করছে শুধু সড়কে গাড়িগুলো, কোথাও যেন থামার অবকাশ নেই।
তবে এবার মনু মিয়ার গাড়ি থেমেছে, কিন্তু তা আর বাড়ির গন্তব্যে নয়; বরং বাড়তি গতির কারণে সড়কপথের বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে।
জীবন কত অনিশ্চিত, তাই না! মুহূর্তেই কতগুলো প্রাণ ঝরে গেল—সেই ঝরে যাওয়া তালিকায় অবশ্য মনু মিয়াও আছে। তার চাকরি তাকে ঠিকই ছুটি দিয়েছিল, কিন্তু উৎসবের আমেজের সময়কার সড়কপথের বাস্তব চিত্র, তার প্রাণটা কেড়ে নিয়েই ক্ষান্ত হল।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR






Brother Shuvo, reading the story of 'Monu Mia' made my heart heavy. You've poignantly depicted how the joy of returning home during festival holidays can instantly turn into tragedy. Thanks for skillfully highlighting the harsh reality of our roads.