অন্যের চোখে নিজের মূল্য খোঁজার ভুল
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় একটা ভুল আমরা অনেক সময় করি, সেটা হলো আমরা নিজেদের মূল্য অন্যের চোখ দিয়ে বিচার করতে শিখে ফেলি। আমি নিজেও বহুবার এই ভুলটা করেছি। এমনও হয়েছে, কারো একটা কথায় মনে হয়েছে আমি ভালো কিছু না, আবার কারো প্রশংসায় মনে হয়েছে আমি অনেক কিছু। অথচ বাস্তবতা হলো আমি কে, আমার কতটা মূল্য, সেটা আমার নিজের চোখেই সবচেয়ে স্পষ্ট হওয়া উচিত ছিল।
আসলে আমাদের সমাজটাই এমনভাবে তৈরি, যেখানে অন্যের মতামতকে আমরা অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে শিখেছি। ছোটবেলা থেকেই শুনেছি, লোকে কী বলবে, ও যদি এমন ভাবে, তোমার দ্বারা এটা হবে না।এইসব কথাগুলোই আমাদের নিজের ওপর বিশ্বাস হারাতে বাধ্য করেছে। অথচ সত্যি বলতে, লোকে কে? তারা কি আমাদের জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত জানে? তারা কি বুঝে আমাদের ভেতরের যুদ্ধগুলো? না, বোঝে না। তবু আমরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে নিজের জীবনের মানদণ্ড বানিয়ে ফেলি।
আমি নিজে যখন নিজের মূল্য অন্যের চোখে খুঁজে পেতাম, তখন একটা সময়ের পর নিজেকে খুব ছোট আর দুর্বল মনে হতো। মনে হতো, আমি কিছুই পারি না। অথচ যখন আমি একটু করে নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করলাম, নিজের ভালো-মন্দ বুঝতে চেষ্টা করলাম, তখন ধীরে ধীরে আমি বুঝলাম, মূল্য ঠিক আমার ভিতরেই আছে, বাইরের কেউ সেটা ঠিক করে দিতে পারে না।
আমরা যখন নিজের ওপর বিশ্বাস রাখি না, তখন অন্য কেউ যদি আমাদের একটু অবহেলা করে, সেটা আমাদের পুরোটা ভেঙে দেয়। আর এই ভাঙার কারণ একটাই।আমরা নিজেদের সঠিকভাবে চিনতে শিখিনি। আমাদের জীবনে যেটা সবচেয়ে দরকার, সেটা হলো নিজের কাছেই নিজের মূল্যটা বোঝা, নিজের ভালোলাগা, নিজের চাওয়া, নিজের সীমাবদ্ধতা সবকিছু মেনে নেওয়া।
তাই আমি এখন আর নিজের মান কিংবা গুরুত্ব অন্য কারো চোখ দিয়ে বিচার করি না। কারণ আমি জানি, আমি কতটা কষ্ট পেয়েছি, আমি জানি, আমি কতটা চেষ্টা করেছি, আমি জানি, আমি কোথায় কোথায় নিজেকে হারিয়ে আবার খুঁজে পেয়েছি। আর এই জানাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কী বলল, কে কী ভাবল, সেটা একদমই গৌণ।

