পুরনো কাঠের দরজা
Image Created by OpenAI
একটি পুরনো বাড়ির সামনে দাঁড়ালে অনেক সময় প্রথমেই চোখে পড়ে তার কাঠের দরজা। সময়ের ছাপ পড়া সেই দরজার গায়ে থাকা সূক্ষ্ম নকশা, ফুল-লতা, পাখি, জ্যামিতিক আকৃতি কিংবা পৌরাণিক প্রতিকৃতি যেন নীরবে বলে যায় বহু বছরের পুরনো এক গল্প। আধুনিক স্থাপত্যে যেখানে কাচ, লোহা ও কংক্রিটের আধিপত্য। সেখানে পুরনো কাঠের দরজা আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় এমন এক সময়ে, যখন স্থাপত্যের সৌন্দর্য তৈরি হতো মানুষের হাতের নিখুঁত কারুকাজে। আগেকার দিনের বাড়িতে দরজা ছিল শুধুমাত্র ঘরে প্রবেশ বা নিরাপত্তার মাধ্যম নয়। একটি বাড়ির সামাজিক অবস্থান, রুচি, সংস্কৃতি এবং শিল্পবোধেরও পরিচয় বহন করত দরজা।
বড় জমিদার বাড়ি, পুরনো রাজবাড়ি, মন্দির, প্রাচীন বণিক পরিবারের বাড়ি কিংবা গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনায় ব্যবহৃত কাঠের দরজাগুলোতে তাই দেখা যেত বিশেষ ধরনের নকশা। দরজার দুই পাশে কাঠের স্তম্ভ, উপরের অংশে অলংকরণ এবং মাঝখানে জটিল খোদাই-সব মিলিয়ে একটি দরজা নিজেই হয়ে উঠত শিল্পকর্ম। বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাড়িগুলোর স্থাপত্যে কাঠের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জমিদারবাড়ি, বনেদি পরিবারের বাড়ি এবং পুরনো শহুরে বাড়িগুলোতে ভারী কাঠের দরজা ছিল স্থাপত্যের অন্যতম আকর্ষণ।পুরনো কাঠের দরজা আসলে সময়ের একটি জীবন্ত অধ্যায়।
