এ বার্তা শুধু লেখকের জন্য।

in আমার বাংলা ব্লগ3 hours ago

28165.jpg
source

প্রিয় লেখক,

আমি আপনার পিছনে আঠার মতো লেগে থাকার পাঠক, কেন লেগে থাকি এ প্রশ্নের উত্তর নেই, উত্তর কখনো খুঁজতে যাইনি।

সেদিন মুঠোফোনে যখন কথা হয়েছিল, সেদিনই আমার তৃপ্তি মিটে ছিল। যেটা পাঠক আর লেখক সম্পর্কের মধ্যে হয়, এজন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু তারপরেও আপনি আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রাখতে বলেছিলেন, এটা আমার জন্য বাড়তি পাওনা ছিল।

তবে সেই যোগাযোগ করতে গিয়ে যে ব্যর্থ হতে হবে, এমনটা মোটেও চিন্তা করিনি। এখানেই আসলে আমার প্রধান সমস্যাটা হয়েছিল, কেননা আমি ভুলে গিয়েছিলাম, ভার্চুয়াল জগতকে উপেক্ষা করে যখন বাস্তবিক জীবনে যোগাযোগ করার মতো অবস্থা তৈরি হয়, তখন সেটা খুব একটা তৃপ্তিদায়ক হয় না।

তাছাড়া প্রত্যেকের ব্যক্তি জীবন থাকে, এটাও আমি ভুলতে বসেছিলাম।

এটা সত্য, গত কয়েকদিনে আমি আপনাকে দুবার ফোন করেছিলাম এবং হোয়াটসঅ্যাপে কিছু বার্তা পাঠিয়েছিলাম, সেটা আপনার চোখে আদৌ পড়েছে কিনা, তা নিয়েও ভীষণ চিন্তিত।

বাস্তবিক জীবনে যোগাযোগ রক্ষা করা আসলেই কঠিন, আমি তারপরেও আপনাকে ফোন করার জন্য কিছুটা লজ্জিত ও দুঃখিত।

তবে আপনি যেমনটা ক্ষুরধার চিন্তাভাবনা করেন আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে, তেমনটা যৌক্তিক ভাবনা আমার মাথাতেও উদয় হয়, সেই দু-চারটা কথা বলার জন্যই আপনাকে ফোন দিয়েছিলাম। এর বাইরে আর কিছু নয়।

মফস্বল-তৃণমূল আপনি নিশ্চয়ই বোঝেন, তবে কাদা, জল, মাটি মাখা ঘোর গ্রাম, যার পুরো বেষ্টনীতেই ওতপ্রোতভাবে ঝুট-ঝামেলা লেগেই আছে, সেটা কতটুকু বোঝেন তা নিয়ে আমি সংশয় প্রকাশ করছি।

সবাই সবকিছু সরাসরি প্রকাশ করতে পারে না, সবার সীমা একরকম না কিংবা পরিস্থিতিও জটিলতাসম্পন্ন থাকে।

তবে অনেকে নীরবে নিভৃতেই, প্রত্যাশাহীনভাবে দেশের কল্যাণ হোক এটা প্রতিনিয়তই চায়।

আমি শুধু আপনাকে ফোন করেছিলাম, আমার কথাগুলো আপনাকে বলার জন্য, যে চিন্তা আমার মাথায় উদয় হয়েছে সেটা আপনার কানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য, কেননা কথাগুলো একদম অযৌক্তিক না।

যাইহোক, ভার্চুয়াল জগতের সম্পর্ক পূর্বের মতোই প্রাণবন্ত থাকবে, কেননা আমি আপনার একজন পুরোনো পাঠক।

তবে বাস্তবিক জীবনের যোগাযোগ কতটুকু সচল রাখবেন, এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আপনার উপর। কেননা, যোগাযোগ রাখার প্রস্তাব আপনি আমাকে দিয়েছিলেন।

তবে এই ছোট্ট মস্তিষ্কে উদয় হওয়া ভাবনাচিন্তা গুলো আপনাকে জানানো অতীব প্রয়োজন।