বৈচিত্র্যময়

in আমার বাংলা ব্লগ3 days ago

27913.jpg
source

একটা সময় সব ছিল— বাবা-মা, বড় ভাই, আমি আর ছোট ভাই। এখনো যে নেই, তা বললে ভুল হবে, তবে দূরত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। দমকা ঝড় যেমন বাবা-মার মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়েছিল, তেমনটা সর্বোচ্চ যত্নে আগলে রেখেছিল মা।

ঝড় থামে, তবে শেষ হয় না। ঘূর্ণায়মান প্রক্রিয়ায় কোনো না কোনোভাবে আবারও ঝড় এসেই যায়।
দোষ-ত্রুটির হিসাব-নিকাশের খাতা খুলে নিয়ে বসিনি, বরং দেখছি নিয়তি কিভাবে জটলা পাকিয়েছে।

ওই যে দূরত্ব বাড়া শুরু হলো, তা যেন আর কোনোভাবেই কমার অবকাশ নেই। এখন যা আছে, তা অনেকটা ছিটেফোঁটা সম্প্রীতি। আন্তরিকতাও সেভাবে আর অনুভব করা যায় না। একদম সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়নি, তবে সম্পর্কে গুরুত্ব বড্ড কমে গেছে।

মাঝে মাঝেই বুকের বামপাশটা খচখচ করে। রাতবিরাতে মাকে ফোন দিই, নিশ্চুপভাবে কিছুটা কণ্ঠ শোনার চেষ্টা করি, তারপর ওই তো— ফোন কাটা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।

আর বাবা, সে তো দূরত্ব তৈরির কারিগর। এখন আর সেভাবে অভিমান-অভিযোগ নেই। একটা সময়ের পরে আসলে অভিমান-অভিযোগ থেকেও লাভ হয় না, বরং চুপচাপ যত নীরবতা পালন করা যায়, ততই শ্রেয়।

প্রায়শই কারণে-অকারণে সবার সঙ্গে ছায়ার মতো থাকতে ইচ্ছে করে, সবাইকে খুব করে কাছে পেতে ইচ্ছে করে। তবে বাস্তবতার রাস্তা বড্ড উল্টো— চাইলেও কি আর সব ইচ্ছে পূরণ হয়?

অপূর্ণতা যেখানে দিবাসত্য, সেখানে কিছু কিছু ইচ্ছে এমনিতেই ফিকে হয়ে যায়।

এই যে এত দূরত্ব কিংবা গুরুত্ব কমে যাওয়া— এসব না ঘটলেও পারত। তাহলে হয়তো জীবনটাকে আরেকটু তরতরভাবে গোছানো দেখা যেত। খুব কি বেশি ক্ষতি হতো তাহলে?

কাছে থেকেও দূরে থাকার যে কী জ্বালা, তা হয়তো সেই মানুষটিই বোঝে, যে এর ভেতর দিয়ে যায়।

আজ ঈদ। গতরাতেও সেভাবে ঘুম হয়নি। ভেতরটা বড্ড খচখচ করছে। ব্যাকুলতার ভার ভীষণ পীড়াদায়ক। আজ একটু যন্ত্রণা কমলে মন্দ হতো না!

আহ্ জীবন, তুমি সত্যিই বৈচিত্র্যময়।