মানুষ যত বড় হয় নিজের অনুভূতির কথা বলা ততোই কঠিন হয়ে যায়
আরেকটা কারণ হলো দায়িত্ব। ছোটবেলায় ছিল না কোনো চাপ, কোনো টেনশন। কিন্তু বড় হওয়ার পর এত কিছু নিয়ে ভাবতে হয় যে নিজের অনুভূতির কথা বলার সময়ই পাওয়া যায় না। সারাক্ষণ কাজ, দায়িত্ব, সংসার, চারপাশের হাজার টা চিন্তা। মনের কথা বলা যেন বিলাসিতা হয়ে যায়। মনে হয় সময় নেই, সুযোগ নেই। আবার যাদের বলার মতো মানুষ ছিল তারাও ধীরে ধীরে দূরে চলে যায়। ছোটবেলার বন্ধুদের সাথেও দূরত্ব তৈরি হয়। তখন মনের কথা বলার জায়গা আর থাকে না।অনেক সময় নিজের অনুভূতির কথা বললে মানুষ দুর্বল ভাববে এই চিন্তাটাও ভেতরে কাজ করে। বড় হয়ে সবাই শেখায় শক্ত হতে হবে, অনুভূতি লুকাতে হবে, নিজেকে সব সময় সামলে রাখতে হবে। এই ভাবনা থেকেই মানুষ নিজের ভেতরের কথাগুলো বলতে চায় না। মনে হয় বললে সবাই দুর্বল ভাববে, সহজ টার্গেট বানিয়ে ফেলবে। তাই মন খারাপ হলেও চুপ করে থাকা শিখে ফেলি।
আবার এমনও হয়, বড় হয়ে গেলে সবাই নিজের সমস্যায় এত ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে কারও কাছে নিজের অনুভূতির কথা বললে হয়তো সে বিরক্ত হয়ে যাবে। অনেকে ভাবে, নিজের কথা বললেই হয়তো অন্যের ওপর চাপ হয়ে যাবে। এই কারণেও মানুষ চুপ করে থাকে। মনে হয় নিজের কষ্ট নিজের মধ্যেই রেখে দিন কাটিয়ে দেওয়া ভালো।সবশেষে বড় হওয়ার একটা বাস্তবতা হলো সবাইকে মানিয়ে নিতে হয়। মনের কথা সব সময় বললে অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায়। অনেক জায়গায় সমস্যা তৈরি হয়। তাই মানুষ সময়ের সাথে সাথে মুখ বন্ধ করে দেয়। সহজে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে না। মনে হয় সব কিছু মেনে নিয়েই চলতে হবে। নিজের অনুভূতির কথা বললেই ঝামেলা হবে। তাই মন খারাপ হলেও হাসতে হয়, চোখ ভিজলেও মুখে শান্ত থাকার অভিনয় করতে হয়।এই কারণেই মনে হয় মানুষ যত বড় হয় নিজের অনুভূতির কথা বলাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে যায়। মনে হলেও বলা হয় না। কষ্ট হলেও বলা হয় না। সবকিছু ভেতরেই আটকে রাখতে হয়।

