নষ্ট সিস্টেম
১৮ বছর পরে হঠাৎ করেই এক বন্ধুর কথা মনে পড়ছিল। মাধ্যমিকে পড়ার সময় ওর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। তারপর জীবনের নানা ছন্দপতনে পথ বদলেছে বহুবার।
বলতে গেলে শৈশবের প্রায় সব বন্ধুর সঙ্গেই দূরত্ব বেড়েছে, যোগাযোগও কমে গেছে। সংসারের চক্রে পড়ে সবাই যে যার মতো নিজের জীবনের পথ খোঁজায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন আর চাইলেও সেভাবে কারও সঙ্গে যোগাযোগ বা কথাবার্তা হয় না।
গতকাল বিকেলে যখন ঘুম থেকে উঠে সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিড স্ক্রল করছিলাম। তখন হঠাৎই চোখে পড়ল সেই বাল্যবন্ধুর সংবাদ। মুহূর্তেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
কর্পোরেট কোম্পানিতে ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিল সে। কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। ৩৫ বছরের টগবগে যুবক—এমন অপ্রত্যাশিত বিযোগ সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন। সংসারে দুই সন্তান ও সহধর্মিনী—সব মিলিয়ে ছিল সুখের সংসার। এক মুহূর্তেই সব তছনছ হয়ে গেল।
দিন যাচ্ছে, সবকিছু আধুনিক হচ্ছে; কিন্তু সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেন সেই আগের মতোই রয়ে গেছে। রাস্তায় বের হলে মনে হয়, যেন মৃত্যু হাতে নিয়েই ঘুরছি। কবে হবে এসবের অবসান? আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে কর্তৃপক্ষের? আজ হয়তো আমার বন্ধু গেল, কাল যে আপনার নিকটস্থ কেউ চলে যাবে না—তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে?
ব্যথিত হই, আর চিৎকার করে সিস্টেমকে ধিক্কার জানাতে ইচ্ছা করে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness

OR






খুবই চমৎকার এবং বাস্তবসম্মত একটি লেখা। আসলে জীবনের প্রতিটি মোড়ে আমাদের পথ বদলে যায়, আর সংসারের চাপে পড়ে আমরা হারিয়ে ফেলি সেই পুরোনো বন্ধুত্বগুলো,, আপনার স্মৃতিচারণটি পড়ে নিজের অজান্তেই পুরোনো দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেল। শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ,