এসো ছবি আঁকি – Tutorial পর্ব ১
নমস্কার বন্ধুরা,
আঁকার জগতে প্রথম পদক্ষেপ
ছবি আঁকা শুধু একটি শিল্প নয়,এটি মানুষের অনুভূতি, কল্পনা এবং চিন্তাকে প্রকাশ করার একটি অসাধারণ মাধ্যম।একটি সাধারণ রেখা থেকে শুরু করে বিশাল কোনো দৃশ্য,মানুষের মুখ, প্রকৃতি কিংবা কল্পনার জগৎ— সবকিছুই ধীরে ধীরে কাগজে জীবন্ত হয়ে ওঠে।অনেকেই মনে করেন ছবি আঁকতে জন্মগত প্রতিভা লাগে,কিন্তু বাস্তবে নিয়মিত অনুশীলন, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং ধৈর্য থাকলে যে কেউ ধীরে ধীরে ভালো আঁকতে শিখতে পারে।এই টিউটোরিয়াল সিরিজে আমরা একেবারে শুরুর ধাপ থেকে ধাপে ধাপে আঁকা শেখার চেষ্টা করবো।
ছবি আঁকার শুরুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা তৈরি করা।একজন শিল্পী শুধু চোখ দিয়ে দেখে না,সে প্রতিটি জিনিসের আকার, আলো, ছায়া, দূরত্ব এবং অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করে।ধরো তোমার সামনে একটি কাপ রাখা আছে।সাধারণ মানুষ সেটিকে শুধু কাপ হিসেবে দেখে,কিন্তু একজন আঁকিয়ে লক্ষ্য করে কাপটির গোলাকার মুখ, হ্যান্ডেলের বাঁক,আলো পড়ার জায়গা এবং নিচে তৈরি হওয়া ছায়া।এই পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাই ধীরে ধীরে ভালো আঁকার ভিত্তি তৈরি করে।
ছবি আঁকার জন্য প্রথমদিকে খুব দামী উপকরণ দরকার হয় না।একটি সাধারণ HB পেন্সিল, ইরেজার, শার্পনার এবং সাদা কাগজ দিয়েই শুরু করা যায়।HB পেন্সিল সাধারণত হালকা ও মাঝারি ধরনের লাইন তৈরির জন্য উপযুক্ত।পরে যখন shading বা গভীর ছায়া শেখা হবে তখন 2B, 4B বা 6B পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে।শুরুতে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত হাতকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং রেখা আঁকার অভ্যাস তৈরি করা।
আঁকার প্রথম ধাপে বিভিন্ন ধরনের রেখা অনুশীলন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।সোজা লাইন, বাঁকা লাইন, বৃত্ত, চতুর্ভুজ, ত্রিভুজ এবং ডিম্বাকার আকৃতি বারবার আঁকার মাধ্যমে হাতের নিয়ন্ত্রণ বাড়ে।প্রায় সব জটিল ছবিই মূলত কিছু সাধারণ shape বা আকৃতির সমন্বয়ে তৈরি হয়।যেমন মানুষের মুখ একটি ডিম্বাকার shape থেকে শুরু করা যায়, আবার বাড়ি আঁকতে আয়তক্ষেত্র ও ত্রিভুজ ব্যবহার করা হয়।তাই basic shape শেখা মানে ভবিষ্যতের বড় বড় আঁকার ভিত্তি তৈরি করা।
ছবি আঁকার সময় শুরুতেই গাঢ় লাইন টানা উচিত নয়।প্রথমে হালকা রেখা দিয়ে কাঠামো তৈরি করতে হয়।কারণ ভুল হলে সহজে মুছে ফেলা যায়।অনেক নতুন আঁকিয়ে প্রথমেই গাঢ় দাগ টেনে ফেলে,ফলে ভুল সংশোধন করা কঠিন হয়ে যায়।একজন দক্ষ শিল্পী সাধারণত ধীরে ধীরে sketch তৈরি করে, তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী লাইন গাঢ় করে।
আলো এবং ছায়া বোঝা আঁকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।যখন কোনো বস্তুর উপর আলো পড়ে তখন একটি অংশ উজ্জ্বল হয় এবং অন্য অংশে ছায়া তৈরি হয়।এই shadow বা shading-ই ছবিকে বাস্তব অনুভূতি দেয়।উদাহরণ হিসেবে একটি গোল বল আঁকলে শুধু outline করলেই সেটি সমতল দেখাবে,কিন্তু shading যোগ করলে সেটি গোল এবং বাস্তব মনে হবে। তাই ভবিষ্যতে realistic drawing শেখার জন্য আলো-ছায়ার ধারণা খুব জরুরি।
নতুনদের জন্য প্রতিদিন ছোট ছোট sketch করা অত্যন্ত উপকারী।যেমন একটি আপেল, কাপ, বই, ফুল, মোবাইল বা চেয়ার দেখে আঁকার চেষ্টা করা যেতে পারে।এতে হাতের অভ্যাস যেমন বাড়ে, তেমনি পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাও শক্তিশালী হয়।প্রথমদিকে ছবি নিখুঁত না হলেও হতাশ হওয়া উচিত নয়।কারণ প্রতিটি ভালো শিল্পীর শুরুতেই ভুল ছিল।নিয়মিত practice-ই একজনকে ধীরে ধীরে উন্নত করে তোলে।
অনেক সময় reference দেখে আঁকা নিয়ে অনেকে দ্বিধায় থাকে। কিন্তু বাস্তবে reference ব্যবহার করা শেখার খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ।প্রকৃতি, ছবি বা বাস্তব জিনিস দেখে আঁকলে shape, proportion এবং shadow সম্পর্কে বাস্তব ধারণা তৈরি হয়।পরবর্তীতে সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কল্পনা থেকে আঁকার ক্ষমতা তৈরি হয়।
এই প্রথম পর্বের মূল লক্ষ্য হলো আঁকার প্রতি ভয় দূর করা এবং basic observation ও line control তৈরি করা।পরবর্তী পর্বে আমরা বিস্তারিতভাবে sketching technique, shading method এবং simple object drawing শেখার চেষ্টা করবো যাতে ধীরে ধীরে বাস্তবধর্মী ছবি আঁকার ভিত্তি তৈরি হয়।
VOTE @bangla.witness as witness

OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |




Congratulations, your post has been upvoted by @nixiee with a 8.860164985283372 % upvote Vote may not be displayed on Steemit due to the current Steemit API issue, but there is a normal upvote record in the blockchain data, so don't worry.