আঠারো বছর পর।

in আমার বাংলা ব্লগ2 days ago

30346.jpg
source

চোখের পলকে মানুষ যেখানে মানুষকে ভুলে যায়, সেখানে আঠারো বছর আগে কার সঙ্গে, কবে, কী কথা হয়েছিল—সেটাও আজ পর্যন্ত কেউ মনে রেখেছে, এমনকি কোন শহরের কোন প্রান্তে থাকতাম, সেটাও অনায়াসেই শুনতে হলো।

পরিপ্রেক্ষিতে নিজেও কিছু কথা বলতে সংকোচবোধ করিনি। মস্তিষ্কের ওপর হালকা চাপ দিয়ে টেনে বের করে আনলাম আঠারো বছর আগের ফেলে আসা জীবনের দৃশ্যপট।

স্মৃতিগুলো আজও ভীষণ অমলিন; কোথাও একটুও ধুলো জমেনি। সম্পর্কটা যেহেতু বন্ধুত্বের, তাই হয়তো এত যত্ন করেই সবকিছু মনে রাখা গেছে।

প্রয়োজনীয় বিষয়েই বার্তা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথোপকথন আর বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; পৌঁছে গিয়েছিল সরাসরি মুঠোফোনের আলাপে।

নিজের স্বাধীনচেতা স্বভাবের কারণে শুরুতেই কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলাম। বন্ধুত্বের সম্পর্ক হওয়া সত্ত্বেও বন্ধুর খোঁজখবর না নিয়েই, নিজের প্রয়োজনের কথাই আগে বলতে শুরু করেছিলাম। তাছাড়া আঠারো বছর ধরে যেখানে দেখা নেই, কথা নেই, সেখানে সংক্ষিপ্তভাবে কেবল বেঁচে থাকার খবরটুকুই জানানো হলো; অনেক কথাই আর বলা হয়েই ওঠেনি।

তবে ওর সম্পর্কে অল্প কথায় যতটুকু জানতে পেরেছি, তাতে বুঝলাম—সংসার, সন্তান আর চাকরির ব্যস্ততার চাপ সামলেও জীবনের ধারাবাহিকতায় ও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই আছে।

আর এদিকে আমি—লেখালেখি চর্চা আর প্রান্তিক মানুষের জীবনকথা শুনতেই দিন পার করে দিচ্ছি।

যাই হোক, তারপরও বেঁচে আছি—এটাই বা কম কী!

বাল্যবন্ধুরা ভালো থাকুক, নিজেদের আপন ভুবনে, নিজ নিজ অবস্থানে।

দূর থেকে শুভেচ্ছা রইল।